ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বানোয়াট প্রতিবেদন অবৈধ সরকারের অপরাজনীতির উপকরণ মাত্র

দৈনিক ইত্তেফাকে ‘জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে জঙ্গিদের কাছে টেনে হামলার ছক থার্ড ফোর্সের’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল বুধবার দেয়া যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, নীতিহীন সাংবাদিকতার নিন্ম মানের নজির স্থাপন করেছে ইত্তেফাক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে জঙ্গিদের কাছে টেনে অক্টোবর-নভেম্বরে হামলার ছক করেছে তথাকথিত থার্ড ফোর্স। যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও বায়বীয়। এমন একটি জঘন্য ও গুরুতর অভিযোগের পক্ষে সামান্যতম প্রমাণটুকুও পেশ করেনি ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ। এর আগেও ইত্তেফাকের মত কিছু গণমাধ্যম ধারাবাহিক রটনা করে জঙ্গিবাদের সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়ানোর আপ্রান চেষ্টা করেছে। কিন্তু সব অপচেষ্টা লজ্জাজনক ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে কল্পিত থার্ড ফোর্সও প্রতিবেদক ও ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষের উদ্ভট মস্তিকের বিকৃত আবিষ্কার। এসবের সাথে ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই। কতটুকু ভারসাম্যহীন হলে একটি নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনকে রাসায়নিক হামলার সাথে জড়াতে পারে তা নূন্যতম বিবেকবান মানুষেরও বোধগম্য নয়। বরাবরই জঙ্গিবাদের মত একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ইত্তেফাকের নীতিহীন ভূমিকা লজ্জাজনক। মূলত গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই প্রতিবেদক ছাত্রশিবিরকে টার্গেট করে পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যাচার করেছে। অথচ বাস্তবতা হলো আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতার ভগ্নিপতি জেএমবি’র শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান থেকে শুরু করে গুলশান হামলায় অংশ নেয়া আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতার ছেলেসহ প্রতিটি জঙ্গিবাদী ঘটনার সাথে আ.লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হয়েছে। জাতির কাছে আজ পরিষ্কার যে আওয়ামী লীগই দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের বড় প্লাটফর্ম। কিন্তু ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে জামায়াত-শিবিরের নামে কাল্পনিক কুৎসা রটনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। একপেশে ও বিদ্ধেষপূর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিবেদক কাল্পনিক সূত্রের বরাত দিয়ে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নিজের মনগড়া বক্তব্য চালিয়ে দিয়েছেন। যা নীতিহীন সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। পবিত্র এই পেশার প্রতি নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এমন আজগুবি মিথ্যাচার কারতে পারত না ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে অপব্যবহার করার এই প্রচেষ্টাকে আমরা ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার বরাবরই জঙ্গিবাদ নিয়ে অপরাজনীতি করেছে। আর এই বানোয়াট প্রতিবেদন অবৈধ সরকারের অপরাজনীতির উপকরণ মাত্র। 
 নেতৃদ্বয় বলেন, জঙ্গিবাদের মত বিষয়ের সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এর আগেও ইত্তেফাকের মত কিছু গণমাধ্যম অপপ্রচার চালিয়েছে। কিন্তু এর সাথে ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে আমরা বহুবার চ্যালেঞ্জ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সেই চ্যালেঞ্জের সঠিক জবাব দিতে পারেনি। আমরা এই প্রতিবেদকে বলতে চাই, উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা ও তাতে ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা  গ্রহণযোগ্য তথ্য প্রমাণ পেশ করুন। ভারসাম্যহীন রাজনৈতিকদের মত মুখস্ত বুলি আওড়ানো প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজ নয়। আমরা আগেও বলেছি এবং আবারো দৃঢ়তার সাথে বলছি, ছাত্রশিবিরের দীর্ঘ পথ চলায় জঙ্গিবাদের সাথে কোন সম্পর্ক কেউ কোন দিন দেখাতে পারেনি এবং পারবেওনা। কেননা ছাত্রশিবির জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করেনা। জঙ্গিবাদকে ছাত্রশিবির অগ্রহণযোগ্য পন্থা মনে করে। আর জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে অপরাজনীতির সহযোগিদের দেশবাসী ঘৃণা করে।
 নেতৃদ্বয় এ ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ