ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে সরকারিকরণ এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা  দেয়ার দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিনের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সভাপতি মো. সাইদুল হাসান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি বিপ্লব কান্তি দাস, মো. হারুন অর রশিদ, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. মোদাচ্ছির আলম, এ বি এম রেজাউল হক, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জব্বার, জি এম শাওন, মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন, মো. রফিকুল ইসলাম, আবদুল হালিম, মো. রেহান উদ্দিন, সৈয়দ শওকতুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল ইসলাম মাসুদ, সোহেলি পারভিন, মতিউর রহমান দুলাল, মো. রেজাউল করিম  মো. জহিরুল ইসলাম, মো. কামরুল হাসান, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. রবিউল ইসলাম, এস এম ফরিদ উদ্দিন, মো. জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ গোলাম সাদেক, মো. বাসেদ আলী, মো. আব্দুল মতিন, মো. মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, আফরোজা খাতুন প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের মহাসচিব মো. আব্দুল খালেক বলেন, পরিকল্পিতভাবে বৈষম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালের পরবর্তী তিন বছর যাবত শিক্ষকদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বৈশাখী ভাতা, টাইমস্কেল, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, পেনশনের ব্যবস্থা নেই এবং সমগ্র চাকরি জীবনে পদোন্নতির সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষকরা মূল বেতন স্কেলেরও কম বেতন- ভাতা উত্তোলন করে থাকেন। এই সামান্য বেতন-ভাতার মাধ্যমে বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ভরণপোষণ করতে হয়। শিক্ষক ফোরাম বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সরকারিকরণের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের নিস্পৃহ নিরব দর্শকের ভূমিকা, বেসরকারি শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, শিক্ষা আইন প্রণয়ন, সকল অসংগতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় দেশের শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। দেশে নৈতিকতা সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা ব্যতীত জাতীয় উন্নয়ন অসম্ভব। মানসম্মত শিক্ষাই জাতীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানবতার প্রধানমন্ত্রী চলতি অধিবেশনেই সরকারিকরণের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেবেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন। এরপরও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারিকরণের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা না হলে শিক্ষকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ