ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিজেপি প্রধানের হুংকার: দেশে একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকেও থাকতে দেওয়া হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের ক্ষমতাসীন উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি সভাপতি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস আর দেশটির প্রধান বিরোধী দল সোনিয়া গান্ধির কংগ্রেস যতই বিরোধিতা করুক, ভারতে একজনও 'বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী'কে থাকতে দেয়া হবে না।তার মতে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ঢুকে পড়ে জাতীয় নিরাপত্তা নষ্ট করছে , এবং এদের ঠেকানোর জন্যই নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি-র মতো পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বিজেপির এক জনসভায় মি শাহ বলেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ভোটব্যাংকের স্বার্থে 'বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের' রেখে দিতে চান।

কিন্তু, তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধী (কংগ্রেস) বা মমতা ব্যানার্জী যতই এনআরসি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করুন, সেটা বন্ধ হবে না।"

উল্লেখ্য, আসামে নতুন করে এনআরসি বা  জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় চল্লিশ লাখ বাংলাভাষিকে বহিরাগত তথা বাংলাদেশী আখ্যা দেয়া হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বি।পশ্চিমবঙ্গেও মূলত মুসলিমদেরকে ইঙ্গিত করেই বাংলাদেশী বা বহিরাগত আখ্যা হচ্ছে।

এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ভারতের সব রাজ্যে এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করার প্রস্তাব করেছেন।

বিজেপি সভাপতি কলকাতার জনসভায় খোলাখুলি বলেছেন, আসামের মত পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক হারে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে।

কলকাতায় বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী বলছেন, বিজেপি সভাপতির ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়েই ছিল বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অনুপ্রবেশ।

এছাড়া রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর সফরে গিয়েও তিনি একই বক্তব্য প্রদান করেছেন। 

মজার বিষয় হলো, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বাংলাভাষি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বহিরাগত তকমা লাগানোর জন্য কামান দাগানো হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ সহ অন্য ধর্মাবলম্বিদের আবার নাগরিকত্ব প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে বিজেপি প্রধান বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যত শরণার্থী রয়েছে - হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান - তাদের কাউকে তাড়ানো হবে না - সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

আসামে নতুন নাগরিক তালিকা তৈরির তীব্র প্রতিবাদ করছেন মমতা ব্যানার্জী। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এ ধরণের যে কোনো উদ্যোগ তিনি হতে দেবেন না।

মূলত বিজেপি নেতাদের মুসলিম বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক ভেদনীতি জনিত উস্কানির কারণে দেশটিতে ক্রমাগতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ বাড়ছে।ইতোমধ্যে সেখানে গোরক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলমানদের জীবনকে দুর্বিসহ করে করে তোলা হয়েছে।

২০১৫ সাল বাড়িতে গোমাংস রেখেছেন, এই সন্দেহে, উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে ৫০ বছর বয়সী আখলাককে পিটিয়ে মারা হয়। দেশে উদ্ভুত অসহিষ্ণুতার কারণে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বেশ কিছু সাহিত্যিক তাঁদের সরকারি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু, ধর্মান্ধ এই দলটি এসবকে থোরাই কেয়ার করে।বিজেপি সভাপতি বরং হুংকার দিয়ে বলেছেন, আখলাক কিংবা অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসি, এরকম ইস্যু যতই উঠে আসুক গেরুয়া বাহিনী ভোটে জিতবেই। 

জয়পুর সফরে গিয়ে দলের কর্মীদের নিয়ে এক বৈঠকে নিয়ে এ হুংকার ছাড়েন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘যখনই ভোট হয়, তখনই আখলাক ইস্যু সামনে আসে। সামনে নিয়ে আসা হয় অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসি মত ঘটনা। এবার ভোট আসছে, সামনে আবার এরকম কোনও নতুন বিষয় নিয়ে আসা হবে।তিনি দম্ভ করে বলেন, ‘‘আখলাক যখন ঘটেছিল তখনও আমরা জিতেছিলাম, অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসির সময়েও আমরা জিতেছিলাম, এবার যদি ওরা নতুন করে কিছু করে, তাহলেও আমরা আবার জিতব।" সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও বিবিসি

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ