ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ত্যাগ চাই মার্সিয়া ক্রন্দন চাহি না

স্টাফ রিপোর্টার : আজ মঙ্গলবার। নদীর বহমান স্রোতের মত সময়ের গতিবেগে আমরা পৌঁছেছি হিজরী সনের নববর্ষের মহররম মাসের ৭ম দিনে। আর মাত্র দু'দিন পর আসবে পবিত্র আশুরা। যে দিন বিশ্বের একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এই দিনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নমরুদের অগ্নিকু- থেকে উদ্ধার লাভ করেন এবং নিজের প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন পবিত্র এই আশুরার দিনে।
ইব্রাহীম (আঃ)কে আগুনে নিক্ষেপ করার ঘটনা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ এভাবে বর্ণনা করেছেন, “কাফেররা বলল একে (ইব্রাহীম আঃ) পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও। আমি (আল্লাহ) বললাম, হে অগ্নি তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। তারা ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল অতঃপর আমি তাদেরকেই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলাম। (সূরা আম্বিয়া আয়াত ৬৮-৭০)।
সমস্ত সম্প্রদায় ও নমরুদ সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিল যে, তাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হোক। ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত আছে, একমাস পর্যন্ত সমগ্র শহরবাসী জ্বালানি কাঠ ইত্যাদি সংগ্রহ করতে থাকে। এরপর তাতে অগ্নি সংযোগ করে সাত দিন পর্যন্ত প্রজ্জ্বলিত থাকে। শেষ পর্যন্ত অগ্নি শিখা আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। তখন তারা ইব্রাহীম (আঃ)কে এই জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করল। কিন্তু অগ্নিকুণ্ডের নিকটে যাওয়াই সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। অগ্নির অসহ্য তাপের কারণে তার ধারেকাছে যাওয়ার সাধ্য কারো ছিল না। শয়তান ইব্রাহীম (আঃ)কে মিনজালিকে (এক প্রকার নিক্ষেপণ যন্ত্র) রেখে নিক্ষেপ করার পদ্ধতি বাতলে দিল। যে সময় ইব্রাহীম (আঃ) মিনজালিকের মাধ্যমে অগ্নি সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হচ্ছিলেন। তখন ফেরেশতাকুল বরং দ্যুলোক ও ভ্যুলোকের সমস্ত সৃষ্টজীব চিৎকার করে উঠল, ইয়া রব, আপনার দোস্তের একি বিপদ। আল্লাহ তাদের সবাইকে ইব্রাহীম (আঃ) এর সাহায্য করার অনুমতি দিলেন। ফেরেশতাগণ সাহায্য করার জন্য ইব্রাহীম (আঃ)কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহ তায়ালাই আমার জন্য যথেষ্ট। অতঃপর আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতসমূহে আছে। ইব্রাহীম (আঃ) এই অগ্নিকুণ্ডে সাতদিন ছিলেন। তিনি বলতেন, এই সাতদিন আমি যে সুখ ভোগ করেছি, সারাজীবন তা ভোগ করিনি (মাযহারী)। আল্লাহর কাছে যে কোন বিপদের সময় সাহায্য চাইলে তিনি তার প্রিয় বান্দাদেরকে এভাবেই সাহায্য করেন। সুতরাং আমাদের কর্তব্য, আল্লাহর কোন সৃষ্টি জীবনের কাছে সাহায্য না চেয়ে সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থণা করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ