ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইথিওপীয় নেশার পাতা আসে ২০টি প্রতিষ্ঠানের নামে -সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে আসা দেড় হাজার কেজি গাঁজা জাতীয় নেশাদ্রব্য ২০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকায় আসে বলে জানিয়েছেন সিআইডির (বিশেষ তদন্ত ও গোয়েন্দা) ডিআইজি মো. শাহ আলম। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ মাদক আটকের পর পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছে। যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব আমদানি করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে সিআইডি কাজ শুরু করেছে।
গত বৃহস্পতিবার মোট ৯৬টি প্যাকেটে আসা দেড় হাজার কেজি এই মাদকের আনুমানিক মূল্য দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা বলে শাহ আলম জানান।
 সোমবার রাতে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম অ্যান্ড হোমিসাইডাল ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানিয়েছিলেন, এই দেড় হাজার কেজি পাতাই সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের মাদকের সবচেয়ে বড় চালান।
এ ধরনের নেশাদ্রব্য বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়েছিল গত ৩১ অগাস্ট। সেদিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গুদাম এবং শান্তিনগরের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে আটশ কেজি নেশাদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর শাহজালালে আসা কয়েকটি কার্টন থেকে পাওয়া যায় আরও ১৬০ কেজি একই ধরনের নেশার পাতা। সোমবার শুল্ক গোয়েন্দারা ১৬০ কেজির একটি চালান আটকের খবর দেওয়ার পর সিআইডি প্রায় দেড় হাজার কেজির চালান আটকের খবর দিল।
জান্নাত আরা বলেন, “বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই চালানটি আসার খবর পেয়ে আমরা গত বৃহস্পতিবার কার্গোতে যাই। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হই যে এটা মাদক।“এই  এনপিএস (নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবসটেন্স) এ ফেনেথাইলামাইন পাওয়া গেছে। এটা সেবনে মানুষের শরীরে ইয়াবার মতো উদ্দীপনা জাগায়, যা ক্ষতিকর।”
চায়ের পাতার মতো দেখতে মাদকের এই চালানটি রোববার আটক দেখানোর পর মামলা করা হয় বলেন ডিআইজি শাহ আলম।
এর আগে এ ধরনের একটি চালান আটকের পর  মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, কাথ শ্রেণিভুক্ত এক ধরনের উদ্ভিদ থেকে তৈরি এই নেশাদ্রব্য আফ্রিকার দেশগুলোতে বহু আগে থেকেই প্রচলিত। তবে ইদানিং বিভিন্ন দেশে হেরোইন বা ইয়াবার মতো মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ভেষজ নেশার পাতা। এ ধরনের বিকল্প নেশাদ্রব্যগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে ‘নিউ সাইকোট্রফিক সাবটেনসেস’ বা এনপিএস নামে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ