ঢাকা, সোমবার 17 September 2018, ২ আশ্বিন ১৪২৫, ৬ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মার্কিন-ভারত চুক্তি ও দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপড়েনটা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। সম্প্রতি তা আরও তীব্রতা পেয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণচীনের কাকতালীয় উত্থান এবং পাকিস্তানের সাথে উষ্ণ সম্পর্কের পেক্ষাপটে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেকোন ভাবেই হোক চীনের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ, কোন পরাশক্তিই সমান্তরাল কোন শক্তিকে সহ্য করতে পারে না। ভারতও জন্মশত্রু পাকিস্তানকে মোকাবেলা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সখ্যতা বাড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।  ইমরান খান ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার সাথে সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে সাক্ষাত করে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে কথা বলেছেন ওয়াং জি। ফলে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে তা নিশ্চিত করেই বলা যাচ্ছে। বহুল আলোচিত চীন ও পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উদ্যোগ নিয়ে বৈঠক শেষে ওয়াং ই সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে,  পাকিস্তানের জন্য কোনো রকমের বোঝা না হয়ে বরং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নজিরবিহীন সমৃদ্ধি এনে দেবে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এ প্রকল্প থেকে লাভবান হওয়ার জন্য দু’পক্ষ অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিন্যাস করতে রাজি হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপর কোনোভাবেই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প যখন শেষ হবে তখন তা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।’  মূলত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রজেক্টের জন্য পাকিস্তানকে পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের অঙ্গীকার করেছে বেইজিং। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশির আশাবাদ, নতুন সরকারের ক্ষেত্রেও সিপিইসি শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি এ প্রজেক্টের ফলে দু’দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও বলেন। উল্লেখ্য, চীন পাকিস্তানকে একের পর এক ঋণসহায়তা দেয়ার পর গত জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা বা ঋণ না দিতে আইএমএফকে সতর্ক করে দেয়। তাদের বক্তব্য, আইএমএফ থেকে পাওয়া অর্থ সহায়তা ব্যবহার করে চীনের ঋণ পরিশোধ করতে পারে পাকিস্তান। চীন হচ্ছে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ভাল চোখে দেখেনি। মূলত দক্ষিণ এশীয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব-প্রতিপত্তি ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কমিউনিকেশনস কম্প্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এগ্রিমেন্ট (কমকাসা) চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির ফলে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারবে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরে চীনের উত্থান ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে কাছাকাছি এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতান্ত্রিক দেশ। এ বিষয়ে ভারতে বক্তব্য হলো, ‘দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্য সামনে রেখে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এ বিষয়ে তারা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতেও সমর্থ হয়েছে। আসিয়ানের মতো সংস্থার সদস্য হিসেবেও এ প্রচেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে ভারত।’ ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা দাবি করছেন, ‘বৈঠকটির মাধ্যমে আমরা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) ভারতের প্রবেশ দ্রুততর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।’ ভারতে আসার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও পাকিস্তান সফর করেন এবং ইসলামাবাদে দেশটির নতুন সরকার ও সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমকাসা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে রাশিয়ার এস-৪০০ সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম ক্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতির কারণে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান ও ভারতের রেষারেষিতে বেশ সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া পাকিস্তানের পশ্চিমা ও ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন উভয়ই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য মুখিয়ে ছিল। এই চুক্তির ফলে নয়াদিল্লির কাছে সহজেই সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবে ওয়াশিংটন। বিষয়টি প্রতিধ্বনিত হয়েছে নির্মলা সিতারমণের কথায়ও। তিনি বলছেন, ‘আমাদের আলোচনার একক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রতিরক্ষা।’ এই সমঝোতার আলোকে দেশ দ’ুটি একে অপরের স্থল, বিমান ও নৌ ঘাঁটিগুলো জ্বালানি ভরা, মেরামতি ও বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। তবে সমঝোতা হলেও এই বিষয়ে এখনও কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়নি। আসলে দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমানশীল আধিপত্যের কারণে মোদি প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথ ধরেছেন। এছাড়া ভারতের অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি হ্রাস করার জন্য মার্কিন প্রযুক্তিও আরো বেশি বেশি চাচ্ছেন মোদি। নরেন্দ্র মোদির এই চাওয়ার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের যথেষ্ট মিল রয়েছে। চীনকে মোকাবেলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী চায় ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। এই লক্ষ্যেই এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে গেলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি চাচ্ছেন, বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট আমলের শেষ সময়ের চেয়ে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে। এই চাওয়া-পাওয়ার রেশ ধরে দুই দেশের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি আরো কয়েকটি সামরিক চুক্তি দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দুই দেশ কিন্তু আগে থেকেই সামরিক খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছিল। ২০১২ সালের চুক্তিবলে দুই দেশ বিমানবাহী রণতরীর নক্সা প্রণয়নের কাজেও এগিয়ে যাচ্ছে।  ভারত আগে রুশ-নির্মিত রণতরী ব্যবহার করত। এখন তারা নিজেরাই এ ধরনের রণতরী বানাতে চাইছে। এছাড়া বিমান বাহিনী আধুনিকায়নের কাজও চলছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। আর সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের নতুন করে গাঁটছাড়া দেশটিকেও সামরিক বিষয়ে আরও আনুকুল্য দেবে বলেই মনে হচ্ছে। মূলত চীনকে প্রতিরোধ করার অজুহাতে সম্প্রতি এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ফিলিপাইনের সাথেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেখানে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করা হবে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনকে কোনঠাসা করার  জন্য ফিলিপাইনের ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। জাপান আরো আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। চলতি বছরেই পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের কাছাকাছি ফিলিপাইন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও জাপান যৌথ নৌ মহড়া চালাবে এমনটা প্রায় নিশ্চিত। অথচ এই সাগরের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে চীনের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সমঝোতাতেও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ প্রকটভাবে ফুটে ওঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সমঝোতার বিষয়টি চীনের অগোচরে থাকেনি। চীন অবশ্য এখনো সরাসরি সমালোচনা করেনি বরং ভারতকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার অনুরোধ করেছে। আসলে চীন বিষয়টিকে বুদ্ধিমত্তার সাথেই মোকাবেলা করতে চাইছে। একথা অনস্বীকার্য যে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। দেশটির মোট অর্থনীতি দাঁড়িয়েছে ২৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে। ২০১৭ সাল থেকে দেশটির অর্থনীতি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরো এশিয়াজুড়ে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য রয়েছে দেশটির। চীনের পর ১০.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি রয়েছে ভারতের দখলে। গত বছরের চেয়ে ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৮ শতাংশ। তাই অর্থনীতিতে এশিয়ার এই উদীয়মান সুপার পাওয়ারকে মার্কিন-ভারত ঐক্য কতখানী সামাল দিতে পারবে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। মার্কিন-ভারত চুক্তি স্বাক্ষরের পর চীন-পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। ভারতে কোনঠাসা ও আঞ্চলিকভাবে একঘরে করার জন্য ভারতের ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের সাথেও চীন সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এমনকি নেপালকে চীনের কয়েকটি বন্দর ব্যবহারের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। যা ভারতকে অনেকটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।  মূলত নেপাল ও মালদ্বীন ভারতের কাছ থেকে আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে। আর নেপাল এখন কোন ভাবেই ভারতকে পাত্তাই দিচ্ছে না। সম্প্রতি পুণেতে অনুষ্ঠিত বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলির যৌথ সামরিক মহড়ায় নেপাল যোগ না দেওয়ায় বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আসেননি থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও। এই মহড়ার পরে সম্প্রতি ভারতেই এই গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সেনাপ্রধানদের দু’দিনের সম্মেলন হয়ে গেল। সেখানেও অনুপস্থিত ছিলেন নেপালের সেনাপ্রধান। যা ভারতের নিঃসন্দেহে চপেটাঘাত বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীনের পরোক্ষ হস্তক্ষেপেই এই ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সে কথা এখনই প্রকাশ্যে না এনে যতটা সম্ভব সৌজন্য বজায় রেখে কূটনৈতিক চ্যানেলে নেপালের কাছে নিজেদের উষ্মার কথা প্রকাশ করা হয়েছে বলে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারপার্সন পুষ্পকুমার দহল  প্রচন্ড এসেছিলেন নয়াদিল্লি। তখনই নেপালের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে। তাকেও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জানিয়েছেন ভারতীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দেশগুলোকে নিয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি অবিভক্ত পরিসর গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সার্ক-এ পাকিস্তান থাকার কারণে যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্যোগী হওয়া সম্ভব হয় না সেগুলোকেই বিমস্টেকের মঞ্চে জোর দিতে চাইছে সাউথ ব্লক। কিন্তু বিমস্টেকের অন্যতম সদস্য নেপালের এমন পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত ছিল না নয়াদিল্লি। এই নেপালই দু’বছর আগে ভারতের ডাকে সাড়া দিয়ে উরি হামলার প্রতিবাদে ইসলামাবাদের সার্ক সম্মেলন বয়কট করেছিল। যা এখন শুধুই অতীত। নেপালের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, শেষ মুহূর্তে নেপালী প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞায় বাতিল হয়ে গেছে সে দেশের সেনাপ্রতিনিধিদের পুণে সফর। কূটনীতিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেপাল সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে ভারতের উপর সামরিক এবং বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে আনা হবে। ২০১৬ সালে চীন সফরে গিয়ে ওলি চীনা বন্দরগুলির সঙ্গে তার দেশের সংযোগের জন্য একটি প্রোটোকল সই করানোর জন্য প্রয়াস শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রোটোকলটির কথাও ঘোষণা করেছে নেপাল। ভারতকে প্রত্যাখ্যান করা এবং চীনকে আরো কাছে টানা একইসঙ্গে এই দু’টি সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি নিছকই কাককালীয় নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। চীনের উত্থান ঠেকানোর জন্য মার্কিন-ভারত ঐক্য এবং তার বিপরীতে পাক-চীনের সখ্যতা বৃদ্ধি কোন পক্ষের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ। ধারণা করা হচ্ছে যে, এতে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হবে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরসর বাড়বে। তবে আঞ্চলিক প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভারত যে পিছিয়ে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। এমনকি একঘরে হওয়ার সম্ভবনাও বেশ প্রবল। -মাসুদ মোস্তফা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ