ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ -বার্নিকাট

স্টাফ রিপোর্টার: গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
গতকাল সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘শান্তিতে বিজয়’ ক্যাম্পেইনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এ ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছে। বার্নিকাট বলেন, যে দেশটি মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে, সেই দেশের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সব রাজনৈতিক দলকে পরিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। আগামী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে। সব দলের মত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পর শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে সহিংসতায় কেবল তারাই লাভবান হয়, যারা বাংলাদেশের ভাল চায় না।
ইউএসএআইডি ও ইউকেএআইডের যৌথ অর্থায়ন এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (স্ট্রেন্থেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ) এসপিএল প্রকল্পের আওতায় ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন বে¬ক উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছেন সারা দেশ থেকে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রিত নেতারা।
বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সব দলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আমাদের প্রতিজ্ঞা। আশা করি, আমাদের দলের এবং আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে আমরা কখনো পিছপা হবো না। অতীতেও হইনি, ভবিষ্যতেও হবো না। সোমবার দেশের ৪০টি জেলা থেকে আসা কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে ‘শান্তিতে বিজয়’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এইচ টি ইমাম বলেন, আমরা উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ চাই, সেই সঙ্গে চাই গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ এমন একটি দেশ, যে দেশ সারাবিশ্বের আদর্শ হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন এইচ টি ইমাম। বলেন, যে অগ্রগতিগুলো ধীরে ধীরে হয়েছে। এগুলো আমরা খুব সচেতনভাবে লক্ষ করি না। কিন্তু আমি যেহেতু এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। তাই লক্ষ করি এবং দেখি আমরা কতদূর এগিয়ে গেছি।
তিনি বলেন, আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি, এটি তো বিনা কারণে হয়নি। এদেশের মানুষ সকলে অংশগ্রহণ করেছে বলেই এটি হয়েছে। এই উন্নয়নের পেছনে প্রাইভেট সেক্টর, জনমত, সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সরকার দিক নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু সেটি হলেও দূরে তাকানোর মতো ক্ষমতা থাকতে হবে যে, আমরা ভবিষ্যতে কী রকম বাংলাদেশ চাই।
আমরা মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করেছিলাম এবং বিশ্বব্যাপী আমাদের সমর্থন ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য যুদ্ধ করছি। গণতন্ত্রেরর জন্য যুদ্ধ করছি এবং আমরা চাই আইনের শাসনভিত্তিক একটি দেশ। যেখানে আমরা সকলে একসঙ্গে মিলে-মিশে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাব। যে যে পার্টিতেই থাকুন না কেন এগুলো সম্পর্কে কারো দ্বিমত নেই। এগুলো যদি ধরে নেন, তাহলে ঐতিহাসিকভাবে আমরা সবসময় শান্তির জন্য চেষ্টা করেছি। আবার শান্তির জন্য অনেক রক্ত দিয়েছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে তৃণমূলের ৪০টি জেলার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সমর্থনে তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সহিংসতার বিরুঙ্গীকার এবং শপথ গ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ