ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অভিনব চিন্তার বহিঃপ্রকাশ

জাফর ইকবাল : নতুনত্ব কিংবা অভিনব পন্থা অবলম্বন নতুন কিছু নয়। প্রতিবেশীর কাছে নিজের চিন্তা চেতনার বহি:প্রকাশ ঘটাতে মানুষ অনেক কিছুই করে থাকে। এছাড়া ইচ্ছে শক্তি থাকলে যে অনেক অসাধ্যও সাধন করা যায় সেটিও অনেকে বারবার প্রমাণিত করেছেন। এবারের আয়োজনে এমনই কিছু থাকছে।
বাড়ির প্রাচীর নির্মাণে টেলিভিশন: বাড়িতে প্রাচীর বা বেড়া দেয়ার জন্য আমরা নানা রকম গাছ থেকে শুরু করে টিন, ইট ইত্যাদি ব্যবহার করি। কিন্তু কখনো কি টেলিভিশন সেট দিয়ে বাড়ির চারপাশে প্রাচীর দেয়ার কথা ভেবেছেন? যে বিষয়টি আমাদের কল্পনাতেও আসেনি, সেটিই করেছেন ভিয়েতনামের হনথম দ্বীপের এক বাসিন্দা। তিনি বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ করেছেন পুরোনো টেলিভিশন সেট দিয়ে। হনথম দ্বীপের রাস্তার পাশের এই বাড়ি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। থানাথিয়েন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সম্প্রতি বাড়িটির কয়েকটি ছবি তুলে কং ছো চো নামের একটি গ্রুপে পোস্ট করেন। এরপর ছবিগুলো ভাইরাল হয়। তবে বাড়ির মালিকের নাম প্রকাশ করেননি ওই ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই প্রাচীরের প্রশংসা করেছেন। এটাকে তারা ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এবং পুরাতন জিনিসের ব্যতিক্রমী ব্যবহার বলছেন। কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। কারণ টেলিভিশনের কাচ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।  বিশেষ করে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন মানুষ এটাকে ক্ষতিকর বলছেন। কারণ টেলিভিশনের ক্যাথোড রে টিউবে ক্ষতিকর পারদ এবং সিসা থাকে যা এসব পুরাতন সেট থেকে সহজেই পরিবেশের সাথে মিশে পরিবেশ দূষিত করতে পারে। তবে প্রশংসা বা সমালোচনার মাঝেও বাড়িটি বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ প্রাচীর দেখতে আসছেন।
অভিনব উপায়ে প্রেমিকাকে প্রস্তাব: পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থায় প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে প্রেমিকদের নানা উপায় বেছে নিতে দেখা যায়। তবে স্কটিশ যুবক  ক্রিস গসপ্যাল তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা এলিদ ফ্রেজারকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বেছে নিয়েছেন অদ্ভুত এক পন্থা। তিনি গরুর গায়ে বিয়ের কথা লিখে প্রেমিকাকে প্রস্তাব দিয়েছেন।
ক্রিস গসপ্যাল পেশায় খামারি। গরু প্রতিপালন তার পেশা। ভালোবাসেন সমবয়সী তরুণী গবেষণাকর্মী এলিদ ফ্রেজারকে। বিয়ের প্রস্তাব দিতে চান প্রেমিকাকে। কিন্তু কীভাবে দেওয়া যায় ভেবে পাচ্ছিলেন না। সাদামাটা পদ্ধতিগুলো পছন্দ হচ্ছিল না ক্রিসের। ফলে প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বেছে নেন নিজের খামারের গরু কার্লিটপকে। প্রিয় গরুটির গায়ে লিখে দেন ‘তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস বলেন, কার্লিটপ ফ্রেজারের প্রিয় গরু। সে নিজের হাতে এই গরুর দেখাশোনা করে। এমনকি মাঝেমধ্যে রাতের বেলায়ও ফ্রেজার কার্লিটপের যতœ নেয়। যে কারণে ভিন্নভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আমি ফ্রেজারের প্রিয় গরুটিকে বেছে নিয়েছি। এদিকে এভাবে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে ফ্রেজার দারুণ খুশি। সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন তিনি। যদিও বিয়ের দিন-তারিখ সম্পর্কে তারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কব্জি ছাড়া নাপিত: জীবনে আমরা যখন বাধার সম্মুখীন হই তখন অল্পতে উদ্যম হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিই। কিন্তু গ্যাব্রিয়েল আমাদের মতো এত অল্পে ভেঙে পড়ার মানুষ নন।  আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের উপকণ্ঠে বেড়ে ওঠা বিশ বছর বয়সী যুবক গ্যাব্রিয়েল। মাতৃগর্ভ থেকেই জন্মেছিল দুটি হাতের কব্জি  ছাড়া। কিন্তু তার এই কব্জি না থাকা, কিংবা আশপাশের প্রতিকূল পরিবেশ কোনো কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সব বাধা, সব প্রতিকূলতা জয় করে গ্যাব্রিয়েল এখন বুয়েন্স আয়ার্সের নামি একটি সেলুনের মালিক। যেহেতু জন্ম থেকেই গ্যাব্রিয়েলের হাতের কব্জি ছিল না, ফলে ছোট বেলা থেকে এমন কিছু করতে চাইতেন যেটাতে হাতের ব্যবহার আবশ্যিক। যেটা দেখে মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে। বলবে, হাতের কব্জি নেই তো কি হয়েছে?  
 সেই ভাবনা থেকে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে গ্যাব্রিয়েল তুলে নেন চুল কাটার মেশিন। এরপর একটু একটু করে নিজেকে পরিণত করেছেন একজন দক্ষ নাপিত হিসেবে। এখন গোটা বুয়েন্স আয়ার্সের মানুষ তার দোকান এক নামে চেনে। দোকানের সামনে ভিড় লেগে যায় গ্রাহকদের। তারা তার কাছ থেকেই নিজেদের পরিপাটি করতে চায়। এছাড়া গ্যাব্রিয়েল আর্জেন্টিনা কোর্তা নামক একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে তরুণ নাপিতদের প্রশিক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শুধু চুল কাটার কাজ নয়। গত ছয় বছরে গ্যাব্রিয়েল শিখেছেন সাইকেল, মোটরসাইকেল এবং গাড়ি চালানোর মতো কাজ। যেটা হাত ছাড়া একেবারেই অসম্ভব।
১৭ তলা থেকে পড়েও অক্ষত: শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর। এখনো মুখে মা ডাকটাই স্পষ্ট হয়নি। তবে এরই মধ্যে সে ‘সুপার গার্ল’ তকমা পেয়ে গেছে। গোটা চাংহু শহরের মানুষের মুখে মুখে তার নাম। কারণ শিশুটি যে ঘটনার পরেও বেঁচে আছে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য! সতেরো তলা উঁচু ভবন থেকে পড়ে কোনো রকম শারীরিক আঘাত ছাড়াই দিব্যি সুস্থ আছে সে। ঘটনাটি ঘটেছে চীনের জিয়াংসু প্রদেশের চাংহু শহরে। বাচ্চাটির দাদী তাকে সতেরো তলার এপার্টমেন্টে ঘুম পাড়িয়ে রেখে মুদি দোকানে যান। বাচ্চাটির বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। তারা দুজনই ওই সময় কর্মস্থলে ছিলেন। ফলে দাদী সদর দরজায় তালা দিয়ে বাইরে যান। মুদি দোকান নিকটে থাকায় দাদী ভেবেছিলেন, নাতনি ঘুম থেকে ওঠার আগেই ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু দাদী বাইরে যাবার কিছুক্ষণ পরেই বাচ্চাটির ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে সে দাদীকে খুঁজতে থাকে। ঘরের ভেতর কোথাও খুঁজে না পেয়ে সে কম্পিউটার টেবিলের ওপর উঠে জানলা দিয়ে নিচে তাকানোর চেষ্টা করে। কম্পিউটার টেবিলটি জানালার খুব কাছেই ছিল এবং জানালাটি ছিল খোলা। ফলে পা ফসকে বাচ্চাটি সোজা নিচে এসে পড়ে। স্থানীয় একটি পত্রিকায় একজন প্রতক্ষ্যদর্শী বলেন, ‘আমি বাচ্চাটিকে সোজা সতেরো তলা থেকে নিচের বাগানে পড়তে দেখেছি। তবে অবাক হয়ে দেখলাম বাচ্চাটি পড়ার সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ালো এবং কাঁদতে কাঁদতে তাদের ভবনের দিকে হাটা শুরু করল।’ পরবর্তী সময়ে শিশুটির সিটি স্ক্যান, এক্সরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা পর্যন্ত অবাক হয়েছেন। তাদেরও প্রশ্ন, এটা কী করে সম্ভব? এত উঁচু থেকে পড়েও একটি ছোট বাচ্চা কীভাবে অক্ষত আছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ