ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় আখ চাষে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি

সাতক্ষীরায় নিয়মিত পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে ক্ষেতের আখ -সংগ্রাম

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও  দারিদ্র বিমোচনে জেলাতে আখ চাষের গুরুত্ব বেড়েছে। অন্য যে কোন ফসলের তুলনায় আখের পরিচর্যায়  অধীক  শ্রমিকের চাহিদা থাকায় পেশাটি দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ ভূমিকা রেখে চলেছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে লক্ষাধীক বেকার মানুষের। কৃষিবিদের মতে হেক্টর  প্রতি আখ জমি লাগানো থেকে কাটা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শ্রমিক-দিবসের প্রয়োজন হয়। এ বছর জেলাতে ১৫০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এতে ৯০ হাজার হাজার শ্রমিকের কাজের পরিধি বেড়েছে। এছাড়া সারা বছর কাঁচা আখের রশ ও গুড়, পাটালি সহ আভজাত পণ্য বিক্রয় করতে আরো কয়েক হাজার শ্রমিকের দরকার হয়। বর্তমানে জেলাতে আখের পরিচর্যা ও আখের রস বিক্রয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছে এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। ভারতীয় চিনি আসা হ্রাস পাওয়াতে জেলাতে আখের উৎপান বেড়েছে।
আখ চাষের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন সহজেই সম্ভব। শুধু এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের তৎপরতা দরকার। কৃষিবিদরা বলেন  আখ এমন একটি ফসল যার রোপণকাল থেকে পরিপক্বতা পর্যন্ত ১০-১৪ মাস সময় প্রয়োজন হয়। আখের পরিচর্যা শ্রমিক নির্ভরশীল বিধায় আখচাষের মাধ্যমে কৃষি শ্রমিকদের সারা বছর কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। এক হেক্টর আখের জমি লাগানো থেকে কাটা পর্যন্ত প্রায় ৬০০ শ্রমিক-দিবসের প্রয়োজন হয়। অন্য কোন ফসল আবাদের জন্য এত শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। সাতক্ষীরাসহ দেশের দারিদ্র পীড়িত এলাকা, যেখানে কৃষি শ্রমিকদের কাজ ধানচাষের উপর নির্ভরশীল ,আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা (কৃষি শ্রমিকরা) কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করে, সেখানে আখচাষের মাধ্যমে বেকার কৃষি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
আখ চাষীরা জানান,  আখ ফসলের কোন অংশই ফেলনা নয়। আখক্ষেত পরিচর্যাকালীন যে সমস্ত শুকনো পাতা ও মরাগাছ মাঠ থেকে অপসারণ করা হয় তা বিক্রি করে কিছু নগদ অর্থ উপার্জন করা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আখের পাতা খাওয়ানোর ফলে গবাদী পশুর দুধের পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। 
বর্তমানে জেলার উপজেলা শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত প্রতিটা বাজারের চিবিয়ে খাওয়া আখ বিক্রি হচ্ছে। এলাকা ভেদে প্রতিটা আখ ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ছোট ছোট হস্ত চালিত মাড়াই মেশিনে তৎক্ষণিকভাবে আখ মাড়াই করে রস বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি গ্লাস আখের রস স্থান ভেদে ১০-১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে কয়েকশ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আখ পরিবহনে, গুড় তৈরিতে, এবং গুড় বাজারজাতকরণে যে পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়, অন্য কোন একক ফসলে এত কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ২ হেক্টর, তালায় ৭৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে ৪ হেক্টর পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সমজিত কুমার পাল জানান, উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবণাক্ততা এমন ৫টি উপজেলাতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরাতে আখ চাষে আবার চাষীরা আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি খামার বাড়ির পক্ষ থেকে সার্বিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়া আখ চাষে বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ