ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজপথের আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায় সম্ভব নয়

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতীকী অনশন করেছে বিএনপি। সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে একযোগে এই প্রতীক অনশনের কর্মসূচি পালিত হয়। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয়ভাবে অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। দুই ঘন্টার প্রতীকী অনশন ভাঙ্গান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ।
রাজধানীর অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি ও জোটের নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বড় ধরনের কর্মসূচি আসছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আজকে সারা দেশে জনগণ ও বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবাই একবাক্যে বলছে, আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলছে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আমরা বলতে চাই, দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এদেশে হতে পারে না, হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আর এদেশে হবে না। নেতৃবৃন্দ কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলেছেন, সরকার ষড়যন্ত্র করে দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তি দিচ্ছে না। এজন্য তার মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। তাকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আগামী সংসদে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশবাসী।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির উদ্যোগে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের সামনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই প্রতীক অনশন হয়। এতে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও অনশনে যোগ দেন। বেলা ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির এটি তৃতীয় অনশন কর্মসূচি। সর্বশেষ তারা গত ৯ জুলাই মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গনে ৭ ঘন্টার প্রতীক অনশন করে। এর আগে তিন ঘন্টার অনশন করেছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি মানববন্ধন, প্রতীক অনশন, অবস্থান, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, লিফলেট বিতরণ, বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আসছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় প্রতীক অনশনে বিএনপির স্থায়ীকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান,নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা বেগম সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, নাজিমউদ্দিন আলম, মহানগর দক্ষিনের কাজী আবুল বাশার, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের আজহারুল ইসলাম, কল্যাণ পার্টির সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম, শাহাবাগ থানা আমীর আহসান হাবিব, মতিঝিল থানা সেক্রেটারি মুতাসিম বিল্লাহ সহ বিপুলসংখ্যক জামায়াত নেতা-কর্মী ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল রিজভী, সহ দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদসহ অফিস কর্মীরা বসে এই প্রতীক অনশনে অংশ নেয়। ফেব্রুয়ারি থেকে একটানাভাবে রিজভী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।
রাজধানীতে দুই ঘন্টার অনশন শেষে সমাপনি বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে সারা দেশে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণ ও বিভিন্ন দলের মধ্যে যে, আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আজকে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলছে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আমরা বলতে চাই, দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন এদেশে হতে পারে না,হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর এদেশে পূনরাবৃত্তি হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করেই আমরা আগামী নির্বাচন করব।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা দাবি করছি অনতিবিলম্বে তাকে তার পছন্দমতো একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে কোনো প্রকার বিচারের আওতায় আনা যায় না। তাই তার আশু সুস্থতা প্রদান প্রয়োজন, তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে হাসপাতালে নিন।
তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দী। দেশের জনগণ, বিএনপি, ২০ দল, তার বাইরেও অনেক রাজনৈতিক দল সকলে ঐকমত্য হয়েছে যে, এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তার জন্য প্রথম প্রয়োজন গনতন্ত্রের মুক্তি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। সরকার একটি অবৈধ ও মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে নিয়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।
একাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবির কথা তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, সারাদেশের মানুষ ঐকমত্য হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, তফসিল ঘোষণার আগে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এ বিষয়ে আজকে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
 এই অনশন কর্মসূচি থেকে আমরা আহবান জানাতে চাই, দেশের জনগন ও সকল দল যারা এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের সকলকে জাতীয় ঐক্যে একত্রিত হয়ে আগামী দিনে আন্দোলনে অংশ গ্রহনের জন্য প্রস্তুতি নিন।
দলের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গায়েবী’ মামলা দায়ের ও নির্যাতনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা বলতে সরকারকে যে, আপনাদের সময় শেষ। পুলিশ বাহিনীকে বলছি এভাবে গণগ্রেফতার করে নির্যাতন চালাবেন না। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারি, আপনারা আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা-কর্মচারি নন। আমি আহবান জানাব, দেশের আইন বিভাগ থেকে শুরু করে, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন আপনারা আওয়ামী লীগের নির্দেশিত পথে আর নির্যাতন করবেন না। এসব বন্ধ করুন। প্রজতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারি হিসেবে কাজ করুন, দলীয় হিসেবে কাজ করবেন না।
আন্দোলনের স্তুতির আহবান জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, উচ্চতম আদালত জামিন দেওয়ার পরেও নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারের ইন্ধনে সরকারের প্রভাবে তার জামিন বিলম্বিত করেছে। বিষয়টি স্পষ্ট সরকার চায় না বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত পাক। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি আর সম্ভবপর নয় বলে আমি মনে করি। তার মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ। এই রাজপথের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আনতে হবে। আমাদের যে আন্দোলন চলছে এই আন্দোলন বেগবান হবে, এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায় যাবে যেদিন এই সরকারের পতন আসবে। সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যেই কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের নৌকা পানিকে ভেসে যাবে। আর আছে মাত্র মাসখানেক সময়। এ সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে করে এবার রাস্তায় নামলে যাতে বাড়িতে ফিরে কেউ না যায় আন্দোলন সফল না করা পর্যন্ত এই আহবান আমি জানাচ্ছি।
মওদুদ আহমদ আরো বলেন, আমরা বলেছিলাম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্জন কারাবাস সংবিধান পরিপন্থি। তাকে একটি পরিত্যক্ত দালানের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখন জেলখানার ভেতরে নির্জন আদালত। একজন মন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপির আইনজীবীরা নাকী আইন জানেন না। উনি একটি ফোজদারি কার্যবিধি আইনের সেকশন নাইনের কথা উল্লেখ করেছেন। উনি (ওই মন্ত্রী) ভুলে গেছেন সংবিধান সর্বোচ্চ আইন, সমস্ত আইনের উর্ধ্বে সংবিধান। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) বলা আছে, যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির আসামীর বিচার উন্মুক্ত আদালতে হতে হবে, প্রকাশ্যে হতে হবে। তো সংবিধান বড় না যে আইনের কথা বলেছেন সেটা বড়। এটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক যে কারাগারের ভেতরে যে আদালতে তার বিচার করা হয়েছে। নিম্ন আদালতের মাধ্যমে সরকারের প্রভাবে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, প্রত্যেকটি থানায় হাজার হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দেয়া হয়েছে। ভয়ে কম্পমান এই সরকার। এতো অত্যাচারের পরেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘরে বসে থাকেনি এবং ঘরে বসে থাকবে না। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ। তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে যাবো।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের মধ্যে যদি কেউ মনে করে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, আমাদের মাঝে যদি কেউ আড়ালে-আবদালে নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করে তাদেরকে ঘরের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য আপনারা সজাগ থাকবেন। বিগত দিনে ১/১১ যারা যারা বেঈমানী করেছিলো তারা হয়ত অনেকেই ভালো। কিন্তু নতুন করে যদি আবার বেঈমানী করতে চায়, তাদের সমচিত জবাব দেবে রাজপথে নেমে। শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত করে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে তার আগে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগন কোনো নির্বাচন করতে দেবে না।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ। তাকে সুস্থ করতে সরকারের কোনও প্রচেষ্টা নেই। বরং খালেদা জিয়াকে জেলখানায় তিলে তিলে মারার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারের ভেতরে অবস্থিত আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেছেন ‘আমি অসুস্থ। বার বার হাজিরা দিতে আসতে পারবো না। এখানে ন্যায় বিচার হয় না। তাই, যা ইচ্ছে সাজা দেন। আমি আসতে পারবো না।’ কাজেই নেত্রীর বার্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমরাও বলছি এই আদালতের রায় আমরা মানি না। দেশের জনগণও মানে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় ভোট ছাড়া। নির্বাচনে ভোট দেয় দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও দলীয় এজেন্টরা’- বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এই দেশের কোটি কোটি মানুষ খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে আগামী দিনে দেশের চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই গণতান্ত্রিক লড়াই চলবে। সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করবো। এ সময় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
অনশন ভাঙ্গিয়ে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন বলেন, আজকে গণতন্ত্র ভুলণ্ঠিত। ৭১-এ ত্যাগ তীতিক্ষায় অর্জিত গণতন্ত্র ভেসতে গেছে। এর থেকে উত্তরণের পথ আগামী জাতীয় নির্বাচন। যে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কারণ আমরা আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র হারিয়েছি। তা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরে পেতে চাই।
ঢাবির সাবেক এই ভিসি আরো বলেন, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তি অপরিহার্য। আজ গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। মামলা প্রত্যাহার ও নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে দিতে হবে।
গাজীপুর সংবাদদাতা : বিএনপি’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গাজীপুর মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে বুধবার সকাল ১০টায় শহরের রাজবাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো: সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতীকী কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদী, মাহ্বুবুল আলম গোলাপ, মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স, আশরাফ হোসেন টুলু, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, বশির আহমেদ বাচ্চু, হুমায়ন কবির রাজু, জয়নাল আবেদীন তালুকদার, নাহীন আহমেদ মমতাজী,  প্রফেসার নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম, সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, প্রভাষক বশির আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, সাইফুল ইসলাম টুটুল, আব্দুর রহিম কালা, জিএস স্বপন, শরিফ আজাদ, ইদ্রিস খান, রাজু মাষ্টার, এড শহিদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী অফিস : রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, এই দেশ কারো বাবার নয়। এই দেশ কারো নিকট লিজ বা বিক্রি করা হয়নি। এই দেশ ষোলকোটি মানুষের। এই দেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে আর ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচীতে এ সব কথা বলেন তিনি। এসময় বক্তারা গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার ও নিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
বুধবার সকালে নগরীর ভুবনমোহন পার্কে আয়োজিত অনশন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বেগম জিয়ার মুক্তি ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকারের অধীনেই করতে হবে। বেগম জিয়া মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আর কাউকে ভোট ডাকাতিও করতে দেয়া হবে না।’ অনশন কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত খালেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, বাগামারা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। অনশন শেষে নেতাকর্মীদের অনশন ভাঙান শফিকুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ পারভেজ পিন্টু, কাউন্সিলর শাহজাহান আলী, বেলাল হোসেন ও টুটুল, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইল হিকল, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্টো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, জেলা স্বেচ্চাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামান পরাগ, মহানরগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর তারেক খালেদ, তাঁতী দলের সভাপতি আরিফুল শেখ বনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেদুল ইসলাম মাসুম, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট রগশন আরাসহ অনশন কর্মসূচীতে মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর অফিস : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করে মুক্তির দাবিতে রংপুর মহানগরীতে প্রতীকী অনশন করেছে মহানগর ও জেলা বিএনপি। গতকাল বুধবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই কর্মসুচি পালিত হয়। অনশন চলাকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প সম্পাদক, মহানগর বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক এমপি সাহিদা রহমান জোসনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রন্টু, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফিরোজ আলম, রংপুর সিটির সাবেক কাউন্সিলর মহিলাদল নেত্রী আরজানা সালেক, মহানগর প্রচার সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল আরেফীন রুবেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুর হাসান সুমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান জাহিদ প্রমুখ। রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জুস পান করিয়ে প্রতীকী অনশন ভঙ্গ করান।
চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাাতা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় প্রতীকি অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। গতকাল বুধবার বেলা ১০টায় এসব পালন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের অনুসারীরা  শহরের ফিরোজ রোডে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে, জেলা বিএনপির য্গ্মু আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলার অনুসারীরা শহরের শহীদ আবুল কাশেম সড়কে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফুজ্জামান শরীফের অনুসারীরা চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে প্রতীকি অনশন কর্মসূচি পালন করে।
খুলনা অফিস : খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির পৃথক প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দেশে কোন গণতান্ত্রিক পন্থার নির্বাচন হতে পারেনা। সেটি হবে অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার চক্রান্ত। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেই, কারাগারে আটকে রেখে বিনা চিকিৎসায় বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার নীলনকশা তৈরি করছে। এ সরকরের পতন ঘন্টা বেজে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, র‌্যাব-পুলিশ-ডিবি লেলিয়ে দিয়ে গুম-খুন-মিথ্যা মামলায় গণগ্রেফতার করে তাদের শেষ রক্ষা হবেনা। গতকাল বুধবার সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন চলাকালে নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন। নগরীর কে ডি  ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপির অনশন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগরী সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিএনপি নেতা অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপুর পরিচালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ কান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম মেঝ ভাই, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ। দুপুর ১২ টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি বর্ষিয়ান জননেতা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। অপরদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে খুলনায় জেলা বিএনপি আয়োজিত অনশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা । কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, খান জুলফিকার আলী জুলু, কামরুজ্জামান টুকু, চৌধুরী কওসার আলী, খান আলী মুনসুর, মেজবাউল আলম, সাইফুর রহমান মিন্টু, এডভোকেট মাসুম আল রশিদ, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, আব্দুর রকিব মল্লিক, এস এ রহমান বাবুল, মোস্তফা উল বারী লাভলু, এডভোকেট শহিদুল আলম, শামসুল আলম পিন্টু, মুর্শিদুর রহমান লিটন, ওয়াহিদুজ্জামান রানা, শামীম কবির, তৈয়েবুর রহমান, উজ্জল কুমার সাহা, আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, সরফরাজ হিরো, শেখ হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম জনি, মোল্লা সাইফুর রহমান, নুরুল আমীন বাবুল, খন্দকার ফারুক হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন, মিরাজুর রহমান মিরাজ, কামরুল ইসলাম সিপার, সাইফুল হাসান রবি, মনিরুজ্জামান বেল্টু, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, অধ্যাপক আইয়ুব আলী, কাজী ওয়াইজউদ্দিন সান্টু, রফিকুল ইসলাম বাবু, জসিমউদ্দিন লাবু, শামসুল বারিক পান্না, এডভোকেট আলফাজ হোসেন, এডভোকেট মাসুদ করিম, রাহাত আলী লাচ্চু, তানভীরুল আজিম রুম্মান, আব্দুল মালেক, শাহানুর রহমান আরজু, ডা. আলমগীর হোসেন, বিকাশ মিত্র, আবুল কালাম লস্কর, মোফাজ্জল হোসেন মফু, শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু, সরদার আব্দুল মতিন, আমিনুল ইসলাম পলাশ, আসলাম পারভেজ, চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, গাজী জাকির হোসেন, মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সেলিম সরদার, এডভোকেট সেতারা সুলতানা, নাসিমা পলি, রেহানা পারভীন, কামরুল ইসলাম টুকু, হারুনর রশিদ, মোকাররম হোসেন, কবীর হাসান ডাবলু, ফ ম মনিরুল ইসলাম, মো. হালিম শেখ, শাহিনুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবু হানিফ, আব্দুল মান্নান খান, সরদার আব্দুল মালেক, জয়নুল আবেদীন সাগর, সরোয়ার হোসেন, সাইফুল মোড়ল, জহুর আকুঞ্জি, মশিউর রহমান লিটন, মিঠু মোল্লা, ইউসুফ আলী, জাহাঙ্গীর লস্কর, বাদশা গাজী, রেজাউল ইসলাম রাজ, দিদারুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম তারেক, সহিদুল ইসলাম ছোট্ট, ফারুক হোসেন, শহিদুল ইসলাম, মো. খোকন, আবু জাফর, বাহাদুর মুন্সি, মো. আবু জাফর, সরদার তাহেরুল ইসলাম তাহের, খানজাহান শেখ, আনোয়ার হোসেন আনু, আব্দুর রব আকুঞ্জি, মো. মিলন, মোস্তাকিন বিল্লাহ, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
নওগাঁ সংবাদদাতা : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে নওগাঁয় প্রতীকী অনশন পালন করেছে জেলা বিএনপি। বুধবার বেলা ১২ টায় শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনের সড়কে এ প্রতীকী অনশন পালন করে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব নাজমুল হক সনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনশনে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক এমপি সামসুল আলম প্রামানিক ও রায়হান আকতার রনি, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম টুকু ও আমিনুল হক বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন ও শফিউল আজম ওরফে ভিপি রানা,  শহর বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন আহমেদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আব্দুল মতিন, জেলা মহিলা দলের সদস্য সচিব শবনম মোস্তারী কলি, যুবদলের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন পলাশ, সাধারন সম্পাদক খায়রুল আলম গোল্ডেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক দোহা সহ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান। না হলে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলে জানান তারা। অনশনে জেলার ১১টি উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহন করেন।
সিলেট ব্যুরো : সিলেট বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অন্যায়ভাবে তাকে কারাগারে আটকে রেখেছে। কারাগারে আটকে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি, এখন বিনা চিকিৎসায় তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।
গতকাল বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রতীকি অনশনে বক্তারা এ কথা বলেন। নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা ১১টায় এ কর্মসূচি শুরু হয়ে ১টায় শেষ হয়। পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শামীমুর রহমান পানি পান করিয়ে নেতাকর্মীদের অনশন ভাঙান। প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনশনে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে ও মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতীকি অনশন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহ্বুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সহসভাপতি একেএম তারেক কালাম, জালাল উদ্দিন চেয়ারম্যান, ওসমান গণি, মহানগর সহসভাপতি মুফতি বদরুন নুর সায়েক, আব্দুস সাত্তার, ফাত্তাহ বকশী, অধ্যাপক সামিয়া বেগম চৌধুরী, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বাচ্চু, হুমায়ুন আহমদ মাসুক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহ্বুব চৌধুরী, জেলা সাংগঠনিক আবুল কাশেম, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল আহমদ মোর্শেদ, মহানগর দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, জেলা দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মো. ফখরুল হক, জেলা প্রকাশনা এডভোকেট আল আসলাম মুমিন, মহানগর প্রকাশনা সম্পাদক জাকির হোসেন মজুমদার, জেলা শ্রম সম্পাদক সুরমান আলী, মহানগর শ্রম সম্পাদক ইউনুস মিয়া, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, মহানগর মহিলা দল সভাপতি জাহানারা ইয়াসমিন, জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক লায়েছ আহমদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হাবিব আহমদ চৌধুরী শিলু, আপ্যায়ন সম্পাদক আফজাল উদ্দিন, জেলা ধর্ম সম্পাদক আল মামুন খান, স্বাস্থ্য সম্পাদক আ.ফ.ম কামাল, তাঁতী সম্পাদক অহিদ তালুকদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ