ঢাকা, সোমবার 17 September 2018, ২ আশ্বিন ১৪২৫, ৬ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দ্রুত ডাকসু নির্বাচন ও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি

গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবদুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন ভিসি মো. আখতারুজ্জামান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজন ও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন নেতারা। সহাবস্থানের জন্য যা যা করা দরকার প্রাধ্যক্ষরা তা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন ও চলতি বছরের অক্টোবরে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
গতকাল রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই দাবির কথা জানান। এর আগে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রো-ভিসি নাসরিন আহমাদ ও আবদুস সামাদ, কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর গোলাম রব্বানী প্রমুখ। বৈঠকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতারা রেজিস্ট্রার ভবনে আসেন। এর পরপরই ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি গাড়িতে করে সভাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
কবে নাগাদ নির্বাচন দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে একটা নির্দেশনা আমাদের আগেই দেয়া আছে। নির্বাচনী কাজের পরিধি নিয়ে আমাদের প্রভোস্ট কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটি ইতোমধ্যে একটা নির্দেশনা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের মার্চ মাস আমাদের টার্গেট। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রাধ্যক্ষরা ভোটার তালিকা প্রণয়নে কাজ করছেন। অক্টোবরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করব। কঠিন কাজটা করতে পারলে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, সামনে আমাদের অনেক বড় একটি বিষয় আছে। সেটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমাদের আজকের সভা ডাকা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আলোচনা করেছেন। তারা যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন সেগুলো আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা নোট করেছেন। সেগুলো আলোচনা পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিষয় কীভাবে সমাধান করা যায় সেগুলোর দিকে আমরা এগুবো।
আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, সম্ভাব্য তারিখ ও শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করবো। এ ধরনের বৈঠক আরও হবে, এটা প্রথম সভা।
তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো বলেছে, যৌক্তিক সময়ে এটা করা দরকার। সবাইকে এক করে যেন করতে পারি এ ধরনের পরামর্শ দিয়েছে। কেউ বলছে, মার্চের মধ্যে করা যায় কিনা; কেউ বলছে, জাতীয় নির্বাচনের পর করতে। তবে সবাই একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, আমরা যেন ডাকসু নির্বাচনটা করি।
সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, সহাবস্থানের জন্য যা যা করা দরকার প্রাধ্যক্ষরা তা করবেন। এগুলো নতুন কিছু নয়। সবাই অভিজ্ঞ, যা করা দরকার তা করবেন। হলে সহাবস্থান ও মধুর ক্যান্টিনে রাজনৈতিক চর্চা সবার জন্য উন্মুক্ত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই।
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবার মতামতের ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। আগামী তিন চার মাসের মধ্যেও সেটা হতে পারে।
রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, প্রতিটি হলে ৩০ শতাংশের বেশি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নেই। বাকিরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী। আমরা মনে করি, সব সংগঠন সহাবস্থানেই রয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রদল পেট্রল বোমা ছুড়বে না এবং ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি করবে না এটা যদি নিশ্চিত করে তাহলে তাদের সঙ্গে সহাবস্থানে আপত্তি নেই।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি সহাবস্থানের বিষয়ে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি। আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। মেধার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করতে হবে। তখনই ডাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আসবে।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, আমরা বারবার ডাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চেয়েছি। কিন্তু তারা জানায়নি। কেউ-কেউ ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরের বিষয় নিয়ে ভাবছেন। আমরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি। অতএব জাতীয় নির্বাচনে আগে-পরে বিষয় ঠিক নয়, দ্রুততম সময়ে আমরা ডাকসু নির্বাচন নেই।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবীব বলেন, আমরা চাই নভেম্বরের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন হোক।
এর আগে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত চিঠি ছাত্র সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ৬ জুন সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ