ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন সরকারেরই তৈরী করা

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়  গঠিত  মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন ‘সরকারেরই  তৈরি করা’ বলে  অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুওে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের বক্তব্য স্ববিরোধী  ও সরকারের চিন্তার প্রতিফলন।  এটা একদেশদর্শী ও সার্বজনীন চিকিৎসানীতির পরিপন্থি। বেগম খালেদা জিয়াকে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নিয়ে যাওয়ার জন্যই সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড তৈরি করা প্রতিবেদন দিয়েছে। আামি দলের পক্ষ থেকে এই একগুয়েমী ও প্রতিহিংসাপরায়নতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুল লতিফ খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারের অনুগত চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড কারাগারে দেশনেত্রীকে ২০ মিনিটে তথাকথিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিএসএমএমইউতে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা বলেছি যে, বিএসএমএমইউতে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি নেই, বিশেষায়িত এমআরআই মেসিন নেই, সিটি স্ক্যান করার মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। এগুলো বিশেষায়িত হাসপাতালে আছে। এটা বার বার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে, তার ব্যক্তিচিকিৎকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এটা সরকার কর্ণপাত করেন না। উনি(শেখ হাসিনা) কারাগারে ছিলেন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। উনার অধিকার আছে কিন্তু অন্যের অধিকার নেই।  বাংলাদেশকে যে নিজের জমিদারি মনে করার যে প্রবণতা, সেই প্রবণতা আমরা সরকার ও সরকার প্রধানের প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্যে দেখতে পাই।
অবিলম্বে সরকারের গঠিত মেডিকেল বোর্ডে দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে তাকে বেসরকারি কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার দাবি পুূনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত শনিবার  রাতে নয়া পল্টন এলাকা থেকে নারায়নগঞ্জ ছাত্র দল সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে  অবিলম্বে তাকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি করেন রিজভী।
গুম ও ক্রসফায়ার যমজ এই সহিংস সর্বনাশা কর্মসূচি বাংলাদেশের মানুষের জীবনের অনিবার্য পরিণতি করা হয়েছে অভিযোগ কওে রিজভী বলেন, সারাদেশে গুম ও ক্রসফায়ার পাল্লা দিয়ে চলছে। বর্তমানে অবৈধ আওয়ামী সরকার আর কোন উপায় না দেখে গুম ও ক্রসফায়ারের হত্যাকেই নির্ভরযোগ্য মনে করছে, টিকে থাকার শর্ত হিসেবে। বাংলাদেশের স্মৃতিতে আছে ‘৭১ এর বিভীষিকা, আর মানুষ এখন অবলোকন করছে আওয়ামী বিভীষিকা। হত্যা, নির্যাতন, বাসা থেকে তুলে নিয়ে অদৃশ্যে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে পথেঘাটে ফেলে দেয়া, সবই ‘৭১ এর নবসংস্করণ। শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল থেকে ৩ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবারে যশোরের শার্শা উপজেলা ও কেশবপুর উপজেলায় দু’টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। তারা দু’জন শার্শা থানার একই এলাকার মানুষ। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় মানুষরা বলেছেন সাদা পোশাকধারিরা সাদা মাইক্রোবাসে করে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আটক করে আটকের বিষয়টি অস্বীকার ও গুম করে দেয়ার ঘটনায় সারাদেশে বিরাজ করছে এক ভয়াল আতঙ্কজনক পরিবেশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনীকে আটক এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার না করার ঘটনা বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর বর্তমান অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর চলমান নিষ্ঠুর কর্মকান্ডেরই ধারাবাহিকতা। রনিকে আটক এবং আটকের বিষয়টি স্বীকার না করার ঘটনায় তার পরিবারসহ দলের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি আবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, রক্তপাত, হত্যা, মিথ্যাচার, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার জাতক বর্তমান অবৈধ সরকার কর্তৃক প্রতি ক্রসফায়ারে হত্যার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একই রকমের বক্তব্য দেয়। ঠিক তেমনি সবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুমের পরও ‘আমরা জানিনা’ বলে একই রকমের বক্তব্য দেয় পুলিশ। যেকোন সত্যিকার গণতান্তিক দেশে এধরণের ঘটনা বিচার বহির্ভূত ও আইনবিরুদ্ধ। বিচার বহির্ভূত নরহত্যা ও গুম আইন দ্বারা স্বীকৃত নয় বলেই এই সমস্ত ঘটনা ভয়ংকর অপরাধ বলে গণ্য হয় সভ্য দেশগুলোতে। ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুমের বিষয়ে পুলিশের একই রকমের বক্তব্য দেশবাসীর কাছে কখনোই বিশ^াসযোগ্য হয়নি। সিরাজ শিকদার থেকে শুরু করে সর্বশেষ ক্রসফায়ারে হত্যা এবং স্বাধীনতাত্তোর গুম থেকে শুরু করে সর্বশেষ রনি’র গুমে পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে একই কাহিনীরই পূণরাবৃত্তি। ভোটারবিহীন সরকার ‘ভয় দেখিয়ে জয় করার কৌশল’ অবলম্বন করতে গিয়েই চালানো হচ্ছে বিচার বহির্ভূত হত্যার মহৌৎসব ও গুমের মহাধুমধাম। দেশব্যাপী হামলা মামলা এবং গেগ্রফতারের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই নির্বিচারে হামলা, মামলা, গ্রেফতার, দমণ-পীড়নে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার হরণের ছায়া পড়তে শুরু করেছে। একটা নির্জন বিরানভূমিতে সরকার একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করছে। কিন্তু এই ষোল কোটির দেশের মানুষের আত্মশক্তিকে ভুলে গেছে সরকার। স্বৈরাচারকে বেশিদিন সহ্য করার ইতিহাস নেই এই দেশের মানুষের। এই দেশের পলিমাটির ধুলোয় জনগণের দ্রোহ ভাসছে। মামলা খেয়ে, গ্রেফতার হয়ে কারান্তরীণ হওয়ার পরও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ঐক্যবদ্ধ-এটাই আমাদের ব্যতিক্রমী শক্তি। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতেই হবে, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের জাতীয় নির্বাচন দিতেই হবে। আর সেই নির্বাচনে বিএনপি’র নেতৃত্ব দেবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্বৈরাচারের লৌহকপাট আর বেশিদিন বন্ধ রাখা যাবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিই হচ্ছে গণতন্ত্রের শক্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ