ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিত্তশালীরা ঠিকমতো কর দিচ্ছেন কি-না মনিটরিং করা হচ্ছে -এনবিআর চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের বিত্তশালীরা ঠিকভাবে কর পরিশোধ করছেন কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়টি রিভিউ করার জন্য কমিশনারেট অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মনিটরিং করে দেখা হবে বিত্তশালীরা ঠিক মতো কর দিচ্ছে কিনা।
গতকাল বুধবার বিসিএস একাডেমীতে ৬ মাসব্যাপী বিভাগীয় বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিসিএস (কর) একাডেমীর মহাপরিচালক মো. বজলুল কবির ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কর কমিশনার (কর অঞ্চল-০৮) মো. সেলিম আফজাল। এ ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৬তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের ৩৯জন সহকারী কর কমিশনারসহ মোট ৪২জন সহকারী কর কমিশনার এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বে ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েলথ এক্স’গত সপ্তাহে এ অতি ধনীদের ওপর সর্বশেষ রিপোর্টটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, অতি ধনী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুতহারে বাড়ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় আছে বাংলাদেশ সবার উপরে। ওয়েলথ এক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৭ দশমিক ০৩ শতাংশ হারে ধনীদের সংখ্যা বাড়ছে। ওয়েলথএক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধি বিবেচনায় বাংলাদেশের পরই আছে চীন। দেশটিতে ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনামের ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা প্রতিবেশী ভারতের ধনীদের সম্পদ স্ফীত হচ্ছে বার্ষিক ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হারে। ধনীদের দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির তালিকায় ভারতের পরই রয়েছে হংকং। এখানকার ধনীদের সম্পদ বাড়ছে বার্ষিক ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। পরের স্থানগুলোয় থাকা আয়ারল্যান্ডের ধনীদের বার্ষিক সম্পদ বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ১, ইসরাইলের ৮ দশমিক ৬, পাকিস্তানের ৮ দশমিক ৪ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮ দশমিক ১ শতাংশ। অতি ধনী বা ‘আলট্রা হাই নেট ওয়ার্থ’ (ইউএইচএনডাব্লিউ) বলে তাদেরকেই বিবেচনা করা হয় যাদের সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যাদের সম্পদ আড়াইশো কোটি টাকার বেশি, তারাই ‘অতি ধনী’ বলে গণ্য হবেন।
কর ফাঁকি দায়ে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে ধনীরা যে সব সময় কর ফাঁকি দেয় তা নয়। তারা করও দেয়। আবার দেশের উন্নয়নে অংশ নেয়। তবে সবাই ঠিক মতো কর দিচ্ছে কিনা দেখা হচ্ছে। মনিটরিং হচ্ছে। কমিশনারেট অফিসগুলোকে কর ফাঁকিবাজ চিহ্নিত করতেও বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের জিডিপির তুলনায় টেক্স রেশিও কম। এজন্য করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে জোর জবরদস্তি নয়। সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ