ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা অনাদায়ী

সংসদ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণখেলাপির সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। আর এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অনাদায়ী টাকার পরিমান ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রণীত বাজেটের এক চতুর্থাংশেরও বেশি।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গতকাল বুধবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম পিনু খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে সংরক্ষিত সর্বশেষ গত জুন মাসের তথ্যানুযায়ী অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকাও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।
সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লি., ম্যাক্স শিপিং মিলস, রাবেয়া ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ডাট্রিজ, রাইজিং স্টিল মিল, ঢাকা ট্রেডিং হাউজ, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা শিপিং মিলস, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী নিটওয়ার, সিদ্দিক ট্রেড, রুপালী কম্পোজিট লেদার ওয়ার, আলফা কম্পোজিট টয়েলস, হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স, শাহরিজ কম্পোজিট টয়েল লিমিটেড, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, সুরুজ মিয়া শিপিং মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, সালেহ কার্পেট মিল, পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিক্স, এ কে স্টিলের নাম।
আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ছিল ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক সাহায্যের প্রাপ্তির (ডিসবার্সমেন্ট) পরিমান ছিল ১৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলার। অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, কৃষি ঋণের সুদহার ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর আগে এটি ১০ শতাংশ ছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে। তিনি  বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ একমাসে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ৭৮৩ কোটি টাকা টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে। 
মো. আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদকে জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষমাত্রা দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা এর মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত সাত হাজার ৫৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োরগকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। পুজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এক হাজার ৫৮৮ জনের সার্টিফিকেট কোর্স সমাপ্ত করেছে এবং ২৬০ জনকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ক্যাপিটাল মার্কেট (পিজিডিসিএম) কোর্স পরিচালনা করেছে। মন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা প্রথা এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার উদ্দেশে ৯০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নিকট থেকে আবদেন পাওয়া গেলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্ভবানা পর্যালোচনা পূর্বক সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সদরে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা খোলা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ