ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 September 2018, ২৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশের শ্যুটিং এবং বাস্তবতা!

মোহাম্মদ সুমন বাকী : খেলাধুলার অপর নাম বিনোদন। পর্দায় নয়, তা উপভোগ করা যায় ময়দানের বাস্তবতায়। যা ভেসে উঠে দু’ভাগে লড়াইয়ের মাধ্যমে। সেটা ব্যক্তি বা দলগত পতাকার ছায়াতলে একের পর এক প্রতিযোগিতায় পরিলক্ষিত হয়। অবশ্যই তা সারা বিশ্বকে ঘিরে রেখে। কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর মন ভরে দেয় আকর্ষণের তালে তালে। অভিনয় জগতেও বিনোদন প্রাপ্তি ঘটে। যেখানে পারফর্মাররা প্রচুর পরিশ্রম করেন খেলোয়াড়দের মতো। সেটা ঠিক, তবে রিস্ক নেই। শুধুমাত্র ফাইটের দৃশ্যে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। এ ছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক। এমন বিষয় বিশ্লেষণ শেষে অনায়াসে অভিহিত করা যায় অসাধারণ অভিনয়। তা সাবলিল ধারায় উপস্থাপন হয় সব সময়। যা নতুন কিছু নয়। পর্দার স্বাভাবিক দৃশ্য সেটা। তাই রিস্ক (ঝুকি) কম। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের বিনোদন! যা খুবই আনন্দদায়ক। তা জানা আছে সকলের। সেটা দুনিয়ার খেলার জগৎকে ঘিরে। যা বজায় রয়েছে যুগ যুগ ধরে। কি বলেন ক্রীড়া প্রেমীরা? সবুজ ঘাসের ময়দানে প্লেয়ারদের ফাইট হয় সমানে সমানে। কেউ কাউকে বিন্দু পরিমান ছাড় দিতে চায় না। শুধুমাত্র পাতানো ম্যাচ ছাড়া। এর বাইরে সব খেলার ফাইটই আকর্ষণে ভরা। তা যেন বাস্তবতার আগুনে ছোঁয়া ফুলকি। যা দর্শকের মাঝে এনে দেয় উত্তেজনা। সেটা শতভাগ সত্য কথা। বিভিন্ন ক্রীড়ায় (খেলাধুলা) প্লেয়াররা ফাইট করবেন স্ব দলের পক্ষে। সেখানে আকর্ষন হৃদয়কে নাড়া দিবে। উত্তেজনার ঝড় তুলবে। খেলার প্রতি ভক্ত হতে আগ্রহ বাড়াবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। যাদের পদচারণায় সবুজ ঘাসের মাঠ স্থায়িত্ব পাবে। তা অন্য ভুবনকে টেক্কা দিয়ে অবস্থান ধরে রাখার জন্য। সে কথা বলাবাহুল্য। ক্রীড়ায় পরিশ্রম এবং রিস্ক দু’টো জড়িয়ে থাকে। যা ফুটে উঠে বার বার। এখানে অভিনয় করার বিন্দু পরিমাণ সুযোগ নেই। প্র্যাকটিক্যাল বলে কথা। সেটা পারফরম্যান্স সো করার ক্ষেত্রে যে কোনো প্লেয়ারের জন্য বড় পরীক্ষা। দল বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অবশ্যই তা দিতে হয়। নিজের অবস্থান মজবুত করতে। মিডিয়ার চোখে পড়তে। প্রচার ও প্রসারে খেলা প্রেমীর হৃদয়ে স্থান পেতে। আর তখনই ময়দানের যুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয় তারা। সাফল্য পাবার ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা যারা। এই লেখনির অক্ষরে অক্ষরে সত্য কথা সেটা। নতুন করে না বললেও হয় যা। বিভিন্ন ক্রিড়ার ফাইটে খেলোয়াড়দের পরিশ্রম উল্লেখযোগ্য বিষয়। তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে অনুশীলনের সময়। এটাকে বলা যায় প্রতিদিনের রুটিন মাফিক ঘাম ঝরা পরিশ্রম। অনেক সময় শতভাগ সাফল্য পাবার প্রত্যাশায় যা ঘিরে থাকে দুই বেলা অনুশীলনের মাঝে। এই পরিস্থিতিতে শারিরীক কন্ডিশন ঠিক না থাকলে অনেক খেলোয়াড় রিস্ক শব্দের বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে ইনজুরির কবলে পড়েন। এমন ঘটনা দুঃখজনকভাবে উদাহরণ হয়ে আছে অহরহ। শুধু প্রাকটিস (অনুশীলন) পর্বে নয়, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে প্লেয়ারদের ইনজুরির দৃশ্য ভেসে উঠে। সেটা খুবই করুণ। তা সুপার ডুপার তারকার বেলায় সমর্থনকারী দর্শক মানতেই চান না। কি বলেন? ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, বক্সিং, জুডো, কারাতে, সাইক্লিং, জিমন্যাস্টিকস, তায়কোয়ান্দো, কুস্তি, বাস্কেটবল, উশু, হ্যান্ডবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে এ ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। যা জানা রয়েছে সবার। সেখানেই শ্যুটিং খেলা লাল-সবুজ পতাকা দেশের জন্য অন্যতম উপহার। সেটা সাফল্যের প্রাপ্তির বিচারে। অবশ্য তা ধরা দেয়নি এশিয়ান, অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। বাংলাদেশ শ্যুটিং ক্রীড়ায় দাপট বজায় রেখে সাফল্য পেয়েছে কমনওলেথ ও সাউথ এশিয়ান গেমসে। তাই নৈপূন্যের মান টিকে থাকে বিশ্ব স্ট্যান্ডার্ডে। যা নিয়ে গর্ব করলে দোষের কিছু নয়। এরপরও থেকে যায় ভয়। কারণ কমনওয়েলথ বাদে ছোট গেমসের সাফল্যগুলোকে ছোট মনে হয়! বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশন কর্মকর্তারা কি বলেন? সম্প্রতি শেষ হয়েছে ২০১৮ ইন্দোনেশিয়া এশিয়ান গেমস। যেখানে আশা ছিলো ভরপুর। শ্যুটিং ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ দলের পদক জয় করার ক্ষেত্রে। অবশেষে সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়। তা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে! সেটা শতাব্দী হতে শতাব্দী ধরে বজায় আছে। শ্যুটিং টিমের এশিয়ান গেমসে এমন ব্যর্থতা বার বার কেন? মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে! এতো প্রশিক্ষন কিসের জন্য? তা কি লোক দেখানো? ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের অভিমত কি এ বিষয়ে? আসলে বাংলাদেশের শ্যুটিং বিশ্ব মানের স্ট্যান্ডার্ডে স্থান পেয়ে পদক জয় করার কথা ভুলেই গেছে। সেটা বাস্তবতাকে ঘিরে। এই জন্য ২০১৮ এশিয়ান গেমসে অভিজ্ঞ সুরাইয়া আকতারের দল চরমভাবে ব্যর্থতার খাতায় নাম লিখিয়েছে। তা নতুন করে কলমের কালিতে তুলে না ধরলে হয়। ভারত ছাড়া শ্যুটিং ঘরনায় সাউথ এশিয়ায় বড় কোনো টিম নেই। পারফর্মের বিচারে যারা নিঃসন্দেহে খুবই শক্তিশালী। তাদের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। পদক তালিকার চিত্র এ আভাস দিয়েছে। কমনওলেথ লড়াইটা ভিন্ন কথা। যেখানে বড় দলের সংখ্যা খারাপ নয়। তাই জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। তবে এশিয়ান, অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো না। উল্লেখ করতে হয় সে কথা। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া ভুবনের আলোচনায় স্থান পায়। সাফল্যের দোলনায় দুল খায়। যা বিশ্বকে তাক লাগায়! কেউ কল্পনা করেনি এরপরও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটিংয়ের লড়াইয়ে দারুন নৈপূন্য দেখিয়েছিলো। সেটা সোনালী পাতায় ঝক ঝকে জ্বল মলে অক্ষরে ইতিহাস হয়ে আছে। এমন পারফরম্যান্স সারা দুনিয়াকে চমকে দেয়। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ এবং স্বর্ণ পদক জিতে নেয়। তখন থেকে উল্লেখ করার মতো সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্যুটিং ভুবনে পথ চলা শুরু হয়। আর পিছনের দিকে তাকানো নয়। এর বিপরীতে এ ক্রীড়া সামনের দিকে অগ্রসর হয়। তা দাপটের সাথে। আতিক, রুবেল, শাহানা, আসিফ, আঁখি, সাবরিনা, সাগর, সুরাইয়া আকতারদেরকে বিশ্ব তারকার মর্যাদায় স্থান দিয়ে। তারা অসাধারন পারফর্ম করেছেন ধৈর্য্য দেখিয়ে। তাইতো, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি জাতীয় সঙ্গীত বেজেছে। লাল-সবুজ পতাকা পত পত করে উড়েছে। উত্তেজনার সাফল্যের আঁচল গায়ে জড়িয়ে। শ্যুট করার এমন খেলায় প্লেয়ারদের শারীরিক সংঘর্ষ নেই। পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়তে হয় না। সে কথা ঠিক। কিন্তু অস্ত্রের ওজন কম নয়। চোখের নিশানা শ্যুট করার বোর্ডে আটকে রেখে এর ভাড় সহ্য করতে হয়। ফলে ক্লান্ত নামক শব্দে মাঝে মাঝে ডুব দিয়ে থাকেন খেলোয়াড়রা। সেটা হতে ছোট ইনজুরি দেখা দেয়। তা সেরে যায় দ্রুত। এ অবস্থায় ২০১৮ এশিয়ান গেমসে পদক জয় করার ক্ষেত্রে লাল-সবুজ পতাকার শ্যুটিং দল ব্যর্থ। যা হতাশার সাগরে ডুবায় সবাইকে। অথচ অনুশীলন পর্বে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতা কেন? প্রশ্নের সোজা উত্তর, কমনওলেথ বাদে অন্য বড় টিমগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ফাইট করার তেমন সুযোগ পায় না। যার ফলে তাদের পারফরম্যান্সের মান সম্পর্কে অজানা থেকে যায়। সে জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না। চীন, কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপানের মতো টিমের কাছে অসহায় বাংলাদেশ! পাশাপাশি অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নেদারল্যান্ডে, যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যারা খুবই শক্তিশালী। নৈপূন্যের মান অজানা থেকে যাদের বিপক্ষে লড়াই করে লাল সবুজ পতাকা দল। এ পন্থায় সাফল্য কি ধরা দিবে? না, কখনো না। সাফল্য পাবার জন্য বড় টিমগুলোকে নিয়ে ঘন ঘন প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশনের। এমন কথা বলেছেন ক্রীড়া পন্ডিতরা। তা না হলে ব্যর্থতা বজায় থাকবে। এটাই হচ্ছে দেশের শ্যুটিংয়ের বাস্তবতা!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ