ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অঘোষিত অবরোধে সড়কে মটর যান সংকট ॥চরম দুর্ভোগে সাধারণ যাত্রীরা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) অঘোষিত অবরোধে মটরযান সংকট

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা: নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত আইনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চলকদের শাস্তি বৃদ্ধির প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত চালকদের অঘোষিত অবরোধের কারণে সড়কে মটর যান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় গাড়ির অভাবে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সাধারণ মানুষ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালগুলোতে এসে গাড়ি না পেয়ে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন। অনেকে দূরপাল্লার জরুরি যাত্রার জন্য ইজিবাইক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরাসহ গুরুত্বর অসুস্থ রোগীরা যে কোন ভাবে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য বাধ্য হচ্ছে, মহাসড়কের জন্য চলাচল নিষিদ্ধ যান বাহনে চলাচলে। এতে বাড়তি ভাড়া দেয়াসহ সময়ও বেশি লাগছে। একারণে অনেকে আবার বাস টার্মিনাল থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। সৈয়দপুর টার্মিনালে গিয়ে সরেজমিন দেখা যায় যে, যাত্রীর তুলনায় যান বাহনের সংখ্যা খুবই নগন্য। বিআরটিসি ও লোকাল রুটের কয়েকটি বাস, মাইক্রোবাস ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ছাড়া আর কোন বাস-মিনিবাস তথা আন্ত:জেলা রুটের মটর যানগুলো চলাচল করছেনা। ফলে যে দু’একটি গাড়ি চলছে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যাত্রীরা। ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে লোকাল বাস গুলো চলাচল করছে। সে সাথে মহাসড়কে এ সুযোগে ব্যাপকহারে ইজিবাইক চলাচল করায় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগের শিকার কয়েকজন যাত্রী জানান, প্রায়ই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় আমরা চরম সমস্যার সম্মুখিন হই। জরুরীভাবে কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা মারাত্মক সংকট। পরিবার পরিজন তথা শিশু-নারী, অসুস্থ মানুষজনকে নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে এভাবে হয়রানী হওয়া অত্যন্ত দু:খজনক ও অনভিপ্রেত ঘটনা। যা হরহামেশায় ঘটে চলেছে। এর একটা যথাযথ ও কার্যকর বিহিত হওয়া দরকার। সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে অবস্থানরত কয়েকজন মটর যান চালক জানান, মূলত: চালকদের শাস্তি ৫ বছরের কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রতিবাদেই এ কর্মবিরতি পালন করছি। বিশেষ করে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করা হচ্ছে, যা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাশের জন্য বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে বা নতুন আবেদন করলে পরীক্ষা দেয়ার পরও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিতে না চাইলে লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানীর শিকার হতে হয়। এসব নানা বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ