ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়ার রিটের শুনানি পেছাল

স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতির মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশের বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর নট টু ডে (শুনানি আজ নয়) আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার আবেদনটি হাইকোটের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে শুনানির প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে হাইকোর্টে সময় চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। এরপর মামলাটি গতকাল মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় আসলে শুনানি না করে পুনরায় সময় নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
পরে কায়সার কামাল বলেন, সরকার বেআইনিভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখেছেন। তিনি সেখানে বিনা চিকিৎসায় রয়েছেন। চিকিৎসা পাওয়া তার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। সেই অধিকার থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকার তাকে বারবার বঞ্চিত করছে। এর প্রতিকার চেয়ে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করি।
তিনি বলেন, ‘‘সেই রিট আবেদনটি আজ (মঙ্গলবার) হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ছিল। আমরা আদালতকে জানিয়েছি, আজকের জন্য আমরা আবেদনটি পরিচালনা করতে চাই না। তখন আদালত এর কারণ জানতে চাইলেন। তখন সরকার পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু উন্নতি (আপডেট) হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।’ তখন আমি বললাম, বিএনপির প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে পাঁচজন ডাক্তারের নাম চাওয়া হয়েছিল। সেই তালিকাও দেওয়া হয়েছে।’’
কায়সার বলেন, যেহেতু সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই আমরা আশা করছি অন্যান্য অধিকার ক্ষুণœ হলেও উনাকে সরকার চিকিৎসা দেবেন। সেই প্রত্যাশায় সরকারের পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং সময় নিচ্ছি। তবে আদালতকে জানিয়েছি, সরকার যদি খালেদা জিয়ার পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেন, সেক্ষেত্রে হয়তো আমাদের এ মামলা পরিচালনা না করাও হতে পারে। তখন আদালত বলেন, ‘আপনারা তো ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসা করতে চাচ্ছেন বলে পত্র-পত্রিকায় দেখছি।’ জবাবে আমরা বলি, তার উপযুক্ত চিকিৎসা যেখানে নিশ্চিত হবে, সেখানেই তার চিকিৎসার দাবি করছি। তার অসুস্থতা অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট যেখানে হবে, সে ধরনের হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চাচ্ছি।
এ পর্যায়ে আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, যেহেতু আপনারা বিষয়টির পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন, সেক্ষেত্রে ‘নট টু ডে’ থাকলো। তবে পরবর্তীতে মামলাটি কার্যতালিকায় থাকবে।
 দেশের বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন জানান তার আইনজীবীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়েরের পর ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘রিটে বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশ এবং এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার চিকিৎসা দাবি করে আসছেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু সেখানে কোনও প্রতিকার না পেয়ে তারা এ রিট দায়ের করেন বলেও আইনজীবীরা জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ