ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনকালীন সরকারে বাইরের বা টেকনোক্রেট কেউ আসবে না। অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে বাইরের কেউ আসবে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আকারটা ছোট হবে। গতবারের মতো হবে। তবে জাতীয় পার্টি তাদের আরো দুএকজনকে অন্তর্ভুক্ত করতে অনুরোধ করেছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি কতটা বিবেচনা করবেন। তবে যেখানে সরকারের পরিধী কমানো হচ্ছে, সেখানে বাড়ানো হবে কিনা সেটা তার এখতিয়ার। এগুলো আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে আছে। নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরের মাঝামাঝি হতে পারে।’
আগামী নির্বাচন পূর্বের মতো জাতীয় পার্টিকে নিয়েই হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বলেছে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তারা তিনশ আসনে নির্বাচন করবে। বিএনপি আসলে আসন বণ্টন, সমঝোতা ইত্যাদি তখন হবে। সবই নির্ভর করছে মেরুকরণ কীভাবে হচ্ছে। কাদের বলেন, ‘ জোট শরীকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।’
দলের নমিনেশন কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অক্টোবরে শিডিউল হবে। অক্টোবরেই আমাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।
কাদের বলেন, ‘নবীন যারা তারা যদি জনপ্রিয়তাই এগিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু গতবার আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, এরমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, যারা জনগণের কাছে তাদের বা তাদের আশপাশের লোকের জন্য অসুবিধায় পড়েছেন, তাদের মধ্যে নবীন কম। কে কতটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সেটাই তার নমিনেশন পাওয়ার পূর্বশর্ত।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রশ্নটা সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল না। প্রশ্নটা হচ্ছে বিশেষায়িত। বেগম জিয়ার চিকিৎসা উন্নতমানের হচ্ছে কি না। বিশেষায়িত হচ্ছে কিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল বিশেষায়িত হাসপাতাল। তার দরকার চিকিৎসা। কোন হাসপাতাল সেটা তো বিষয় না। উন্নত চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব, সেখানে যেতে আপত্তি কোথায়। আসলে আপত্তিটা হচ্ছে, বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চাইতেও তার অসুস্থতাকে নিয়ে রাজনীতি করছে। ইস্যু বানাতে চাইছে। এখানে পলিটিক্স হচ্ছে। এটাকে ইস্যু বানিয়ে তারা আন্দোলন করতে চাইছে। খালেদা জিয়া গ্রেফতারের সময় তারা আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, পারেনি। এই কারণে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়টাকে নিয়ে তারা রাজনীতি করছেন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেছেন খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আষাড়ে তর্জন গর্জনই সার। দশ বছরে হয় নাই, দুই মাসেই কেমনে হবে। পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।’
উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন। এটা কোটা আন্দোলনেও লক্ষ্য করেছি, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও দেখেছি। মিডিয়ার একটা অংশ বিএনপির আন্দোলন মাঠে না থাকলেও তারা এই আন্দোলনটা করছে। অথবা আন্দোলনের উসকানি দিচ্ছে।
সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কিন্তু এখন ছুটির দিন ছাড়া বড় সমাবেশ করি না। বিএনপি একটা সভাও ছুটির দিনে করেনি। পল্টনে বিএনপি যে সমাবেশ করেছে, তিনটা রাস্তা বন্ধ করে। কত লক্ষ লোকে সাফার করতে হয়েছে। আমি মিডিয়ার বন্ধুদের বলি, আমি মিডিয়ার শত্রু নই। এখানে দুর্ভোগ আপনারা কিন্তু বলেননি। যাত্রী হলো ৬৫০ জন সেখানে দুর্ভোগ। আর রাস্তা বন্ধ করে বিএনপির যে সমাবেশ সেখানে কি দুর্ভোগ হয়নি? বিএনপি নিয়ম মানে না। তারা ডেকেছে মানববন্ধন। এটা কি মানববন্ধন ছিল প্রেস ক্লাবের সামনে? রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করেছে, এটা কেন বলেন না। এটা দায়িত্বশীলতা নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ