ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দু’মেয়াদের হিসাব কষছেন উন্নয়ন বঞ্চিত ফটিকছড়িবাসী

ফটিকছড়ির বিভিন্ন সড়ক ও খাল নদীর ভাঙ্গা বাঁধের করুণ চিত্র

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটকিছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : হাঁটি হাঁটি পা পা করে দিনের পর মাস মাসের পর বছর এভাবে মহাজোট সরকারে মেয়াদ শেষ হতে চললেও বরাবরই ফটিকছড়ি অবহেলিত। মহাজোট সরকারের ধারাবাহিক দু’মেয়াদে উন্নয়ন হলেও অনুন্নয়নের চিত্রই বেশি দৃশ্যমান। রাস্তাঘাট, কালর্ভাট, ব্রীজ, হাট বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও নদী ভাঙ্গনের সমস্যাসহ আরো ব্যাপক সমস্যা ফটিকছড়িতে বর্তমান বিদ্যমান রয়েছে।
১৭টি চা বাগান,৩টি রাবার বাগান,প্রায় ৪০টি হাটবাজার,অসংখ্য বালি মহালসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোতে উন্নায়নের ছোঁয়া না লাগায় ফটিকছড়ির প্রতি অতিত সরকারগুলোর মত মহাজোট সরকারের বৈষম্য ফুটে উঠেছে। তাই ফটিকছড়িবাসীও পাওয়া না পাওয়ার মহাজোট সরকারের অতিবাহিত বছরের হিসাব নিকাশ কষতে শুরু করেছে। মহাজোট সরকারের ভিতর একাধিক রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী নেতা গুরত্বর্পূন নেতৃত্বে থাকা সত্তেও উলে¬খযোগ্য তেমন কোন উন্নায়ন নাহওয়ায়  সাধরন জনগন তাদের ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন।
ফটিকছড়ি উপােজলা দেশের বহু অলোচিত একটি উপজেলা। এই উপজেলায় জন্নগ্রহণ করেন অসংখ্য পীর, অউলিয়া, জ্ঞানী, মনষী,কবিসহ অসংখ্যা কালজয়ী পুরুষ ও রাজনীতিবীদ। তা সত্ত্বেও বরাবরই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ফটিকছড়ি, অথচ দেশের বিভিন্ন উপজেলা বিভিন্ন সরকারের আমলে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন হয় শুধু ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না ফটিকছড়ি বাসীর। মানবিক দিক থেকে ফটিকছড়ির দিকে একটু নজর দিলে অসংখ্যা সম্যস্যা গুলো দেখে নিরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা। আমাদের গোয়াল ঘরের গাভীর দুধ নিয়ে যায় উরা কিন্তু আমাদের খেয়াল করে না।
এদিকে ফটিকছড়ির বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চল পরিদর্শন ও এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সরকারের আমলে ফটিকছড়ির উন্নয়নের ধারা একেবারে থমকে ছিল। ফলে এই উপজেলার নানাবিদ সম্যস্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কারের অভাবে চরম আকার ধারণ করছে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে, গহিরাÑহেয়াকো সড়ক, নাজিরহাট -সুয়াবিল-কাজিরহাট সড়ক, মাইজভা-া, বিনাজুরী সড়ক, নানুপুর-খিরাম-র্বামাছড়ি সড়ক, গোফালঘাটা শহীদ সড়ক সুয়াবিল শোভনছড়ি সড়কসহ আরো অনেক প্রধান সড়ক ও অসংখ্য গ্রামীন সড়কের র্বতমান চরম অবস্থা। বিভিন্ন সড়ক, নদী, খাল, ছড়ার উপর র্নিমিত বিভিন্ন কালভাট, ব্রীজ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেসব কালর্ভাটি ব্রীজের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে ফটিকছড়ি প্রবেশ দ্বারে হালদার উপর নির্মিত পুরাতন ব্রীজটি বর্তমান মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ আবস্থায়। ফটিকছড়ির যে হাটবাজার গুলো থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়, সে সব হাট বাজার গুলোরও তেমন কোন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়না। হালদা, ধূরূং, র্সতা, নদীসহ আরো অনেক নদী খালের ভাঙ্গনে প্রতি বছর শতশত ঘর বাড়ী বিলিণ হলেও ভাঙ্গণ রোধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হইনি। এছাড়া নদী খালগুলোর উপর বিভিন্ন স্থানে ব্রীজ নির্মাণের দাবি ও র্দীঘদিনের। ফটিকছড়িবাসী দির্ঘদীন থেকে ফটিকছড়িকে জেলায় রুপান্তর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাছাড়া আইন শৃংঙ্খলার যথাযথ উন্নয়নের জন্য ফটিকছড়িকে তিনটি থানায় বিভক্তি করার দাবীও দীর্ঘ দিনের।ফটিকছড়ি উত্তর ফটিকছড়ির ভুজপুরে থানা র্নিমিত হলেও দক্ষিন ফটিকছড়িতে এখনও থানা নির্মিত হয়নি। ফটিকছড়ির কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগুন থেকে বাঁচাতে কয়েকটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবীর প্রেক্ষিতে ফটিকছড়ি সদরে একটি নির্মিত হলে ও উত্তর ফটিকছড়ি ও দক্ষিণ ফটিকড়িতে এখনো র্নিমিত হয়নি। উৎপাদিত ফসল ফলমুল সমুহ সংরক্ষণের জন্য গড়ে উঠেনি একটি হিমাগার। ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ির মত দক্ষিন ফটিকছড়িতে সর্তা বা হালদা নদীতে রাবার ড্যাম র্নিমান ও প্রয়োজনীয় সেচ ব্যবস্থার দাবী। ফেনী জেলার চাইতেও বড় এই উপজেলার স্ব্যস্থ্য সেবাও যথাযথ নয়। দেশের কয়েকটি জেলার চাইতে ফটিকছড়ি বড় উপজেলা হলেও স্ব্যস্থ্য কমúেক্য্র রয়েছে মাত্র দুটি। তাতেও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, ডাক্তার ও জনবল নেই। তাছাড়া রোগীদের প্রতি ডাক্তার ও নার্স স্টাফদের অবহেলার অভিযোগ তো নিত্যই আছে। এক কথায় হাসপাতাল দুটি যেন নিজেরাই রোগী। উক্তর ফটিকছড়িতে এবং দক্ষিন ফটিকছড়িতে আরেকটি করে স্ব্যস্থ্য কমপ্লেস্কের প্রয়োজন বলে স্থানীয় জন সাধারণ অভিমত পোষণ করেন।
ফটিকছড়িতে সীমুতাং গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হলেও ফটিকছড়িবাসী গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। সন্ত্রাসদের অভ্যয়ারন্য ফটিকছড়ি এখনো পুরোপুরিভাবে সন্ত্রাস মুক্ত না হওয়ায় ফটিকছড়ি বাসি এখনো সন্ত্রাসীদের হাতে জীম্মি। পুলিশ প্রসাশনের অবহেলায় ও যোগসাজসে নেশার রাজত্বও দিনদিন বৃদ্বি পাচ্ছে।। ফটিকছড়ির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কোন উন্নতি হয় নাই। অন্তত একটি স্কুল কলেজ সরকারী করার দাবী র্দীঘদিনের থাকলে ও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি। তবে সম্প্রতি ফটিকছড়ি ডিগ্রী কলেজকে সরকারী ঘোষিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে মাটির ও টিনসেটের বাঁশঘরে লেখা পড়া চলছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে। বিশেষ করে প্রাইমারী স্কুল গুলো দৈন্যদশা অংসখ্য শিক্ষক ছাড়া এসব বিদ্যালয়ে লেখা পড়া চলছে। এদিকে ফটিকছড়ির বিভিন্ন খাল নদী ছড়া থেকে অবৈধ ভাবে বালি পাচার ও সরকারি বন বিভাগ গুলো থেকে গাছ বাঁশ পাচার অব্যহত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোন উদ্যেগ নেই। ফলে রাজস্ব বঞ্চীত হচ্ছে সরকার, সুবিধা ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় জনসাধাসণ নদীর বাঁধ ও সড়ক গুলোর হচ্ছে করুণ অবস্থা।
ফকিছড়িতে আধুনিক জীবন যাত্রা ও মান উন্নয়নে গড়ে উঠেছে দু’টো পৌরসভা। পৌরসভার অর্ন্তভুক্ত হলেও দীর্ঘ দিনেও কোন শিশু পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র গড়ে না উঠায় এখানে আনন্দ লাভের কোন সুযোগ নেই। ফলে কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে ঘেরা এ ফটিকছড়ি অত্যন্ত সু-পরিচিত উপজেলা। এই উপজেলায় রয়েছে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নাজিরহাটবাসির জন্য কোন স্থানে কোন শিশুপার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র অথবা অবসর সময় কাটানোর প্রকল্প না থাকায় বৃদ্ধ, যুবক, যুবতী, চাকুরীজীবিদের অবসর সময় কাটানোর এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ফটিকছড়িতে নেই কোন স্টেডিয়াম বা বড় ধরনের খেলার মাঠ। যার ফলে খেলাধূলা চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার খেলোয়াড়রা। তাছাড়া বিনোদন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার খেলাধূলা অনরাগী দর্শকরা। স্টেড়িয়ামের অভাবে বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট নিয়মিত হচ্ছেনা বিধিায় প্রতিভাবন খেলোয়াড়রাও বের হয়ে আসার সুযোগ পাচ্ছেনা। বর্তমান দু একটি স্কুল কলেজের খোলার মাঠ থাকলে তা যথাপযুক্ত নয়। এ ধরনের মাঠে খোলধূলার কোন নিরাপত্তা থাকেনা। তাই অতিস্বত্তর নাজিরহাটের ক্রীড়ামোদীদের কথা ভেবে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ অতিব প্রয়োজন।
 পুলিশ প্রসাশন, উপজেলা অফিস, বিদ্যুৎ অফিস, সাবরেজিষ্ট্রি অফিসসহ উপজেলা বিভিন্ন সরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমের উপর উপরের কড়া নজর না থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানীর স্বীকার হতে হয় এলাকাবসীদের। আরো অসংখ্য সমস্যায় মহাজোট সরকারের উন্নায়নের ছোঁয়া লাগেনি।অনেকটা থমকে ছিল এলাকার উন্নায়নধারা। কারন হিসেবে এলাকাবাসী উল্লেখ করে বলেন প্রায় সময় আমরা সরকার দলীয় এমপি পাইনা।ফটিকছড়িতে এম পি র্নিবাচিত হয় বিরোধী দলীয়।যার ফলে উন্নায়ন বাধাগ্রস্থ হয়। নবম জাতীয় সংসদ র্নিবাচনেও ক্ষমতায় আসে মহাজোট সরকার ফটিবছড়িতে র্নিবাচিত হয় বিরোধী দলীয় এমপি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি র্নিবাচিত হওয়ার পর পরই গ্রেফতার হয়। দশম জাতীয় সংসদ র্নিবাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন তরিকত ফেডারেশন চেয়ারম্যান  নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি অংশের সাথে দুরত্ব বেড়েই চলে। এছাড়া দলীয় কোন্দল ও দলগুলোর হিংসাত্বক ঠেলা ঠেলিও রেষা রেষিতে ফটিকছড়ির উন্নায়ন না হওয়ার অন্তরায়।এদিকে ফটিকছড়িতে আসেন প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার আগমনও ঘটে। ফটিকছড়িবাসী আশায় বুক বেধেঁছিল প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ফটিকছড়িবাসীর আশার প্রতিফলন ঘটবে।কিন্তু আশাহত হল ফটিকছড়িবাসী। প্রধানমন্ত্রী ও ফটিকছড়ির উন্নায়নে তেমন কোন ঘোষণা দেননি। এছাড়া মহাজোট সরকারের দু;মেয়াদে আরো অনেক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ফটিকছড়িতে আসেন। তারা ফটিকছড়ির উন্নয়নে বিভিন্ন ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নের রূপ তেমন একটা পাইনি।
এমন অবস্থায় ফটিকড়িবাসী খুব সূক্ষ্মভাবে বিচার বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করছেন মহাজোট সরকার অতিবাহিত বছরগুলো। তবে দেখার বিষয় মহাজোট সরকারের মেয়াদর্পূণ হওয়ার বাকী সময়টুকু ফটিকছড়ির উন্নায়নধারা কতটুকু অগ্রগতি করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ