ঢাকা, সোমবার 17 September 2018, ২ আশ্বিন ১৪২৫, ৬ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা নিধনের দায় ও জাতিসংঘের উপলব্ধি

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ একটু নড়েচড়েই বসেছে বলেই মনে হচ্ছে। নিকট অতীতে এই ইস্যুতে বিশ্ব সংস্থাটির ভূমিকা অনেকটা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ পর্যায়েই ছিল। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি এ বিষয়ে অনেক ঢাকঢোল পেটালেও রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং তাদের কার্যক্রম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও মাঝেমধ্যে কিছু বাগারম্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে হালে সে অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। অতিসম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা গণহত্যায় ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ছয় জেনারেলকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ওই সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে এমন জোড়ালো অবস্থানই গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। গত ২৭ আগষ্ট জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সেনাবাহিনীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ও দায়-দায়িত্বের কথা তুলে ধরা হয়। যা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরবরই অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদন রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনে সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং অং সান সুচীর বেসামরিক সরকার তার জোড়ালো পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে-এমনটিই স্পষ্টতা পেয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকেই এ গণহত্যার সরাসরি দায়ি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির বেসামরিক নেতৃত্বও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে বলেও প্রতিবেদন স্পষ্ট করা হয়েছে। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি তার সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার বিষয়টিও ওঠে এসেছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ এ প্রতিবেদনটি তৈরি করতে শত শত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এটাই মিয়ানমারের সংঘটিত নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি ও নিন্দা। যা বর্মী কর্তৃপক্ষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তারা এমনটি কখনো কল্পনাও করতেও পারেনি।
ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মারজুকি দারুসম্যান এ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনের সদস্য ছিলেন শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বামী ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টোফার সিদোতি। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন মিশনকে সার্বিকভাবে সহায়তা দিয়েছে। ফলে কাজটি তাদের জন্য সহজতর হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিতও হচ্ছে।
সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার আওতায় আনার বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রতি ইঙ্গিত করে এটাকে গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদকে সম্মিলিতভাবে এই সমস্যা সমাধান করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এই সমস্যা অনাদিকাল চলতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘রাখাইনে যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার সহায়ক পরিবেশ তৈরি না করছে, সেখানে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে মিয়ানমার কাজ করতে দিচ্ছে না।’ গত মাসে বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘সেখানে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে আমি যে ভয়াবহ ঘটনার কথা শুনেছি, সেটি আমি জীবনে ভুলতে পারবো না।’
মূলত গত ২৭ আগস্ট মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণের দায়ে দেশটির সেনাপ্রধানসহ ছয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সে সময়ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করে বলেছিল, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইনে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত বছর আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষণ, খুনসহ বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে বরাবরই মিয়ানমার জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তারা বলছে যে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাব দিতে এটি করা হয়েছিল। যা শুধু অজুহাত বলেই মনে করছে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। তাদের দাবির পক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও জাননো হয়েছে।
এই ঘটনায় জাতিসংঘের তদন্তকারী কমিটি বলেছে, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইংসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের গণহত্যার জন্য অবশ্যই তদন্ত ও বিচার হতে হবে। এর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে অথবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও তাদের বিচার হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশটির ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা ও যারা গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে। তারা বলেছে, রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের জন্যও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের জন্য অভিযুক্ত করা উচিত।
২০১৭ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টেও উপসংহারে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ডের মধ্যেই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারের জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে অপরাধ এবং যে পদ্ধতিতে তারা নিপীড়ন চালিয়েছিল তার গতি প্রকৃতি ও গভীরতা অন্যান্য গণহত্যারই নামান্তর।
তবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে দেওয়া জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। রাষ্ট্র পরিচালিত পত্রিকা গ্লোবাল নিউজ লাইট অব মিয়ানমারের খবরে বলা হয়, ‘আমরা জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে মিয়ানমারে ঢুকতে দিইনি। তাই মানবাধিকার পরিষদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই এবং মানবাধিকার কাউন্সিলের সুপারিশ গ্রহণ করতে পারছি না।’ তবে মিয়ানমারের এই অস্বীকৃতিকে আমলে নিচ্ছে না এই বিশ্বসংস্থাটি। জাতিসংঘও তাদের এই দাবিকে প্রত্যাখান করে প্রতিবেদন অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে। যা আপাত দৃষ্টিতে মিয়ানমারকে অনেকটা ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগষ্ট জাতিসংঘের মিয়ানমার-বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশন জেনেভায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল গণহত্যা। এ জন্য মিয়ানমারের সেনারা সেখানে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করেছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। রাখাইনে মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ ছয় জেনারেলের বিচারের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছর ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করে অন্তত ৮৭৫ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্যানুসন্ধান মিশন প্রতিবেদনটি তৈরি করে। প্রতিবেদন তৈরিতে তারা ভিডিও ফুটেজ, স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবর আর ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নারকীয় তান্ডবের পর এই প্রথম জাতিসংঘের কোনো প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীকে গণহত্যার অভিযোগে কাঠগড়ায় নিতে বলা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে সেনাবাহিনীর রাশ টানতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ব্যর্থ হয়েছেন, সেটাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্যানুসন্ধানী মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন। রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র, ভিডিও, ছবি ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, গবেষক আর কূটনীতিকদের সঙ্গে অন্তত আড়াই শ বৈঠক করেছেন। কারও কারও লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন। কারও কারও সঙ্গে কথা বলেছেন টেলিফোনে। প্রতিবেদনে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ রাখাইনে অভিযানের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ছাড়া পাঁচ জেনারেলকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন উপ সেনাপ্রধান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইন, বিশেষ অভিযান ব্যুরোর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিউ জ, পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মং মং সোয়ে, ৩৩ হালকা পদাতিক বাহিনী বিভাগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং এবং ৯৯ হালকা পদাতিক বাহিনী বিভাগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থানও। রাখাইনের পাশাপাশি শান ও কাচিন অঞ্চলেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বিদ্বেষমূলক প্রচারকে উসকে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করেছে এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারও নৃশংসতায় ভূমিকা রেখেছে। ২০ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের জেনারেলদের তদন্ত করে ‘যথাযোগ্য’ আদালতে তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার মতো যথেষ্ট তথ্য পেয়েছে তথ্যানুসন্ধানী মিশন। রাখাইনে যে ধরনের অপরাধ হয়েছে, আর যেভাবে তা ঘটানো হয়েছে, সেগুলোর মাত্রা, ধরন এবং বিস্তৃতির দিক দিয়ে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যকে’ অন্য কিছু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সমতুল্য। মিয়ানমার সরকার বরাবরই বলেছে যে রাখাইন অঞ্চলকে জঙ্গিদের ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামরিক প্রয়োজনে নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ, শিশুদের ওপর হামলা এবং পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কখনো সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।’
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু চৌকিতে সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তান্ডব। প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয় বাংলাদেশে। নির্বিচারে গ্রাম পোড়ানো, হত্যা আর ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন তারা। কক্সবাজারে এখন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের ঢলের পর থেকে এসেছে ৭ লাখ ২ হাজার। আর ২০১৬ সালের অক্টোবরের পরের কয়েক মাসে এসেছিল ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। অন্যরা আগে থেকেই অবস্থান করছে বাংলাদেশে।জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সহিংসতা ও রোহিঙ্গা নিধনের বাস্তবচিত্র ওঠে এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্লষকদের দাবি আরও ভিন্নতর। তারা বলছেন, জেনেভায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের খন্ডচিত্র ওঠে এসেছে। বাস্তবতা আরও ভয়াবহ। যেহেতু মিয়ানমার সরকার এই তদন্ত দলকে সেদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি তাই সংশ্লিষ্টরা ঘটনার আদ্যোপান্ত জানা ও গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ পাননি। বর্মী কর্তৃপক্ষ যদি তাদেরকে যথাযথভাবে সহায়তা করতো তাহলে আরও ভয়াবহ অবস্থায় প্রকাশ পেত। কিন্তু থলির বিড়াল বেড়িয়ে পরার ভয়েই তারা জাতিসংঘ তদন্ত দলকে সেদেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেনি। যাহোক সাম্প্রতিক জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদনে যা প্রকাশ পেয়েছে তা বর্মী জেনারেল ও বেসামরিক সরকারের রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকার বিষয়টি খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচীব এন্টোনিও গুতেরেসও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নিধনযজ্ঞে জড়িত জেনারেলদের বিচারের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন। যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হলেও শান্তিপ্রিয় মানুষ এখনো পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছেন না।
 কারণ, চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা মিয়ানমারকে যেকোন চাপ দেয়ার বিপক্ষে। তবে জাতিসংঘের পক্ষে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ খুব একটা থাকছে না। এমন অনাকাঙ্খিত কিছু হলে তা এই বিশ্বসংস্থাকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ শান্তিভঙ্গ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের দায়ি সেনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার প্রত্যাশা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ