ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিবর্তনমূলক, পুনঃসংশোধন দাবী সুজনের

সংগ্রাম অনলাইন : জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ‘নিবর্তনমূলক’ উল্লেখ করে আইনটি পুনঃসংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, তারা মনে করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর অনেকগুলো ধারা (৮, ২৮, ২৯, ৩১) নিবর্তনমূলক, যে ধারাগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার হতে পারে। বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পদাক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সুজন মনে করে, যে কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মত-বিমত থাকতেই পারে। তাছাড়া আমাদের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা তথা বাক্ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সঙ্কুচিত করবে, নাগরিকদের বাক্-স্বাধীনতা হরণ করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করতে পারে। তাছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সুজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমরা দেখেছি, এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ছয় বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানান পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি। বরং বাতিল হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দচয়ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটি পুনঃসংশোধন করার জোর দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে উপরোক্ত বিলে স্বাক্ষর না করে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ