ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি  গণতন্ত্রের কলঙ্ক----মায়াবতী

 ১৭ সেপ্টেম্বর, পার্সটুডে : ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী বলেছেন, গো-রক্ষার নামে গণপিটুনি গণতন্ত্রের কলঙ্ক। গত রোববার লক্ষনৌতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। মায়াবতী বলেন, ‘গো-রক্ষার নামে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে গণপিটুনির প্রবণতা বাড়তে থাকার প্রবণতা আসলে গণতন্ত্রের কলঙ্ক! কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার ওই বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন এবং নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে।’মায়াবতী বলেন, ‘বিজেপি সরকারের এ ধরনের কার্যকলাপ চলছে, কারণ সংবিধানের বিরুদ্ধে ওদের যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে এবং সংবিধানের সঙ্গে বরাবরই সৎমায়ের মতো আচরণ করে এসেছে।’২০১৯ সালের লোকসভা ভোট এগিয়ে আসার মুখে বিজেপি বিভিন্ন ধরনের ‘বিভাজনের কৌশল’ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএসপি প্রধান মায়াবতী বলেন, একাধিক লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের মন অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে  গেরুয়া শিবির।’প্রয়াত সাবেক বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে নিয়ে বিজেপি’র বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, ‘মানুষ জানেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বাজপেয়ীর নামে বিজেপি-আরএসএস নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কিন্তু, এতে বিজেপির কোনো লাভ হবে না। কারণ, মানুষ দেখেছেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতির কিছুই তারা পূরণ করতে পারেনি।’

‘গো-মাতা বলে অত্যাচার একটা সন্ত্রাস’

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার সুরেন্দ্রনাথ উইমেন কলেজের বিশিষ্ট অধ্যাপিকা ড. আফরোজা খাতুন গতকাল সোমবার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটাতো রাজনীতি নয়, দুর্নীতি। এই দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে একটা দল দাঁড়িয়ে আছে। দেশের মানুষ আজ চাকরি পাচ্ছে না। মানুষের টাকাকে ‘কালো টাকা’ বলে আটকিয়ে দেয়া  হল অথচ তা কালো টাকা নয়, তাতেও ওদের কোনো লজ্জা নেই! সমস্ত সমস্যা থেকে মানুষের মুখ ঘুরিয়ে দেবে বলেই শুরু করেছে গো-মাতা। এই যে গো-মাতা বলে যে অত্যাচার শুরু করেছে তা একটা সন্ত্রাস। সাধারণ মানুষ অত্যাচার করলে একটা শাস্তির ব্যবস্থা হয়। কিন্তু যখন সরকার ও তার দল অত্যাচার করছে, অত্যাচারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, সাহায্য করছে এমনকি পুরস্কৃতও করছে তাদের। সেখানে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী নীরব হয়ে আছেন। একটা কথাও এ ব্যাপারে তার মুখ থেকে বেরোচ্ছে না! আমরা প্রতিমুহূর্তে ওই সমস্যার সম্মুখীন হলেও আমরা ভাবতে পারছি না যে ২০১৯ সালে কীভাবে আবার ওই সরকার ক্ষমতায় আসার কথা বলতে পারে! এটা মনে হয় সম্ভব নয়।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ