ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীর চর আগ্রাকুণ্ডায় বসতবাড়ি-ফসলি জমি বিলীন

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : উপজেলার চর আগ্রাকুন্ডায় গড়াই নদীর ভাঙনের ছবিটি রোববার সকালে তোলা -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : জেলার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের চর আগ্রাকুণ্ডা গ্রাম গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিগত বছরে ভাঙ্গনের মাত্রা কম থাকলেও এবার নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ফসলি জমি, বিভিন্ন বনজ ও ফলজ আবাদী জমি চলে যাচ্ছে গড়াই গর্ভে। ভাঙনের আশংকায় রয়েছে শত শত বসতবাড়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। নদীর পানি বৃদ্ধি বা কমতে থাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে অনেকটা দুঃশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ভাঙন কবলিত অসহায় চর আগ্রাকুণ্ডা গ্রামবাসী।
গড়াই নদীর কুমারখালী-যদুবয়রা খেয়াঘাটের ৫শত মিটার ভাটিতে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হওয়া গড়াই নদীর এই ভাঙ্গন গতকাল সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে কয়েক'শ অসহায় নারী পুরুষ ও শিশুরা ছুটে আসে, তারা কান্নাকাটি করে ভাঙ্গন রোধ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
সর্বনাশী-রাক্ষুসি গড়াই নদীর ভাঙনের শিকার নদী তীরের বাসিন্দা লাল মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ফারুক হোসেন প্রমুখ এই প্রতিবেদককে জানান, গত কয়েক বছর যাবত গড়াই নদীর ভাঙনে অনেক জমিজমা বিলীন হয়ে গেছে, অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র বসত গড়েছেন। তারা আরো জানায়, নদীর অব্যহত ভাঙন থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সরকারি কোন কর্মকর্তা আজও এলাকায় পরিদর্শনে আসেনি। উল্লেখ্য, গত দুই বছর পূর্বে অত্র ভাঙ্গনের থেকে এক কিলোমিটার উজানে কেশবপুরে লালন আবাসনের তিনটি ব্যারাক নদী গ্রাস করেছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান এব্যাপারে জানিয়েছেন, চর আগ্রাকুন্ডায় গড়াই নদীর ভাঙনের বিষয়ে জানা নেই, তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এব্যাপারে জানান, ভাঙনের বিষয়টি শুনেই পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হবে। ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ