ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঋণ খেলাপির সবঘটনায় সরকারের প্রভাবশালী মহলের হাত

* চাকরি বাঁচাতে ব্যাংক মালিকদের পক্ষে কর্মকর্তারা
* নীরব সাক্ষীর ভূমিকায় বাংলাদেশ ব্যাংক
মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান: সরকারের ছক অনুযায়ী সুপরিকল্পিতভাবে ইতোপূর্বে যাদেরকে ঋণ খেলাপি করানো হয়েছে। এখন সেই খেলাপি ঋণের কলঙ্ক থেকে দলীয় লোকদের বাঁচাতে আবার আশ্রয় নেয়া হয়েছে অভিনব কৌশলের। একই সঙ্গে দলীয় আশ্রয়ে থাকা রাঘব বোয়ালদের নাম যেন ঋণ খেলাপির তালিকায় না ওঠে সে জন্যে আরেক জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এজন্য খেলাপির তালিকায় নাম না ওঠাতে আদালতে মামলা দিয়ে তা চালু রাখা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না করতে বিভিন্নভাবে তৈরি করা হয় দীর্ঘসূত্রতা। চলমান সময়ে ঋণ খেলাপি হওয়ার যত ঘটনা ঘটেছে সবগুলোতেই আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চ মহলের হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। আর এসব ঋণ খেলাপিদের বাঁচাতে সরকার সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। এভাবে অন্যায়ের বৈধতা দেয়ার কাজটি সরকার সব নীতি নৈতিকতা ভুলে করছে। এদিকে চাকরি বাঁচাতে ব্যাংক মালিকদের পক্ষ নিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। ব্যাংক মালিকদের অবৈধ আবদার পূরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আর এসব কাজ দেখেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার থাকলেও নিরব স্বাক্ষীর ভূমিকা পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে সরকারের উচ্চ মহল ও ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে আবারও ঋণ পাচ্ছেন খেলাপিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নিজেদের লোককে দুর্নীতির তকমা থেকে রেহাই দিতে পবিত্র সংসদের মতো জায়গাকে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সরকারের অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে একশ’ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকাতেই রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে রাঘব বোয়ালদের। তালিকাতে প্রকৃত ঋণ খেলাপিদের নাম প্রকাশ না করে চুনো-পুটিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যারা সমাজে বড় বড় ঋণ খেলাপি ও ব্যাংক জালিয়াত হিসেবে পরিচিত তাদের নাম তালিকায় নেই। রাজনৈতিক ক্ষমতার বদৌলতে আইনের ফাঁক গলিয়ে তারা পার পেয়ে গেছেন। এটা জনগণের সাথে এক ধরণের প্রতারণা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, অন্যায়ের বৈধ্যতা দিতে পবিত্র সংসদের মতো জায়গাকে ব্যবহার করতেও সরকারের বিবেকে বাঁধছে না। ফলে মিথ্যাচারের সর্বোচ্চ সীমাও অতিক্রম করার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন তারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে দুর্নীতির দূর্বিত্তায়ন মহামারি রুপ নেবে। এ অবস্থা শুধু ব্যাংকিং খাতে নয় দেশের সার্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। তাদের কাছে অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ এক লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী তালিকায় থাকা একশ’ জনের পাশাপাশি খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ৮৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে সোনালি ব্যাংকে ১৮ হাজার ৬৬২ কোটি, জনতা ব্যাংকে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ হাজার ২৮৪ কোটি, রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৯০১ কোটি, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি, কৃষি ব্যাংকে ২ হাজার ১৭৮ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ২ হাজার ৩৩২ কোটি, পূবালী ব্যাংকে ২ হাজার ১১৬ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫ হাজার ৭৬ কোটি, ইসলামী ব্যাংকে ৩ হাজার ৫২০ কোটি আর প্রাইম ব্যাংকে ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে।
সূত্র জানায়, এর বাইরে আরও অনেক খেলাপি ঋণ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা অনেক ঋণখেলাপি হলেও সেগুলোকে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে খেলাপি হিসেবে দেখান না। নিজেদের দুর্নাম এড়াতে তারা খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখান। এতে বিশেষ করে প্রভাবশালী ঋণ গ্রহীতারা খেলাপি তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এরকম অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণকে খেলাপি করা হয়। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। এর বাইরে আরও অনেক ঋণ থেকে যায়, যেগুলো খেলাপি হওয়ার যোগ্য, অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক শনাক্ত করতে পারছে না। কিন্তু একটি পর্যায়ে এগুলো খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জনতা ব্যাংক প্রথমে খেলাপি করেনি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে খেলাপি করা হয়। কিন্তু ওই তালিকায় তাদের সব প্রতিষ্ঠানের নাম আসেনি। এসেছে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এগুলো হচ্ছে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্ট ও রিমেক্স ফুটওয়্যার। অ্যানন টেক্স গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু জনতা ব্যাংক এখনও তা খেলাপি করেনি।
হলমার্ক গ্রুপ এখন সবচেয়ে বড় খেলাপি। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গ্রুপের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান খেলাপির তালিকায় এসেছে। এটি হচ্ছে হলমার্ক ফ্যাশনস। বাকিগুলো আসেনি। বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। এগুলো গেছে ছোট ছোট অংকে। বিসমিল্লাহ গ্রুপ ৫টি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে। অথচ তাদের দুটি প্রতিষ্ঠান শীর্ষ তালিকায় এসেছে। এগুলো হচ্ছে সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলস। একটি সরকারি ব্যাংকের রমনা শাখা থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের নামে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে একসঙ্গে আসেনি। এর মধ্যে ফেয়ার ফ্যাশনের নামে-বেনামে রয়েছে ৭শ’ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। সোহেল গ্রুপ একটি বেসরকারি ব্যাংক ও সরকারি জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের নাম তালিকায় আসেনি। অলটেক্স গ্রুপের একটি ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ আছে। তালিকায় এসেছে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের নাম। চট্টগ্রামের ইমাম গ্রুপের খেলাপি ঋণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। তাদের নাম তালিকায় আসেনি। এ রকম অনেক বড় বড় গ্রুপের নাম তালিকায় আসেনি।
এছাড়া অনেক গ্রুপ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে খেলাপি ঋণকে নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখাতে ব্যাংককে বাধ্য করে। ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের তালিকা করছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। গ্রুপভিত্তিক তালিকা করছে না। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপির নাম আসছে না। আসছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। এসব কারণে বড় খেলাপিরা তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু তালিকায় কোন প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কত টাকা, তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে খেলাপি ঋণের পরিমাণসহ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকায়ও যারা বড় বড় খেলাপি তাদের নাম আসেনি। যে কারণে তখনও এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়। আবার যেসব ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ব্যাংকিং খাতের চিহ্নিত রাঘববোয়ালরা নেই। তাদেরকে বাদ রেখেই ওই তালিকা করা হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, আইনের ফাঁক গলিয়ে, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে প্রকাশিত ১০০ শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকা এখন বিতর্কিত।
সূত্র জানায়, ঋণ খেলাপির সাথে জড়িতরাই আবার নতুন প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে। ব্যাংক থেকে আরও ঋণ পেতে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। সরকার দলীয় প্রভাবশালীদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্ট জালিয়াতি করে খেলাপিরা নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ পেয়ে যাচ্ছেন। এভাবে তুলে নিচ্ছেন একাধিক ঋণ। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের তথ্য আড়াল করে ঋণ নবায়নও করে নিচ্ছেন। আগের ঋণ পুনর্গঠন বা ঋণসীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন জমা না দিয়েই বেআইনিভাবে এসব সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্রটি।
কতিপয় অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঋণখেলাপিরা প্রকৃত সিআইবি প্রতিবেদন গোপন করে এসব জালিয়াতি করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চারটি ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ ও ভিজিলেন্স বিভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তদন্ত করে সিআইবি প্রতিবেদন জালিয়াতির বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের শাখাগুলোতে বড় অঙ্কের ঋণের নথিপত্র পর্যালোচনাকালে দেখা যায়, বড় অঙ্কের ঋণের সিআইবি প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে তারা শুধু কোড নম্বর উল্লেখ করে। কোনো তারিখ উল্লেখ করে না। এর ফলে ঋণ মঞ্জুর, নবায়ন বা পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট ৬০ বেশি পুরনো কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে দেখা যায় না। এতে করে নতুন ঋণ মঞ্জুর, খেলাপি ঋণ নবায়ন বা ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে খেলাপিরাও নতুন ঋণ পেয়ে যাচ্ছে বা ঝুঁকি বিবেচনা না করেই খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহক সম্পর্কে হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট না থাকার কারণে ঋণখেলাপিদের অনুকূলে ঋণ প্রদানের সুযোগ থাকে। এতে ব্যাংকের ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। কেননা খেলাপিরা নতুন ঋণ পেলে ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমতাবস্থায় জালিয়াতি বন্ধ করতে ব্যাংকগুলোর প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, রাঘব বোয়ালদের বাদ দিয়ে শুধু চুনোপুঁটিদের নাম প্রকাশ করেই অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের লুটপাটকারীদের দায় এড়াতে পারেন না। এছাড়া তিনি কোনো শাস্তির ঘোষণাও দেননি। সুতরাং ব্যাংকিং খাতের খেলাপিসহ সব অপকর্ম সরকারের উপরই বর্তায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্যরা ঋণখেলাপি হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। এতে বোঝা যাচ্ছে, ঋণের নামে ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। যারা সংসদে আইন প্রণয়ন করেন, তারাই যদি আইন লঙ্ঘন করেন তাহলে কার জন্য এ আইন? কে মানবে এসব আইন। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকের মালিক তো সরকার। তাই এর দায় কোনোভাবে সরকার তথা অর্থমন্ত্রী এড়াতে পারবেন না। আবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন মালিকপক্ষের লোক। এজন্য মালিকরা যেভাবে চাইবেন সেভাবে হবে। সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও তাই। তাই বলা যেতে পারে সরকারের শক্তিশালী অংশের হস্তক্ষেপ ছাড়া এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়েনি।
তিনি আরও বলেন, মালিকদের কথা ব্যাংকারদের শুনতে হয়। না শুনলে চাকরি চলে যায়। তাই চাকরি হারানোর ভয়ে তারা মালিকদের ছাফাই গায়। দুঃখের বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হল জনগণের আমানতের টাকা হেফাজত করা। অথচ তা না করে তারা নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত। কোনো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে পুরো গ্রুপ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নীরব। কেননা, আইনের অনেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা তাদের দেয়া আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি অভিযুক্ত ব্যাংক মালিকদের বিরুদ্ধে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যেসব বড় খেলাপির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তা যত না আইনি জটিলতা, তার থেকে রাজনৈতিক সমস্যা বেশি। তবুও যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, এটা প্রাথমিক উদ্যোগ। এখন যারা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত তাদের যেন আর নতুন ঋণ দেয়া না হয়। এ ছাড়া এসব খেলাপিকে সব ধরনের নীতিসহায়তা থেকে বঞ্চিত করতে হবে। তা না হলে শুধু নাম প্রকাশ করে কোনো কাজ হবে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শুধু নাম প্রকাশই যথেষ্ট নয়; তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপিসহ বিভিন্ন কু-কর্মে যারা জড়িত, তাদের সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, বরং কখনও কখনও উল্টো সুরক্ষা দিয়েছে। অথচ তাদের অপকর্মের বোঝা টানছে সাধারণ মানুষ। সরকারি ব্যাংকগুলোকে করের টাকা থেকে বারবার পুঁজিসহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর দায় সরকার কিছুতে এড়াতে পারে না।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা মেরে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের মধ্যে ধনী হওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। মূলত বিচারহীনতার কারণে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। আমরা এ খাতে লুটপাটের অবসান চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ