ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিয়ে বয়স ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : [দুই]
যেসব আসার (কর্মধারা) এ মতের স¦পক্ষে পেশ করা হয়েছে তা হলো এক.কুদামা ইবনে মাজউন (রাঃ) যুবাইর (রাঃ) এর সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাকে বিবাহ করেন। তিনি অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। বিবাহের পর কুদামা ইবনে মাজউন (রাঃ) ঘোষণা দেন যে তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে যুবাইর (রাঃ) এর উক্ত কন্যা তাহার ত্যক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশ বা মালিক হবে। দুই. হযরত ওমর (রাঃ) তার এক নাবালিকা কন্যার সাথে সাবালক ওরওয়া ইবনে যুবাইর (রঃ) এর বিবাহ দেন। তিন.ওরওয়া ইবনে যুবাইর (রঃ) তার এক ভাইয়ের তরফের নাবালক পুত্রের সাথে অপর এক ভাইয়ের নাবালিকা কন্যার বিবাহ দেন। চার. এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান (রঃ) এর সাথে তার নাবালিকা কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দেয়। তিনি ঐ প্রস্তাব জায়েজ হিসাবে গ্রহণপূর্বক উক্ত নাবালিকাকে গ্রহণ করেন। পাঁচ. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর সাথে একজন মহিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ঐ মহিলার প্রথম স্বামীর তরফের নাবালিকা কন্যার সাথে সাবালক মুসাইব ইবনে নাখবার সাথে বিবাহ দেন। আব্দুলল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বিবাহটিকে জায়েজ বা বৈধ ঘোষণা করেন। উল্লেখিত দুটি ধারার ফকিহগণের মতামত পর্য়ালোচনার পর দ্বিতীয় ধারার ফকিহগণের মতামত শরয়ী দিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলীম উম্মাহকে তাদের ছেলেমেয়েদের যৌবনকালে বিবাহ দেয়ার বা করার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সা.) এর সাথে একটি যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ (সা.) জাবেরকে জিজ্ঞেস করলেন যে তুমি কি বিবাহ করেছ? জাবের (রাঃ) বলেন যে আমি বললাম হ্যা। রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন তোমার স্ত্রী কি কুমারী না পূর্ব বিবাহিতা? জাবের(রাঃ) উত্তর দিলেন পূর্ব বিবাহিতা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন তুমি কেন একজন কুমারী যুবতী মেয়েকে বিয়ে করলে না। যার সাথে তুমি আনন্দ উপভোগ করতে এবং সেও তোমার সাথে আনন্দ উপভোগ করত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪৪)। কুমারী যুবতীদের সাথে যুবকদের বিয়ে হোক নবী করিম (সা.) সেটাই পছন্দ করতেন। জাবের (রাঃ) এর পিতা হযরত আব্দুলল্লাহ (রাঃ) উহুদের যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। ঐ সময়ে জাবের (রাঃ) অবিবাহিত যুবক ছিলেন। তার ৭ জন অবিবাহিতা ভগ্নি ছিল। তাদের দেখাশোনার জন্য জাবের (রাঃ) একজন বয়স্কা পূর্ববিবাহিতা মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন। এ বিষয়ে রাসূলুলল্লাহ (সা.) আরো বলেন, পূর্বে বিবাহ হয়নি এমন মেয়ে বিয়ে করাই তোমাদের জন্য উচিত হবে কেননা তারা মিষ্টি মুখের অধিকারী ও নির্মল জরায়ুধারী এবং অল্পে তুষ্ট চিত্তের হয়ে থাকে। (সুনানে ইবনে মাযাহ, হাদিছ নং ১৮৬১)। আরেকটি হাদিসে দেখা যায় রাসূলুলল্লাহ (সা.) তার উম্মতের যুবকদেরকে পূর্বে বিবাহ হয়নি এমন সুন্দরী ধর্মপরায়না যুবতী স্ত্রী গ্রহণে উৎসাহ দিতেন। (যাদুল মায়াদ,৩য় খণ্ড)।
ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব : ইসলামে সাধারণভাবে নাবালক ও নাবালিকাদের বিবাহ দেয়া বা করানো বৈধ বা জায়েয। কিন্তু এ ধরনের বাল্যবিবাহ সম্পাদন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত কোনটিই নয়। সাবালক পুরুষদের বিবাহ করা কোন কোন ক্ষেত্রে ফরজ । আবার কোন ক্ষেত্রে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সুরা আন্ নিসার ৩ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন “ফানকিহু মা ত্ববা লাকুম মিনান নিসায়ী” অর্থাৎ তোমরা বিবাহ কর মেয়েদের মধ্য থেকে যাকে তোমার ভাল লাগে। বিবাহ করার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে গিয়ে নবী করীম (সা.) বলেন যে, হে যুবকদল তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। আর যে বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোজা রাখে । রোজা যৌন মিলনের ইচ্ছাকে দমন করে। সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৯২। সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪০০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৬৯২। রাসূলুল্লাহ (সা.) পরুষদের যৌন মিলনের ইচ্ছাকে দমন করার জন্য খাশি (vasectomy) হতে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (সা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম। আমাদের সাথে স্ত্রীরা থাকত না। তাই আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতাম আমরাকি খাশি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে খাশি হতে নিষেধ করলেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৭১) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনজন সাহাবীর একটি দল রাসূলুল্লাহ (সা.) এর স্ত্রীদের নিকট আসলেন (এবং নবী করীম (সা.) এর স্ত্রীর নিকট তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন)। জিজ্ঞাসার জবাবে নবী করীম (সা.) এর ইবাদত সম্পর্কে তাদেরকে জানানো হলে তারা (নবী সঃ) এর ইবাদতকে কম মনে করলেন এবং মন্তব্য করলেন যে আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তুলনা হয় না। কারণ তাঁর আগের এবং পরের গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। তাদের একজন বলল আমি আমার বাকী জীবন সমস্ত রাত জুড়ে এবাদত করব। আর একজন বলল আমি সবসময় রোজা রাখব। আর একজন বলল আমি নারী সঙ্গ ত্যাগ করব (এধরনের কথোপকথন চলা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের মাঝে আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন তোমরাই কি তারা যারা এসব কথা বলেছ?)। (তারা হ্যা বললে) রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন আল্লাহর শপথ আমি তোমাদের থেকে অনেক বেশী আলল্লাহকে ভয় করি এবং তোমাদের থেকে আল্লাহর প্রতি বেশী অনুগত। আমি রোজা রাখি (নফল) আবার তা থেকে বিরতও থাকি। নামায (নফল) আদায় করি। আবার ঘুমিয়ে পড়ি এবং আমি মেয়েদেরকে বিবাহ করি । যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ ভাব পোষণ করবে সে আমার উম্মাত (দলভুক্ত) নয়। সহীহ বুখারী হাদিস নং ৫০৬৩, সহীহ মুসলিম হাদিস নং ১৪০১। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বিবাহ করাকে অবশ্য পালনীয় সুন্নাত হিসাবে ঘোষণা করেছেন এবং সামর্থ্য থাকা স্বত্ত্বেও সুন্নাতটি পালন না করলে উম্মতে মুহাম্মদী হিসাবে গণ্য হবে না মর্মেও ঘোষণা করেছেন। বিবাহ করার বিষয়ে সমস্ত তাগিদ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর নারীদের প্রতি দেয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ ফরজ বা সুন্নাত এই মর্মে কোন ঘোষণা কুরআন মজীদ কিংবা হাদীসে রাসূলে বর্ণিত হয়নি । কোন সমাজ বা রাষ্ট্রের মুসলমানরা যদি সম্পূর্ণরূপে বাল্যবিবাহ সম্পাদন থেকে বিরত থাকে তাতে গোনাহ হবে বা ইসলামী শরীয়া লংঘন হবে এমন কোন কথাও কোরআন হাদীসে বর্ণিত হয় নাই।
ইসলামী আইনে বিবাহ কোন পবিত্র বন্ধন বা sacrament নয় বরং ইসলামী আইনে বিবাহ এক ধরনের সোস্যাল কন্ট্রাক্ট বা সামাজিক, পারিবারিক চুক্তি মাত্র। এ বিবাহ চুক্তির অধীনে কোন সমাজের দুজন নারী এবং পুরুষ একত্রে বসবাস এবং সন্তান গ্রহণ ও পরষ্পরের উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য শরীয়তের বিধান মোতাবেক এ ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হন। যা যে কোন সময় খন্ডনযোগ্য।
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে জটিলতা : ইসলামী শরীয়তে যেহেতু বাল্যবিবাহ পরিহার করার ক্ষেত্রে কোন গোনাহ নেই। সে কারণে বাল্যবিবাহ পরিহার করাই বেশী যুক্তিযুক্ত। পৃথিবীর সবদেশের ছেলেমেয়েরা ছোট বেলায় একইভাবে বেড়ে উঠে না। পৃথিবীর অনেক দেশের ছেলেমেয়েরা নয়, দশ, এগার বা বার বছর বয়সের মধ্যে বিশাল এক শক্তিশালী দেহের অধিকারী হয়। যেমন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন প্রদেশ, আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশ সমূহের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারতের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আমাদের বাংলাদেশের মেয়েরা ষোল থেকে আঠারো বছরের আগে এবং ছেলেরা আঠারো থেকে তেইশ বছরের আগে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বিবাহের জন্য শক্তিশালী দেহের অধিকারী হয় না। তাছাড়াও বিবাহের পর দাম্পত্য জীবন যাপন,সন্তান গ্রহণ এবং সন্তান প্রতিপালনের ন্যায় দায়িত্বপালনের জন্য মানসিক ক্ষমতার অধিকারী হয় না। স্বল্পসংখ্যক ছেলে মেয়ে বার, তের, চৌদ্দ বৎসরের মধ্যেই সুস্থ সবল দেহের অধিকারি হতে দেখা যায়। কিন্তু সে সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। আমাদের দেশের প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে নানারূপ জটিলতার সৃষ্টি করেছে। আমার জানা একটি উদাহরন তুলে ধরছি। দুজন অন্তরঙ্গ বন্ধু তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে চির স্মরণীয় করে রাখার জন্য তাদের সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যা ও পুত্রের সাথে বিবাহ দেয়। এ ধরনের বিবাহকে কোলাকুলি বিবাহ বলা হত। ছেলে শিশুটি বেড়ে উঠার একপর্যায়ে খারাপ বন্ধুদের সংস্পর্শে এসে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। পড়াশোনায় ভাল রেজাল্ট করতে না পেরে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে থেমে যায়। কিন্তু মেয়ে শিশুটি সুস্থ শরীরে বেড়ে উঠে। লেখাপড়াতেও ভাল ফলাফল করে। একপর্য়ায়ে বাল্যবিবাহটি অকার্যকর হয়ে যায়। বাল্যবিবাহটি অকার্যকর হবার কারনে দু বন্ধুর বন্ধুত্বের বন্ধন চিরতরে ছিন্ন হয়ে যায়।
মেয়েটি ভাল ছাত্রী হিসেবে স্নাতোকোত্তর পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে উত্তীর্ণ হলেও তার পরিবারকে মেয়েটির পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এ ধরনের জটিলতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার জন্য মেয়েটি দায়ী ছিল না। বরং তার পিতার সম্পাদিত বাল্যবিবাহই জটিলতার সৃষ্টি করেছিল। দুজন কিশোর কিশোরীর মধ্যে বা একজন পরিপূর্ণ সাবালক যুবক এবং একজন কিশোরীর মধ্যে বিবাহ দেয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। ধরা যাক কোন নাবালিকা মেয়ে যাকে নাবালক অবস্থায় তার পিতা বা কোন অভিভাবক বিবাহ দিয়েছিল। সে যদি সাবালকত্ব অর্জনের পর দেখে যে তার স্বামী অশিক্ষিত বা মাদকাসক্ত বা কর্কশ স্বভাবের। তাহলে স্বামীর সাথে যৌনমিলনের পূর্বেই মেয়েটি তার বাল্যবিবাহ বাতিল করার অধিকার রাখে। ইসলামে এ ধরনের একটি সুন্দর নীতিমালা ইসলামে থাকার পরেও বাল্যবিবাহের কারনে মেয়েটির পরবর্তী বিবাহের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হবে না তা কোনভাবেই বলা যাবে না । রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যুগে এবং পরবর্তীকালে সাহাবায়ে কেরামের যুগে তালাকপ্রাপ্তা বা বিবাহিতা কোন নারী অবিবাহিতা থাকত না। আমাদের দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। আমাদের দেশের তালাকপ্রাপ্তা বিধবা মেয়েদের পরবর্তী বিবাহ সহজসাধ্য নয়। আমাদের দেশের স্বাভাবিক সংস্কার হলো একজন অবিবাহিত যুবক অবশ্যই একজন অবিাহিতা মেয়েকে বিবাহ করবে। আর তালাকপ্রাপ্তা বা বাধ্য হয়ে তালাক গ্রহনকারী এবং বিধবা মেয়েরা যত সুন্দরই হোক তাদের বিবাহ হবে বয়স্ক কোন পুরুষের সাথে বা যাদের স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছে বা ঘড়ে পূর্বের স্ত্রী আছে এমন পুরুষের সাথে বিবাহ দিতে হয়। ইদানিংকালে কিছু কিছু ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহ পরিহার করাই হবে যুক্তিযুক্ত। তবে উঠতি বয়সের কিশোর কিশোরীদের মধ্যে অবাধ মেলামেশার ফলে যাতে কোন মেয়ে কিশোরী বয়সে গর্ভধারন না করে, সেদিকে অভিভাবকদের কড়া নজর রাখতে হবে। শিশু বা কিশোর বয়সে ছেলেমেয়েদের বিবাহ দেয়া হলে তারা একটা বন্দী বা শৃঙ্খলিত জীবন নিয়ে তারা পরিপূর্ণ সাবালকত্বের বয়সে পা দেয়। অনেক সময় এ ধরনের বিবাহের মাধ্যমে জুড়ে দেয়া স্বামী স্ত্রীর সংসার সুখের হয় না। দুটি পরিবারের সু সম্পর্কের কারনেই সাধারণত এধরনের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কোন কারণে এধরনের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দুটি পরিবার পরষ্পর শত্রুতে পরিণত হয়। বাল্যবিবাহ সম্পাদন এবং পরিহার দুটিই ইসলামে জায়েজ। যে জায়েজটি সমাজের জন্য বেশী কল্যাণকর সেটি গ্রহণ করা উচিৎ। ইসলামে এই নীতিমালাকে ইস্তিহ্সান বলা হয়। অর্থাৎ দুটি ভালর মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালটিকে গ্রহন করা। বাল্য বিবাহ আইনের মাধ্যমে বন্ধ করার চাইতে এর কুফল তুলে ধরে গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই যথেষ্ঠ হবে। গণসচেতনতা সৃষ্টি হলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়াও আমাদের দেশের জনগনের বিরাট একটি অংশ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। অনেক সময় হতদরিদ্র ঘরের পিতা মাতারা তাদের তরুণী বা যুবতী মেয়েকে আর্থিকভাবে সচ্চল অতিবয়স্ক পুরুষদের সাথে বিবাহ দেন। এধরনের বিবাহ এখনও সংঘটিত হচ্ছে। এধরনের বিবাহে কিছুদিনের মধ্যে অনেক মেয়েই বিধবা হন। তাদের যৌবনের বিরাট একটি অংশ বৈধব্য জীবন নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয়।
ইসলামী বিবাহ আইনের খিয়ারই বুলুগ নীতি
নাবালক বা নাবালিকার বিবাহ তাদের পিতা বা অভিভাবক কতৃক নাবালক অবস্থায় সম্পাদিত হইয়া থাকিলে সাবালকত্ব অর্জনের পর ঐ ধরনের বিবাহ বাতিল করার অধিকার ছেলেমেয়েদের রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ