ঢাকা, বুধবার 12 December 2018, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৪ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন দুই কোরীয় নেতা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন পিয়ংইয়ং এ কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর বুধবার বলেছেন, উত্তর কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাইট টংচাং-রি বন্ধ করে দেবে। খবর এএফপি’র।

মুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাইট টংচাং-রি ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।’

পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত করার একটি পন্থায় একমত হয়েছেন। 

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে মুন জানান, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সহমত হয়েছেন তারা।

পিয়ংইয়ংয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুন বলেন, কিম উত্তর কোরিয়ার তংচাং-রি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা, সম্পর্কিত দেশের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে, চিরতরে বন্ধ করে দিতে সম্মত হয়েছেন।   

তিনি বলেন, তংচাং-রি’র পাশাপাশি কিম ইয়ংবিয়োন পারমাণবিক কেন্দ্রও বন্ধ করে দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এজন্যে যুক্তরাষ্ট্রকেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ছাড়াও দুই কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রেল সংযোগ, যুদ্ধের ফলে পৃথক পরিবারগুলোর পুনর্মিলন এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর সহযোগিতা করার পরিকল্পনা করছেন তারা। 

বৈঠকে কিম ও মুন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। কিম চুক্তিটিকে, কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করেন।  

তিনি আরো জানান, তিনি অদূর ভবিষ্যতেই দক্ষিণ কোরিয়া সফর করতে পারেন। 

এমনটা হলে তিনিই হবেন দক্ষিণ কোরিয়া সফরকারী প্রথম উত্তর কোরীয় নেতা। 

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার তিনদিনের সফরে উত্তর কোরিয়া রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও তার স্ত্রী কিম জাং-সুক। এ সময় ১০ হাজারের মতো নাগরিক ফুল দিয়ে মুনকে স্বাগত জানান। পরে তারা দুই কোরিয়ার ঐক্যের পক্ষে স্লোগান দেন।

গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ায় গেলেন। এ বছরের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরও দৃশ্যমান ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। বরং উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটানোই মুনের এই সফরের মূল এজেন্ডা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ