ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শ্রীলংকার বিদায়ে সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান

আফগানিস্তান-২৪৯/১

শ্রীলংকা-১৫৮/১০

আফগানিস্তান ৯১ রানে জয়ী

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আফগানিস্তানের কাছে হেরে এশিয়া কাপ শেষ হয়ে গেল শ্রীলংকার। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে এমনিতেই আশা প্রায় শেষ হয়েছিল দলটির। গতকাল আফগানিস্তানের কাছে ৯১ রানে হেরে সব আশা শেষ হলো লংকানদের। কারণ গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচেই হারল শ্রীলংকা। আর শ্রীলংকার বিদায়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে এশিয়া কাপের সুপার ফোর নিশ্চিত হলো বাংলাদেশ আর আফগানিস্তানের। গতকাল আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান করেছিল ২৪৯ রান। জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে টার্গেট ছিল ২৫০ রান। টার্গেটটা যে খুব বেশি ছিল তা কিন্তু নয়। তবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলংকা ৪১.২ ওভাওে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করলে আফগানিস্তান জয় পায় ৯১ রানে। এই জয়ে সাবেক চ্যামিম্পয়ন শ্রীলংকাকে বিদায় করে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠে নিজেদের যোগ্যতা প্রান করল আফগানরা। 

জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে টার্গেট ছিল ২৫০ রান। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলংকা। মুজির উর রহমানের বলে এলবি আউট হয়ে কোন রান না করে মাঠ ছাড়েন ওপেনার জীবন মেন্ডিস। ফলে ব্যাটিংয়ের প্রথমেই ধাক্কা খায় শ্রীলংকা। তবে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর আগেই ফিফটি রান পার করে দলটি। দলীয় ৫৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় লংকারনা। এবার রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন ডি সিলভা। আউট হওয়ার আগে সিলভা করেন ২৩ রান। দলীয় ৫৪ রানে দুই উইকেট হারালেও দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অপর ওপেনার উপল থারাঙ্গা। পেরেরার সাথে জুটি করে দলকে ৮৬ রানে নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন তিনি। পেরেরোর বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রশিদ খানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে পেরেরা করেন ১৯ রান। পেরেরার বিদায়ে দলকে বেশিদুর নিতে নিয়ে যেতে পারেননি থারাঙ্গা। কারণ দলীয় ৮৮ রানে তাকেও ফিরতে হয়। তবে গুলবাদিন নবীর বলে আউট হওয়ার আগে থারাঙ্গা করেন ৩৬ রান। ফলে দলীয় শতরানের আগেই শ্রীলংকা চার উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়ে। দলীয় ১০৮ রানে আরো একটি উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এবার জয়সুরিয়া ১৪ রান করে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। ফলে দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পড়ে অধিনায়ক ম্যাথুস এর উপর। তবে ম্যাথুস প্রানপন চেস্টা করেছেন দলকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু দলীয় ১৪৩ রানে ফিরতে হয় ম্যাথুসকে। মোহাম্মদ নবীর বলে রশিদ খানের হাতে ক্যাত তুলে মাঠ ঝাড়ার আগে ম্যাথুস করেন ২২ রান। দলীয় ১৪৪ রানে আরো একটি উইকেট হারায় শ্রীলংকা। ব্যাট করতে নেমে ছানাকা শূণ্য রানে আউট হলে শ্রীলংকা ১৪৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দলটি আটকে যায় ১৫৮ রানে। আফগানিস্তানের বোলিং তোপে দলটি খেলতে পারেনি ৫০ ওভার। 

এরআগে, আবু ধাবির শেখ জায়েদ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে  আফগানিস্তান সবকটি উইকেট হারিয়ে করে ২৪৯ রান। অবশ্য ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে আফগানিস্তান। দু-ওপেনার মোহাম্মসদ শাহজাদ আর ইহসানউল্লাহ মিলে ওপেনিং জুটিতেই দলকে নিয়ে যান ফিফটি রানে। এই জুটি ভাংগার আগে আফগানিস্তান পৌছে যায় ৫৭ রানে। ওপেনার শেহজাদের বিদায়ে ভাংগে ওপেনিং জুটি। আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে আউট হওয়ার আগে শাহজাদ করেন ৩৪ রান। দলীয় ৫৭ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট হারানোর আগে আফগানিস্তান পৌছে যায় ১০৭ রানে। এবার বিদায় নেন অপর ওপেনার ইহসানউল্লাহ। বিদায়ের আগে তিনি করেন ৪৫ রান। দু-ওপেনারকেই এলবি আউটের ফাদে ফেলে বিদায় করেন আকিলা ধনঞ্জয়া। দুই উইকেটে আফগানিস্তান শতরান পার করলেও দলটি তৃতীয় উইকেট হারায় মাত্র তিন রান যোগ কওে দলীয় ১১০ রানে। অধিনায়ক আসগর আফগান ব্যাট করতে নেমেই জয়সুরিয়ার শিকার হন মাত্র এক রানে। আসগরকেও ফিরতে হয় এলবি আউট হয়ে। দলীয় ১১০ রানে প্রথম তিন উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নিতে চতুর্থ উইকেটে জুটি করেন রহমত শাহ আর হাসমতউল্লাহ শহিদি। এই জুটিই দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। এই জুটি ভাংগার আগেই দলটি পৌছে যায় ১৯০ রানে। রহমত শাহের বিদায়ে ভাংগে ৮০ রানের এই জুটি। চামিরার বলে পেরেরাকে ক্যাচ তুলে আউট হওয়ার আগে রহমত শাহ করেন ৭২ রান। ৯০ বলে ৫ চারে তিনি করেন ৭২ রান। দলীয় ২০৩ রানে হাসমতউল্লাহ শহিদির উইকেট হারায় আফগানিস্তান। পেরেরার বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে ৩৭ রান করেন হাসমতউল্লাহ। তবে দলকে শেষ পর্যন্ত দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পরে মোহাম্মদ নবী আর নজিবুল্লাহ জারদানির উপর। এই জুটি ২২২ রানে দলকে নিয়ে আর টিকতে পারলো না। কারণ  মোহাম্মদ নবীকে ১৫ রানে আউট করে প্রথম উইকেট নেন মালিঙ্গা। অবশ্য মালিঙ্গা প্রথম থেকে উইকেট নেয়ার জন্য চেস্টা করলেও উইকেট পাননি তিনি। অবশেষে ইনিংসের শেষে এসে উইকেট পেলেন মালিঙ্গা। নবী আউট হওয়ার পর বেশি সময় টিকতে পারেননি নজিবুল্লাও। পেরেরোর বলে আউট হওয়ার আগে করেন মাত্র ১২ রান। ফলে ২২৭ রানে দলটি হারায় ৭ উইকেট। আর শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে করে ২৪৯ রান। শ্রীলংকার পক্ষে পেরেরা ৫টি, আকিলা ধনঞ্জয়া ২টি আর মালিঙ্গা, চামিরা ও জয়সুরিয়া ১টি করে উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ