ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বিনিয়োগ করবেন

# শেয়ার বাজারের উন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ
সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পুঁজি বাজারের উন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বিএসইসিসহ পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অর্থনীতিকে বেগবান, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এর রজত জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো হচ্ছে- দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালুকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর পছন্দের বাসকেট (ঝুলি) সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করা, নতুন প্রোডাক্ট চালু করার পূর্বে তার পরিচিতি, পরিচালন প্রক্রিয়া ও কৌশল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিতকরণ এবং বিএসইসির প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম জোরদার করে সর্বস্তরে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তৃতকরণ।
 সেই সাথে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ও গুরুত্ব, অন্যান্য সেক্টরের সাথে পুঁজিবাজারের আন্তঃসম্পর্ক ইত্যাদি নানা বিষয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত কোম্পনিসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ার লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্মল ক্যাপ বোর্ড চালু করা।
তিনি সকল ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিকতরণের পাশাপাশি সর্বত্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ উল্লেখিত সকল কর্মসূচি ও কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত এসব কর্মকা- বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।’
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলব, যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটা আমরা চাই না।’
‘পাশাপাশি কমিশন নিয়ন্ত্রক ও সহায়তাকারী উভয় ভূমিকায় পুঁজিবাজার বিকাশে যে ধারা বজায় রেখেছে তা অব্যাহত রাখবে এবং গতিশীল করবে’,  যোগ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানীর পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ সিকিউরিটজি এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যাবলী নিয়ে একটি ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন হয়।
তার সরকার ভবিষ্যতেও পুঁজিবাজার উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের এক নির্ভরযোগ্য উৎস।
তিনি বলেন,‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০৪৩ সালে যখন বিএসইসির সূবর্ণজয়ন্তী পালিত হবে, অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে পুঁজিবাজারের অবস্থান আরও বলিষ্ঠতর হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ পুঁজিবাজার বিকাশে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। ফলে পুঁজিবাজার আজকের স্থিতিশীল অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
পুঁজি বাজারের বিকাশে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিএসইসি এর নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। আইনি সংস্কারের মাধ্যমে কমিশনের কর্মকর্তাদের পদ-মর্যাদা ও বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের সমমানের করেছি। কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের কর্মকা-ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আইনি বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, কমিশনে কর্মরত সকলের জন্য দেশে-বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করায় বিশ্বে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তার সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকা-ে গতিশীলতা আনয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা। শেয়ার বাজারে লেনদেনে কারচুপি ও অনিয়ম শনাক্তকরণ ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণীত প্রণোদনা প্যাকেজ-এর সফল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। সেইসাথে তার সরকার পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্পেশাল ট্রাইবুনাল-এর কার্যক্রম চালু করেছে, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ফাইনানসিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস-২০১৫ এর মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, বলেন তিনি।
ফলে তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে এবং বিএসইসি পেয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মান। বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আমাদের বাজারের প্রতি ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই) এবং বিএসইসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের কনসোর্টিয়াম ইতোমধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ অন্তর্ভুক্তিতে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীসহ, স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকলে উপকৃত হবেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করে যাবারও আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তৃতায় বলেন, দেশের পুঁজিবাজার সত্যিকারভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সরকার এখন সন্তুষ্টি অনুভব করতে পারে। এই অগ্রগতি কোনভাবে ব্যাহত করা যাবে না।
মুহিত বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং বিশ্বের কাছে পুঁজিবাজারের অবস্থান সমুন্নত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী দুই বছরের জন্য চলমান পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং আমরা আশা করি যখন পদক্ষেপসমূহের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে তখন দেশে সত্যিকারের পুঁজিবাজার সুপ্রতিষ্ঠত হবে এবং আমরা এ জন্য গর্ব অনুভব করতে পারবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ