ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও চাষিরা লোকসান গুণছে

আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) থেকে: রাজশাহীর বাগমারায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিগত বছরের আবহাওয়ার চেয়ে এবারে অনুকূলে আবহাওয়ায় চাষীরা সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করার সুযোগ পাওয়ায় এ উপজেলায় এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী পাটচাষ হয়েছে। তবে সম্প্রতি সময় শ্রমিকের মজুরী চারগুণ হারে বেড়েছে আরো এলাকায় জলাশায় গুলোতে লাভজনক মাছচাষে পাট আঁশ ছড়াতে বিপত্তি ঘটেছে। এতে শ্রমিক ও বহন খরচ বাড়াই লাভ না হয়ে কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক সময়ে এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পাট চাষ হতো। কারণ তখন অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাটচাষ ছিল অধিক লাভজনক একটি ফসল। কিন্তু বিগত ২০০০ সালে হঠাৎ করে পাটের দাম আকর্ষ্মিকভাবে কমে যায়। ফলে পাটচাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকেরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও লাভের আশায় বাজার থেকে পাট কিনে মজুদ করে রেখে পরবর্তীতে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান দিয়ে তা বিক্রি করে মুলধন হারিয়ে ফেলে।এ কারণে ব্যবসায়ীরা পাট ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে কাঁচামাল ব্যবসা শুরু করে অন্য দিকে কৃষকেরাও পাট চাষ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি জাতীয় ফসল চাষ শুরু করেন। এতে এলাকায় পাটচাষ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। তবে সাংসারিক কাজ কর্ম ও জ্বালানী হিসাবে পাট খড়ির প্রয়োজনে কেউ কেউ সামান্য পরিমাণ জমিতে পাটচাষ করতে থাকেন। এ অবস্থায় এ এলাকায় পাটচাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। কিন্তু গত অর্থ বছরে ঘোষিত বাজেটে সরকারিভাবে পাটের দাম বৃদ্ধি করায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা আবারো পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। এবারে পাটের ফলন ভালো পেলেও দাম তুলনামুলক কমে উৎপাদন খরচ জুটছে না। এলাকার আবারো পাটচাষী হ্রাস হবে বলে অভিজ্ঞ মহল আশঙ্কা করছেন।
এ প্রসঙ্গে বালানগর গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, গত বছরে তিনি দুই বিঘা জমিতে পাটচাষ করে ভাল দাম পেয়েছেন। এ কারণে এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাটচাষ করেছেন। মোহম্মাদপুর  গ্রামের কৃষক ছলিম, দেউলিয়া গ্রামের কৃষক মুকবুল হোসেন বলেন, এক সময় তারা পাট চাষের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু বিগত ২০০০ সালে হঠাৎ করে পাটের দাম আকস্মিকভাবে কমে যাওয়ায় তারা পাট চাষের প্রতি আগ্রহ প্রায় হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু গত দু’বছর পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার সবটুকু জমিতে পাটচাষ করেছেন বলে তারা এ প্রতিবেদককে জানান। কিন্তু হঠাৎ করে এলাকার শ্রমিকের মুজুরী ও বহন খরচ বাড়ার কারণে তাদের সে লাভের আশা গুঁড়ে বালি হয়ে পড়েছে। পাটে খরচ আগের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়ছে। পাট আঁশ পচনে পানি রং বদলিয়ে মাছের ক্ষতিতে দুরে বহন করে নিতে যেমন বেড়ছে বহন খরচ তেমন শ্রমিকের মুজুরী বেড়েছে। একজন পাট কাটা শ্রমিকের মুজুরী ৫ শত টাকা। ১ বিঘা জমিতে পাট কেটে তা আঁশ ছড়ানো, শুকানো, মুজুরী পরিবহন সহ অন্যান্য খরচে লাভ না হয়ে লোকসান হচ্ছে। বালানগর গ্রামের এরশাদ আলী জানান, ২ বিঘা জমিতে পাট করে যে টাকা আয় হয়েছে। তা দিয়ে পাট চাষের খরচ জুটছে না। ১ মন পাট ১৭শ’ থেকে ১৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ বিঘা জমিতে ৮ মন থেকে ১০ মন পাট উৎপাদন আসে। পাট চাষ করতে জমি চাষ, সেচ, কীটনাশক ও বহনসহ শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে ১৮ থেকে  ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এতে করে পাটচাষে দুই হাজার  থেকে আড়াই হাজার টাকা করে তার লোকসান গুণতে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ