ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাফের ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত

স্পোর্টস রিপোর্টার: সাফ সুজুকি ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। উল্লেখ্য ২০০৯ সালেও ঢাকায় ফাইনাল খেলেছিল ভারত-মালদ্বীপ। গতকাল বুধবার টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-০ গোলে নেপালকে আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৩-১ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত ফাইনালে উঠেছে। ভারত ও পাকিস্তানের হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি দর্শকদের কাছে ছিল উপভোগ্য। তিনবছর পর ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাফে খেলতে আসা পাকিস্তান ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সেমিফাইনালে এসেছিল। অপরদিকে ৭ বারের শিরোপা জয়ী ভারত সাফের এবারের আসরে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে পাঠিয়েছে। তারা ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে অপরাজিতভাবেই সেমিফাইনালে এসেছে। টেকনিক্যালি এগিয়ে থাকা ভারতের বয়সভিত্তিক দলটিই শেষ পর্যন্ত জয়ী। তবে পাকিস্তান ছেড়ে কথা বলেনি ভারতকে। উত্তেজনায় ঠাসাই ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই। ম্যাচের শেষ ৬ মিনিটে গোল হলো দু’টি। হাতাহাতিতে দুটি লালকার্ডও। ৮৫ মিনিটে ভারতের লালিয়ানজুলা ও পাকিস্তানের মহসনি আলী হাতাহাতি করে মাঠ ছাড়েন লালকার্ড পেয়ে। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তান ব্যবধান ৩-১ করে ২০ জনের ম্যাচে পরিণত হওয়ার পর।
আগের দিন ম্যাচপূর্ব সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের ফেভারিট না বলা যে কৌশল ছিল ভারতের সহকারী কোচ ভেঙ্কটসের তা বুঝতে পেরেছিলেন অনেকে। ভারত মাঠে প্রমাণ করেছে কেন তারা দক্ষিণ এশিয়ার এ টুর্নামেন্টে জাতীয় দল পাঠানো প্রয়োজন মনে করে না। গতকাল বুধবার সাফ সুজুকি কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে একাদশবারের মতো ফাইনালে উঠলো ভারত। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কখনো ফাইনাল খেলেনি পাকিস্তান। তাদের স্বপ্ন ছিল ঢাকায় প্রথমবারের মতো শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে উঠবে। আর এ স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তাদের ব্রাজিলিয়ান কোচ জোসে অ্যান্তনিও নোগেইরা। তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞা থাকা দলটি এশিয়ান গেমসে নেপালকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল। সাফের সেমিফাইনালে উঠে নিজেদের ফেভারিটের তালিকায়ও তুলেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেমিফাইনালে ভারতের সামনে পড়ে বিদায় নিতে হলো তাদের। ভারত এগিয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই। ৪৯ মিনিটে বাম দিক দিয়ে পাকিস্তান ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে গোললাইনের কাছাকাছি গিয়ে ক্রস নেন আশিক কুরুনিয়ান। চলন্ত বলে প্লেসিংয়ে গোল করেন মানবীর সিং। ৬৯ মিনিটে মানবীর সিংয়ের গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। ভিনতি রায়ের পাস ধরে একটু সামনে এগিয়ে বল জালে পাঠান এ ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টে মানবীর সিংয়ের এটি তৃতীয় গোল। ৮৪ মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড সুমিত পাশি। বাম দিক থেকে আশিক কুরুনিয়ানের ক্রসে সুমিত হেডে গোল করেন। ৮৮ মিনিটে ব্যবধান কমান পাকিস্তানের হাসান বশির। বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে গোল করেন এ ফরোয়ার্ড। উল্লেখ্য দক্ষিণ এশিয়ার এই টুর্নামেন্ট শুরুর পর ভারত একবার ফাইনালে ছিল না। ২০০৩ সালে ঢাকায় ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ-মালদ্বীপ। বাকি সব আসরের ফাইনালে ছিল ভারত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ