ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খসড়া ডিজিটাল আইন প্রত্যাখ্যান

সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন ও খসড়া ডিজিটাল আইন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যানের কারণও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. এটি সংবিধানের ৩৯(২) ক ও খ ধারায় দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তার পরিপন্থী। ২. এটি চিন্তার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ধারণার বিরোধী, যে স্বাধীনতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ। ৩. এটি গণতান্ত্রের মৌলিক চর্চারও বিরোধী, যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশ সব সময়ই লড়াই করেছে এবং এর পাশে থেকেছে। ৪. এটি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিমালার বিরোধী, যার জন্য বাংলাদেশের সাংবাদিকরা লড়াই করেছেন।
সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে পরিশেষে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যে জাতীয় সংসদ জনসাধারণ এবং জনমানুষের সব রকম স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা পূরণের স্থান, সেই সংসদ যেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া পাস না করে। এ খসড়া আইন সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সম্পাদক পরিষদ ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রকাশিত তাদের বিবৃতিতে বিস্ময়, হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে পরিষদ উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, খসড়া আইনটির ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় মৌলিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এসব ধারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি। তবে ৩ নম্বর ধারার অধীনে তথ্যঅধিকার আইনের (আরটিআই) অন্তর্ভুক্তিকে পরিষদ স্বাগত জানায়, কিন্তু ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন (অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট) অন্তর্ভুক্ত করায় পরিষদ উদ্বেগ জানায়। কারণ এটি আরটিআই-এর সঙ্গে পরিষ্কারভাবে সাংঘর্ষিক।
আমরা জানি যে, সম্পাদক পরিষদ বিশেষ কোনো দল, মত বা রাজনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং এই পরিষদ গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং দেশের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে চায়। আমরা আরও জানি যে, সম্পাদক পরিষদের সদস্যদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবৈচিত্র্য থাকলেও খসড়া ডিজিটাল আইন প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে তাঁরা ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন। সরকার এর গুরুত্ব উপলব্ধি করবে বলে আমরা আশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ