ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পবিত্র আশুরা

আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। হিজরি ৬১ সালের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের) এই দিনে শেষ নবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অতি আদরের নাতি হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইরাকের দজলা ও ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা হজরত ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র। ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত কারবালার হত্যাকান্ডে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসা ইয়াজিদের বাহিনী হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-কে এবং তার সঙ্গে কোলের শিশুসহ আরো ৭২ জন মুসলিমকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল। সেই থেকে ১০ মহররমকে মুসলিমরা শোক ও শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করেন বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়। 

প্রকৃতপক্ষে ১০ মহররম শুধু একটি শোক ও শহীদ দিবস মাত্র নয়, দিনটি আরো অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। যেমন আল্লাহতা’লা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ১০ মহররম। মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কেও আল্লাহ ১০ মহররমই সৃষ্টি করেছিলেন। একই তারিখে হজরত আদম (আ.)-কে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয় এবং পরবর্তীকালে বিচ্যুতির জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ দিনটিতেই আল্লাহতা’লা আদম (আ.)-এর তওবা কবুল করেন এবং আরাফাতের ময়দানে মা হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে তার মিলন ঘটিয়ে দেন। হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর জন্ম, হজরত মুসা (আ.)-এর ‘তাওরাত’ প্রাপ্তি, হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম ও আকাশগমন, পৃথিবীতে বৃষ্টিপাতের সূচনা প্রভৃতি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাও ১০ মহররমই ঘটেছে। উল্লেখযোগ্য অন্য একটি তথ্য হলো, এই দিনটিকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগেও যথেষ্ট মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হতো। অন্য সব নবী (আ.) এবং তাদের উম্মতরা ১০ মহররম রোজা রাখতেন। কোনো কোনো নবী (আ.)-এর উম্মতদের ওপর ১০ মহররমের রোজা ফরজ ছিল। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও ওহিপ্রাপ্তির আগের জীবনে এবং আল্লাহতা’লা পবিত্র রমজান মাসের রোজা ফরজ করার আগে পর্যন্ত ১০ মহররম রোজা রেখেছেন। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর ১০ মহররমের রোজা সুন্নতে পরিণত হয়েছে। 

এভাবে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনায় দেখা যাবে, সব মিলিয়েই ১০ মহররম অত্যধিক তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি দিন। মাস হিসেবে মহররমও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হিজরি সালের প্রথম মাস এটি। মহররমকে শুধু পবিত্র ও বরকতময় মাস হিসেবে নয়, ‘হারাম’ মাস হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ইয়াজিদ-এর বাহিনী এই পূণ্যময় মাসে কারবালায় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। বিশেষ করে এ জন্যই মুসলিমদের কাছে অন্য সব ঘটনা ছাপিয়ে ১০ মহররম শোক ও  শহীদ দিবসে পরিণত হয়েছে। অনেকে অন্য অঘটনাগুলো সম্পর্কে এমনকি অবহিতও নন।

পবিত্র আশুরার দিনটি কেবলই মাতম করার জন্য নয়। পৃথিবী সৃষ্টির পর হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি ও মা হাওয়া (আ.)-কেসহ তাকে পৃথিবীতে পাঠানোর মতো আরো অনেক কল্যাণকর ও দিকনির্ধারণী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মহররমকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বরকতময় দিন হিসেবে উদযাপন করা উচিত। দিনটি একই সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকার যে নির্দেশ তার আলোকে এই সত্য উপলব্ধি করা দরকার যে, পৃথিবী শান্তিতে বসবাস করার জন্য। শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলামও সে শিক্ষাই দেয়। পৃথিবীর বুকে আল্লাহতা’লার প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অনুসরণ করার মাধ্যমে মিথ্যা, জুলুম, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং অন্যায়-অশান্তির শিকড় উৎখাতের মধ্যেই রয়েছে পবিত্র আশুরার সার্থকতা। আমরা আশা করতে চাই, আজকের দিনে সে লক্ষ্যেই নতুনভাবে যাত্রা শুরু হবে মানবজাতির।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ