ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পঞ্চগড়ে স্কুল ছাত্রী নিখোঁজের কিনারা মিলেনি

বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা : পঞ্চগড়ে স্কুল ছাত্রী নিখোঁজের আজো কোন কিনারা মিলেনি। আটোয়ারী উপজেলার রসেয়া দ্বী-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী মুন্সিরহাট গ্রামের সহিদুল ইসলামের পুত্র শাকিল উধাও হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। মেয়েটির বড় ভাই শ্রী কাঞ্চন জানায়, ২৮ জুলাই প্রাইভেট পড়তে গিয়ে আমার বোন আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজা খুঁজির পর তাকে না পেয়ে আমার বাবা সচিন বর্মন ফিলকাটু আটোয়ারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। জিডি নং ৩৭৪ তারিখ ০৯/০৮/১৮ ইং। তিনি আরো জানান,আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল বোনটাকে নিয়ে, পড়ালেখা করে যাতে সে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে তার জন্য বোনকে কোন অভাব বুঝতে দেয়নি। এব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটি আমার বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনির ছাত্রী। তার নিখোঁজের সংবাদ পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেয়েছি। লেখা পড়াই বেশ আগ্রহ ছিল,মেয়েটির ভাগ্যে কি ঘটেছে আমার জানা নেই! যারা তাকে অপহরন করে নিয়ে গেছে তাদের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোন প্রকারে ছাড় না পায়। মেয়েটির সহপাঠিরা জানায়, সে সব সময় হাশিখুশি থাকতো,আমাদের খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাহিদ জানান, ফিলকাটুর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অপহরনের  ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। দীর্ঘদিনেও মেয়েটির কোন খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এর সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিলে সমাজে এরকম ঘটনা অনেকটা কমে আসবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। রসেয়া রাধানগরের সমাজ সেবক জহিরুল ইসলাম জানান, মেয়েটির ভাই কাঞ্চন বোনের অপহরন হওয়ার ঘটনা আমাকে জানায়। আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। কোন কুল কিনারা না পেয়ে মেয়েটির বাবা সচিন বর্মন ফিলকাটু বাদী হয়ে শাকিল ওরফে বাবু,সহিদুল,মজিদ,আলম মিয়া,ইমান আলীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৩। তারিখ ২৮/০৮/১৮ইং। এব্যাপারে জানতে চাইলে  মামলার আইও মুঠো ফোনে জনান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছি। আসামীদের আটক করার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মেয়েটির পরিবারের অপর সদস্যরা জানান,আমরা সনাতন ধর্মের অনুসারী,আর যে  ছেলে আমাদের নাবালিকা মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে গেছে সে মুসলিম ধর্মের। আমরা সমাজে মুখ দেখাবো কি করে? শুনেছি ছেলেটি কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে। মেয়েটি কোথায় আছে কি অবস্থায় আছে? বিষয়টি নিয়ে আমরাও উৎকন্ঠায় আছি বলে এলাকাবাসী এই প্রতিবেদককে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ