ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির শত শত টন চাল কালোবাজারে

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : খোলাবাজারের চাল কালোবাজারে-এটা নিয়ত সংবাদ শিরোনাম। তার সাথে বিভিন্ন কর্মসূচির সরকারি চাল কালোবাজারে ছড়িয়ে পড়ে-এমন সংবাদও মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়। সম্প্রতি খোলাবাজারের চালসহ বিভিন্ন কর্মসূচির চাল কালোবাজারে চলে যাচ্ছে খোদ খাদ্য বিভাগের লোকজনের মাধ্যমেই। ওইসব লোকজনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোটা দেশে। জড়িত সিন্ডিকেট থাকছে বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা কালেভদ্রে ধরা পড়েন তারা ‘চুনোপুটি’ মাত্র। এই চুনোপুটিরাই পড়েন আইনী বেড়াজালে। আর ওই জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যায় রাঘব বোয়াল নামক ‘সিন্ডিকেট’।
এদিকে, খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দেশের সরকারি খাদ্য গুদামের সাথে জড়িয়ে আছে একটি অনিয়ম-দুর্নীতির সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের সাথে তাল মেলায় কালোবাজারের সিন্ডিকেট। এই দুই চক্র মিলেই সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির খাদ্যশস্য লোপাট করে। প্রায়শঃই খবর পাওয়া যায়, খাদ্যগুদামে খাদ্য শস্য নেই, লোপাট হয়েছে। তারা পাচার করে অন্যত্র বিক্রি করে ফায়দা লুটেছে-এমন খবরও ভূরি ভূরি।
সর্বশেষ গত শনি ও রোববার অভিযান চালিয়ে কালোবাজারে পাচার করা ওএমএসের ২১৫ টন চাল-আটা জব্দ করে র‌্যাব। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, তেজগাঁও কেন্দ্রীয় সরকারি খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর, প্রধান নিরাপত্তারক্ষী মো. হারেজ, গেট শাখাপ্রধান ইউনুছ আলী মন্ডলসহ একটি চক্র এই জালিয়াতিতে জড়িত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এক বছর আগে র‌্যাবের দেয়া সিএসডির দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও এদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হয়েও তারা কী করে বহাল তবিয়তে সেখানে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। এদিকে, সিএসডির পণ্য জালিয়াতিতে জড়িত থাকার ঘটনায় চালের ১২ পাইকারি আড়তদার, ঠিকাদারসহ ২৩ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, তেজগাঁও কেন্দ্রীয় সরকারি খাদ্যগুদামকে (সিএসডি) ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির জাল পেতে বসে আছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের জন্য রাখা চাল-আটা বাইরে পাচার করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিএসডি থেকে চাল-গম আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত আটজনের তথ্য পায় র‌্যাব। তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা লিখিত চিঠি দেন দুদকসহ সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে। কিন্তু গত এক বছরেও এতে কোনো ফল আসেনি; বরং খাদ্যগুদাম ঘিরে তৎপর ছিল পুরনো 'কালো বিড়াল'রা।
র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বলেন, ২০১৭ সালে সিএসডি ঘিরে একটি অপরাধ চক্র শনাক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি চালাচালিও হয়। এক বছর পর চলতি সপ্তাহে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আবারও সিএসডি ঘিরে জালিয়াত চক্রের সক্রিয় থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে আগে যাদের নাম এসেছিল, তাদের অনেকেও আছে। অন্যদের ব্যাপারে তদন্ত করতে দুদককে চিঠি দেয়া হচ্ছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে র‌্যাব তেজগাঁও সিএসডির খাদ্যগুদামের সামনে থেকে চালবোঝাই দুটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ব-ন-৯৩৫৬ ও ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৯১২০) জব্দ করে। পরে নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলার আধা-সরকারি পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য ৩০ টন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১৩ নম্বর গুদাম থেকে ৫০০টি ও ৩ নম্বর গুদাম থেকে ৫০২টি চালের বস্তা দুটি ট্রাকে তুলে সাংসদের প্রতিনিধি হায়দার আলীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই এমপির প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, প্রতিটি বস্তায় চাল কম দেয়া হয়েছে। সিএসডির কর্মকর্তারা তখন অ্যানালগ ওজন সেতুতে জালিয়াতি করে হায়দার আলীকে নিশ্চিত করেন, সেখানে ৩০ টন চালই আছে।
কিন্তু একই রাতে সিএসডির ডিজিটাল ওজন সেতুতে পরিমাপ করে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৯১২০ নম্বর ট্রাকে চার হাজার ৭০৫ কেজি ও ঢাকা মেট্রো-ন-৯৩৫৬ নম্বর ট্রাকে চার হাজার ৭৯০ কেজি চাল কম রয়েছে। জালিয়াতি করে দুটি ট্রাকে মোট নয় হাজার ৪৯৫ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত ডিও রেজিস্টার ও বোঝাই এবং খালাসের নথি পর্যালোচনায় উঠে আসে, জেলা আনসার-ভিডিপিকে ৩, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর গুদাম থেকে ২৫৮ টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু আনসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিশ্চিত করেন, ৭৫ টন চাল পাওয়া গেছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, বাকি ১৮৩ টন চাল কোথায় গেছে। কারণ, প্রধান ফটকে রক্ষিত রেজিস্টারে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২৫৮ টন চালই সিএসডি থেকে বের করা হয়েছে।
এ ঘটনার অনুসন্ধানে সিএসডির ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর, প্রধান নিরাপত্তারক্ষী মো. হারেজ, গেট শাখার ইনচার্জ ইউনুছ আলী মন্ডল, ওজন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত পাপিয়া সুলতানা, ৩ নম্বর গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নান্নু, ১৩ নম্বর গুদামের মামুন এবং ৪ ও ৩৪ নম্বর গুদামের ইনচার্জ আবু সাঈদের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। র‌্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, হারেজ কালোবাজারিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জালিয়াতি করে আসছেন। বিভিন্ন অভিযোগে তাকে বদলি করা হলেও তিনি সিএসডিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ইউনুছ আলী কাগজপত্রের তারিখ পরিবর্তন করে কালোবাজারিদের সহায়তা করেন। নান্নু ও মামুন তার সহকর্মী পাপিয়ার সহযোগিতায় কম চাল দেন। গুদাম ইনচার্জ আবু সাঈদ ওজনে কম চাল দিয়ে রেখে দেয়া অতিরিক্ত চাল বাইরে বিক্রি করেন। ১ ও ২ নম্বর গুদাম ইনচার্জ আবদুল কাদের বকসি দীর্ঘদিন ধরে গুদামের দায়িত্বে ছিলেন। কালোবাজারির সঙ্গে যোগসাজশে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তিনি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন।
সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিএসডিতে দুর্নীতিবাজরা এতই বেপরোয়া যে সেখানে সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা পোস্টিং পেলেও আতঙ্কে যেতে চান না। আবার অনেকে গেলেও বেশিদিন টিকতে পারেন না।
ওএমএসের খাদ্যশস্য পাচারের ঘটনায় মামলা
খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমের খাদ্যশস্য পাচারের ঘটনায় তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের (সিএসডি) ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্র জানায়, মামলার এজাহারে তেজগাঁও সিএসডির চেকপোস্ট ইনচার্জ সুমন, প্রধান দারোয়ান হারেজ, দারোয়ান বাবুল, স্টক শাখার ইনচার্জ শুকুর আলী হালদার, গেট শাখার ইনচার্জ ইউনুছ আলী মন্ডল, ডিও শাখার ইনচার্জ কাজী মাহমুদ, শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আলমগীর সৈকত, সভাপতি দুদু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর, ঢাকার কদমতলীর মো. নজরুল ইসলাম ও পোস্তগোলার মো. জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও চোরাই চাল বেচাকেনায় জড়িত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জামি রাইস এজেন্সির মো. ইকবাল হোসেন, ছালেক এজেন্সির মো. সালাউদ্দিন, এশিয়ান ট্রেডার্সের মো. মিসকাতুর রহমান, বন্ধু রাইস এজেন্সির মো. নজরুল ইসলাম, রাহমানিয়া রাইস এজেন্সির মো. বিল্লাল হোসেন, কর্ণফুলী রাইস এজেন্সির মো. গোলাম কিবরিয়া, সুগন্ধা ট্রেডিংয়ের মো. গোলাম মোস্তফা, মহানগর এন্টারপ্রাইজের মো. তৈয়বুর রহমান, এপি সুগন্ধার হাজী মো. হান্নান, জননী এন্টারপ্রাইজের মো. শাহ আলম ও সূর্য এন্টারপ্রাইজের মো. কবির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিজিএফ'র ৫১০ বস্তা চালসহ ব্যবসায়ী আটক
ভিজিএফের ৫১০ বস্তা চালসহ ব্যবসায়ী আটক  শেরপুরের নকলায় অতি দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রমের আওতায় ‘ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং’ (ভিজিএফ) কর্মসূচির ৫১০ বস্তা চালসহ আমির উদ্দিন (৪৮) নামে এক চাল ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নকলা উপজেলা শহরের উত্তর বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাকে আটক করে। আটককৃত আমির উদ্দিন উপজেলার ইশিবপুর গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে। র‌্যাব-১৪ কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি হাফিজুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স তাকে ধরার অভিযান চালান।
হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হত দরিদ্রদের ভিজিএফ এর চাল পাচারের জন্য একটি গুদামে মজুদ করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় ৫১০ বস্তা চালসহ গুদামটির মালিক আমির উদ্দিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
জামালপুরে কালোবাজারে বিক্রি হওয়া ১৯০ বস্তা চাল জব্দ
জামালপুরে সরকারের ১০ টাকা কেজি মূল্যের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৯০ বস্তা চাল জব্দ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মাজহারুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ১৯০ বস্তা কালোবাজারে বিক্রি করা চাল জব্দ করেন। চালগুলো ঘোড়াধাপ ইউনিয়নে নিয়োজিত ডিলার মো. মতিউর রহমানের বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের স্থানীয় সাবুর মোড়ে ডিলার মো. মতিউর রহমানের দোকান। তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিক্রি করেন। বিকেলের দিকে দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সরিয়ে ফেলেন তিনি। চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা মোবাইল ফোনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদর ইউএনও’র নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মাজহারুল ইসলাম ও স্থানীয় নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাবুর মোড় এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ওরফে বিলু মিয়ার বাড়ি থেকে ৩০ কেজি ওজনের ৮৭ বস্তা, সোলায়মান হোসেনের দোকান থেকে ২০ বস্তা এবং আবুল কালামের বাড়ি থেকে ৮৩ বস্তা, মোট ১৯০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জব্দ করা চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির। প্রাথমিকভাবে ডিলার মো. মতিউর রহমান তার বরাদ্দের চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চাল পাচারকারীদের তালিকা নিয়ে দুদকে র‌্যাব
২১৫ টন ওএমএসের চাল পাচারকালে আটকের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে দুদক চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুরোধ করা হয়।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওএমএসের ২১৫ টন চাল পাচারে ২৩ জন জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আর আজকে দুদককেও এ ঘটনার জড়িতদের বিষয়ে লিখিত দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দুদক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে এবং তাদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি আছে কিনা, তা দেখার জন্য দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পাচারের ঘটনার সাথে জড়িত ২৩ জনের নামে মামলা দিয়েছি। এর মধ্যে খাদ্য গুদাম কেন্দ্রের ১০ জন, বাকিরা ব্যবসায়ী ও ডিলার।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ