ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে আউশের ভালো ফলন দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা

মিসরসাইয়ে এবার আউশের ভালো ফলন হয়েছে। ছবিটি উপজেলার গজারিয়া এলাকা থেকে তোলা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এবার অনেক বেশি বৈরী আবহাওয়ার পর সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে আউশের ফলন ভালো হলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবার গত বছরের চেয়ে ১২শ হেক্টর আবাদ কমেছে। তবুও শেষের দিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ফলন বিপর্যয় না হয়ে ভালো ফলন হয়েছে। ঈদের আমেজ ছাপিয়ে কৃষকের এই ধান ঘরে তুলতে কৃষক-কৃষাণী কারো যেন একটুও ফুরসত নেই।
চারদিকে এখন ধান কেটে ঘরে তোলার প্রতিযোগিতা চলছে। দীর্ঘদিনের এই পরিশ্রমের ফসল সংরক্ষণ করে ঘরে তুলতে কেউ কেউ অন্য জেলা থেকে শ্রমিক এনেছেন আবার কেউ কেউ এলাকার শ্রমিক নিয়ে এই ধান কাটায় ব্যস্ত।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, কৃষাণী ও ছেলেমেয়ে এবং অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে নিজ নিজ জমির আউশ ধান কাটছে। কেউ আবার মেশিনের মাধ্যমে মাড়াই করে খড় থেকে ধান ছাড়াচ্ছেন। কোথাও কোথাও কৃষাণীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধান সিদ্ধ করছেন। কোথাও আবার বাড়ির উঠানে এবং বাড়ির আঙিনায় অস্থায়ী উঠান করে ধান রোদে শুকাচ্ছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হলেও কাটার সময় আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভালো না থাকায় আউশ ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।
ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক বিকাশ ভৌমিক জানান, এবার শুরু থেকে বারবার পাহাড়ি ঢল অনেক ক্ষতি করেছে। বীজতলা কয়েকবার করতে হয়েছে। এরপরও আমার ১০ গন্ডা জমির আউশ পচে গেছে। কিন্তু বাকি ২০ গন্ডা টিকে ওঠায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক রতন চন্দ্র নাথ, আবুল হাশেম, বাবুল মজুমদার হতাশার সুরে বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এখন কাজের লোকের বেতন অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় ধানের দাম কম। দেশী একজন কাজের লোক ৈেদনিক ৭শ টাকা। বাইরের কাজের লোক ৪শ টাকা (৩ বেলা খাওয়া থাকা কৃষকের)। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে গেলে এক আড়ি ধান ১৮০-১৯০ টাকা। এছাড়া সেচ, কিটনাশক, সার এর মূল্য বেশি। ধানের দাম কম হওয়াতে খরচ পুষিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হচ্ছে আমাদের।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, এবার পুরো উপজেলায় এবার ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আউশের চাষ হয়েছে। গতবার হয়েছিল ৮ হাজার ৪শ হেক্টর। গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ২শ হেক্টর কম জমিতে ফলন হয়েছে। এবারের ফলন প্রায় ২৮ টন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে আমরা সার, সেচ, পোকামাকড় ও আগাছা দমনসহ সব বিষয়ে উপযুক্ত সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছি। এ বছর বর্ষার শুরুতে বৈরী আবহাওয়ায় সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে আউশ ধানের আশানুরূপ ভালো ফলন হয়। তিনি আরো বলেন, যে সব কৃষকের ধান কাটার উপযোগী হয়েছে তাদের সময় নষ্ট না করে দ্রুত ধান কেটে ফেলাই উত্তম। এতে ফলনের সঠিক পরিমাণ ঠিক থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ে ধান না কাটলে করলে বৃষ্টিপাতে ধান ঝরে পড়ে যাবে এবং যে পরিমাণে ধান পাওয়ার কথা তার থেকে কম পাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ