ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নেপালকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ

স্পোর্টস রিপোর্টার: সাফ সুজুকি কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে মালদ্বীপ। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত সেমিফাইনালে ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদের জোড়া গোলে নেপালকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মালদ্বীপ। গ্রুপ পর্বের দুই খেলায় কোনো গোল না করেই টসভাগ্যে সেমির টিকিট পায় মালদ্বীপ। সেই মালদ্বীপই কিনা নেপালকে সেমিতে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে জায়গা করে নিলো। এর ফলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ বার অংশগ্রহণ করে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে পা রাখলো মালদ্বীপ। ১৯৯৭, ২০০৩, ২০০৮ এবং ২০০৯’র আসরে ফাইনালে খেলেছিল মালদ্বীপ। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করেছিল মালদ্বীপ। গোলের জন্য অবশ্য অপেক্ষা বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মালদ্বীপকে। ৯ মিনিটে প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। এ সময় ডান প্রান্তে ডি বক্সের বাইরের কোনায় ফ্রি কিক পায় মালদ্বীপ। অধিনায়ক আকরাম আবদুল ঘানির নেয়া বাম পায়ের বাঁকানো শট থেকে মালদ্বীপের মোহাম্মেদ সামদুহ পা লাগাতে ব্যর্থ হলেও গোল পেতে অসুবিধা হয়নি মালদ্বীপের। আকরাম আবদুল ঘানির নেয়া ফ্রি-কিক নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বুকে বোকা বানিয়ে জাল স্পর্শ করে (১-০)।এর পরপরই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণেই দুই দলই স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শনে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। ২৫ মিনিট খেলা হওয়ার পর বৃষ্টিসহ বজ্রপাতের কারণে রেফারি খেলা বন্ধ করে দেন। বৃষ্টির কারণে ৩৫ মিনিটে খেলা বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫.০০টায় আবারও খেলা শুরু হয়। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণ করে খেলতে থাকে। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে প্রথমার্ধের বাকি ২০ মিনিটে নেপাল একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেও গোল পরিশোধ করতে পারেনি। মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল নেপালের বেশ কয়েকটি আক্রমণ দক্ষতার সাথে রুখে দিলে প্রথমার্ধে ১-০তে এগিয়ে থাকে মালদ্বীপ। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে আবারও একটি গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে মালদ্বীপ। ডানপ্রান্ত থেকে ক্ষিপ্রতার সাথে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড হাসান নাইজ ডি বক্সে ঢুকে ডান পায়ে শট নেন। কিন্তু নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বু শুয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৭৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় নেপাল। এ সময় বাম প্রান্ত থেকে গোলমুখে নেয়া সুনীল বাল-এর থ্রু পাসে ফাঁকা পোস্টে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। নেপালের বদলি ফরোয়ার্ড নবযুগ ¯্রষ্ঠো। ৮৪ মিনিটে আবারও গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। এ সময় ডানপ্রান্ত থেকে বদলি খেলোয়াড় আসাদুল্লাহ আবদুল্লাহর গোলমুখে নেয়া শট নেপালের সুজাল ¯্রষ্ঠো ফিরিয়ে দিয়েও শেষরক্ষা করতে পারেননি। ফিরতি বলে মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ নেপালের জালে বল পাঠান (২-০)। ২ মিনিট পরেই আবারও নেপালের জালে বল পাঠান ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ। অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে জটলার মধ্য থেকে মালদ্বীপের কুশলী ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম হাসান ওয়াহেদ ডান পায়ের শটে নেপালের গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বুকে পরাস্ত করেন (৩-০)।

শেষ দিকে নেপাল গোল পরিশোধের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপের গোলরক্ষক মোহাম্মেদ ফয়সাল অসামান্য দক্ষতায় তা রুখে দিলে ৩-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে পিটার হারবাটসকোর শিষ্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ