ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওজোপাডিকোতে নির্মাণ হচ্ছে ১৫ তলার দৃষ্টিনন্দন ভবন

খুলনা অফিস : পদ্মার এপারের ২১ জেলা নিয়ে গঠিত ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ১৫ তলা ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সোমবার থেকে এর নির্মাণ কাজের প্রাথমিক পর্ব শুরু হয়। তবে ১৫ তলা ভবন হলেও আপাতত ছয় তলা পর্যন্ত হচ্ছে ভবনটি। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। তবে ১৫ তলা ভবনের জন্য ব্যয় হবে ৫৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যার পুরোটাই অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ জিওবি ফান্ড থেকে এর নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে। আগামী বছর (২০১৯) ৩০ জুনের মধ্যে ভবনের (৬তলা পর্যন্ত) কাজ শেষ হওয়ার কথা। ওজোপাডিকো লি. এর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় নির্মানাধীন এ ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড ও প্রথম তলায় থাকছে পানির রিজার্ভ ট্যাংক, ফায়ার এন্ড প্লাম্বিং পাম্প রুম, জেনারেটর রুম, সাব-ষ্টেশন এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান। দ্বিতীয় তলা থেকেই মূলত: অফিসের কার্যক্রম শুরু হবে এমনটিই জানিয়েছেন ওজোপাডিকো লি. কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সি.এম মোতাহার হোসেন বলেন, দ্বিতীয় তলায় ৮টি কক্ষ থাকবে এবং এ তলাটি উপ-মহাব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক ও কনফারেন্স রুমের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।  তৃতীয় তলায়ই মূলত ওজোপাডিকোর মূল কর্মকর্তাদের রুম থাকবে। এ তলায় ১০টি রুমের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তর, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ), নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল), কোম্পানী সচিব এবং কনফারেন্স রুম থাকবে। 

৪র্থ তলায় ২০টি কক্ষ থাকবে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ তলায় মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক, ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপকদের কক্ষ থাকবে। ৫ম তলায়ও থাকবে ২০টি কক্ষ। এ তলায় থাকবে প্রকল্প পরিচালক, উপ প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সিস্টেম কন্ট্রোল এন্ড প্রটেকশন দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়েল কর্মকর্তার দপ্তর। এছাড়া ৬ষ্ট তলার ২০টি কক্ষেও থাকবে প্রকল্প দপ্তরের বাকী কর্মকর্তাদের দপ্তর। এ ভবনটি নির্মাণ হলে গাড়ি পার্কিং, জেনারেটর, লিফট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধাসহ ভবনের সামনে এবং পাশে গার্ডেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় এটি একটি দৃষ্টি নন্দন ভবনে রূপ নেবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

প্রতি ফ্লোর আট হাজার বর্গফুটসহ পুরো ভবনের আয়তন হবে ৪৮ হাজার বর্গফুট উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, এ ভবনের নকশা করেছে ঢাকার লালমাটিয়ার ভার্নাকুলার কনসালটেন্টস্ লি. নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজটি করছে যশোরের দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। একটি মেসার্স নূর হোসেন ও অপরটি মেসার্স আমিন এন্ড কোং (জেবি)।

ঠিকাদার মো. নূর হোসেন বলেন, আগামী দু’মাস নাগাদ ভবনটি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর প্রতি মাসে একটি করে তলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে (৬ তলা) বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তিনি। 

ওজোপাডিকো লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শফিক উদ্দিন বলেন, ওজোপাডিকো ভবনটি নির্মাণ হলে গ্রাহক সেবায় বিশাল পরিবর্তন আসবে। যেহেতু এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের বিভিন্ন কাজের জন্য কোম্পানীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার জন্য গ্রাহকরা আসতে পারেন সেহেতু একটি ভবনের মধ্যে সকল দপ্তরের কাজ হলে গ্রাহক ভোগান্তি যেমন কমবে তেমনি মাঝে-মধ্যে কনফারেন্স রুমে গ্রাহকদের নিয়ে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করারও সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবনের তৃতীয় তলায় যে কনফারেন্স রুমটি থাকবে সেখানে এক থেকে দেড় হাজার মানুষের একসাথে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে বলেও তিনি জানান। নতুন ভবন নির্মিত হলে এখন যেমন একাধিক ভবনে বিভিন্ন দপ্তর বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে সেটি আর থাকবে না। পুরাতন ভবনগুলো তখন অন্য কাজে ব্যবহৃত হবে বলেও তিনি জানান। তবে কোম্পানীর মূল অফিসিয়াল কাজ হবে নতুন ভবনে। ছয় তলার কাজ শেষ হলেই ভবনের বাকী নয় তলার কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, তখন ওজোপাডিকোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষও নতুন ভবনে স্থানান্তর হবে। সবকিছু ডিজিটালাইজড হবে। এক কথায় গ্রাহক সেবায় আমুল পরিবর্তন আসবে। কোম্পানীর তথ্য কর্মকর্তা কেএম রেজাউল হক বলেন, বর্তমানে ওজোপাডিকোতে বিভিন্ন শ্রেণির ১০ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ জন গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যাই নয় লাখ চার হাজার ৪১২জন। এর পরে গ্রাহকদের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে বাণিজ্যিক ও অফিসিয়াল গ্রাহক। অর্থাৎ এ সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ২৮৩জন। গ্রাহক সংখ্যা ক্রামন্বয়ে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-বিউবো’র আওতায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের আরও ১১টি মিলিয়ে সর্বমোট ২১টি জেলা ও ২০টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত ওজোপাডিকোর যাত্রা শুরু হয় ২০০৫ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে। বর্তমানে ওজোপাডিকো এলাকায় ৬৭টি ৩৩/১১কেভি উপকেন্দ্র রয়েছে। যার ক্ষমতা প্রায় ১৬৫৩.২ এমভিএ। কোম্পানীতে বর্তমানে প্রায় সাত হাজার ৩৪৮টি বিতরণ ট্রান্সফরমার এবং ১১ হাজার ৩৬৯ কিলোমিটার বিতরণ লাইন রয়েছে বলেও কোম্পানীর এমডি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ