ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল করে আইনটি পুনঃশোধনের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারাগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার ও বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন মনে করে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ কথা জানান। উল্লেখ্য যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, কণ্ঠভোটে জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮। এই আইনটির অনেকগুলো ধারা (৮, ২৮, ২৯, ৩১) নিবর্তনমূলক ও সাধারণ নাগরিকদের বা-স্বাধীনতা হরণ করা হতে পারে বলে সুজন মনে করে।
তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই আইনেপরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থা করতে পারে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও আমরা মনে করি।
আমরা দেখেছি, এর আগে তথ্য প্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ছয় বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলক ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানান পরামর্শ ও দাবিতুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি। বরং বাতিল হওয়া তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দচয়ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে।
সুজন মনে করে,যে কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মত-বিমত থাকতেই পারে। তাছাড়া আমাদের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা তথা বাক্ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইনপ্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমরা মনে করি, এইআইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সঙ্কুচিত করবে, নাগরিকদের বাক্-স্বাধীনতা হরণ করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করবে।
আমরা ‘সুজন’-এর পক্ষ থেকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটি পুনঃসংশোধন করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উপরোক্ত বিলে স্বাক্ষর না করে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ