ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের দুই বন্দর ব্যবহার করবে ভারত

# চুক্তি ৫ বছরের জন্য, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছর
স্টাফ রিপোর্টার : ভারত থেকে ভারতে পণ্য সরবরাহ করতে চট্টগ্রাম ও  মংলা বন্দর ব্যবহার করবে ভারত। এ সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় চুক্তির খসড়াটি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে উপস্থাপন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 বৈঠক শেষে দুপুর ২টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম চুক্তির খসড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম বন্ধুপ্রতীম দেশ। চট্টগ্রাম ও  মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারত তাদের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করবে। এজন্য ‘Agreement on the use of Chattogram and Mongla Port for Movement of Goods to and from India between the PeopleÕs Republic of Bangladesh and Republic of India’ শীর্ষক চুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম এবং  মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য সে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পরিবহণের জন্য এই চুক্তি করা হচ্ছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যই স্থলাবদ্ধ (ল্যান্ড লকড)। ভারতের অন্য অংশ থেকে ওই সব রাজ্যে যেতেও হয় অনেক ঘুরপথে। ফলে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ওই রাজ্যে পণ্য নিতে বরাবরই আগ্রহী ভারত। এর আগে  ২০১১ সালে ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা রাজ্যের ‘পালটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র' নির্মাণের মালামালের চালান বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য চট্টগাম ও মংলা পোর্টে যোগাযোগের জন্য যে কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, তার চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রভিশন রাখা হয়েছে নেপাল ও ভুটান ইচ্ছা প্রকাশ করলে যুক্ত হতে পারবে।
পণ্য পরিবহণে বাংলাদেশের যান ব্যবহার হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি ট্রানজিট ঠিক না, কারণ আমাদের পরিবহণ ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমাদের আইন অনুযায়ী শুল্ক ও ট্যাক্স তাদের দিতে হবে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী মালবাহী কার্গো শনাক্ত করতে ‘ট্র্যাকিং সিস্টেম’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
চুক্তির বিভিন্ন শর্তাবলীর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পণ্য সামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের ভেইকল ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী (গ্যাট) এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে, শুল্ক বিভাগ ডিউটিজ অ্যান্ড ট্যাক্সেস সমপরিমাণ বন্ড গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে মালামাল পরিবহণের জন্য গ্যাট প্রিন্সিপাল অনুসারে শুল্ক/কর ব্যতীত চার্জ-ফি ও পরিবহণ খরচ আদায় করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের স্থল বন্দর ব্যবহার করায় স্থল বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে মাশুল আদায় করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে কয়েকটি রুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম ও  মংলা বন্দর থেকে আগরতলা ভায়া আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া); চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে ডাউকি ভায়া তামাবিল (সিলেট); চট্টগ্রাম ও  মংলা বন্দর থেকে সুতারকান্দি ভায়া শেওলা (সিলেট); চট্টগ্রাম ও  মংলা বন্দর  থেকে বিবিরবাজার ভায়া শ্রীমন্তপুর (কুমিল্লা)। চুক্তিটি পাঁচ বছরের জন্য হবে এবং যে কোনো পক্ষ প্রয়োজনে যে কোনো সময় চুক্তি স্থগিত রাখতে পারবেন বলে জানান শফিউল।
তিনি বলেন, চুক্তিটি ৫ বছরের জন্য সম্পাদিত হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছর বলবৎ থাকবে। তবে ৬ মাসের নোটিসে যে কোনো পক্ষ চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে। জরুরি প্রয়োজনে বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো পক্ষ চুক্তির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চুক্তি মোতাবেক নৌ সচিবদের নেতৃত্বে গঠিত ইন্টার গভর্নমেন্ট কমিটির মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার নিরসন করা হবে এবং উভয় দেশের কর্মকর্তা সমন্বয়ে কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সাব গ্রুপ গঠন করা হবে।
সচিব বলেন, ভারত  মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থলপথে ভারতের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরবরাহ করতে আটটি রুট ব্যবহার করতে পারবে।
ভারতের পণ্য পরিবহণের জন্য বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো খাত উপযোগী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা খতিয়ে দেখবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ