ঢাকা, বুধবার 12 September 2018, ২৮ ভাদ্র ১৪২৫, ১ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে ইটভাটা ও বালুর ট্রাক চালানো হয় লেবার দিয়ে ॥ হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: ড্রাইভার, হেলপারদের বেপরোয়া গাড়ি চালনায় স্কুল ছাত্রছাত্রী আহত, নিহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু ড্রাইভার, হেলপারের পরিবর্তে লেবার পরিবহন চালাচ্ছে, এমনটা ইতপূর্বে তেমন শোনা যায়নি।
অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য যে শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ও কায়েমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ইটভাটার প্রায় ৩০ টি ইট সরবরাহের ট্রাকের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চালাচ্ছে লেবার।
এছাড়াও বাঘাবাড়ীম, গঙ্গাপ্রাসাদ, কৈজুরী, হাট পাঁচিল, নুকালী ও শাহজাদপুর , ফরিদ পাঙ্গাসী বালু টানার কাজে নিয়োজিত ট্রাক , ভটভটি চালাচ্ছে লেবাররা। উপ-সড়কগুলোতে বেপরোয়া গাড়ী চালানোর কারণে পথচারীরা প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।  লেবার কর্তৃক বেপরোয়া ট্রাক চালনার ফলে তালগাছি থেকে হরিরামপুর পর্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘের পাঁকা সড়ক দিয়ে অটোরিক্সা ভ্যানে চলাচলকারী শতশত ছাত্রছাত্রীসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ভয়ে ভয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি! গত বুধবার মাহিন (৭) নামের এক নার্সারীর শিশুছাত্র তার চাচী রেশমা (২৮)'র সাথে আফজালের (৫০) ভ্যানে চড়ে হরিরামপুুর থেকে তালগাছি যাচ্ছিল। ভ্যানটি যখন ওই সড়কের লালমিয়ার বাড়ি সংলগ্ন পৌছায়, ঠিক তখনই ট্রাকটির ড্রাইভার নান্নুর পরিবর্তে তার ভাগ্নে সমাজ লেবার হলেও ড্রাইভার সেজে ত্রুটিপূর্ণ ট্রাকটি চালাতে গিয়ে সজোরে পেছন থেকে ধাক্কা মারলে ভ্যানটি দুমড়ে মুচরে যায়। এ ঘটনায় ভ্যানের যাত্রী রেশমা ও কিন্ডারগার্টেনের প্লে-গ্রুপের ছাত্র মাহিন ও ভ্যানচালক আফজাল গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী দ্রুত তাদের শংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শবর্তী উল্লাপাড়া কাওয়াকস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভ্যানের ২ যাত্রী রেশমা ও মাহিনকে ওই হাসপাতাল থেকে বগুড়া শহিদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় রেশমার ডান পায়ের হাঁড় ভেঙ্গে যায় ও মাহিন মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার গাড়াদহ ও কায়েমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ টি ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে ইট সরবরাহ করা হয়। ওই ৩০ টি ট্রাকের চালকের মধ্যে সিংহভাগ চালকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। ১৫ টি ট্রাকের ড্রাইভারের মধ্যে দু'চারটি নিয়মিত চালায় হেলপার, আর ১০/১১টি চালায় লেবার। ফলে এদের বেপরোয়া ট্রাক চালনার ফলে ছাত্রছাত্রীসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ