ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা হলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

# ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গর্দানের ওপর জল্লাদের ছুরির নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি জংলি আইন। জঙ্গলের পশুদেরও কিছু বিষয়ে স্বাধীনতা থাকে কিন্তু এ আইন কার্যকর হলে দেশের মানুষের সামান্যটুকু স্বাধীনতাও থাকবে না। সরকার তাদের স্বৈরচারী ও ফ্যাসিবাদি ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই সংবিধান, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম বিরোধী নতুন এ কালো আইন করেছে। সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজসহ দেশের বিবেকবান মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বাধীনতা ও সংবিধান পরিপন্থী এ আইন দেশের কোনো মানুষ মেনে নেবে না। সাংবাদিক সমাজ সরকার বিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয়ার আগেই এ আইন বাতিল করুন। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ জাতীয় সংসদে এ আইন পাসের দিন ১৯ সেপ্টেম্বরকে ‘গণমাধ্যমের ঘৃণা দিবস’ হিসেবে পালন করবে। যদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা হয় তাহলে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। 
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন -ডিইউজে আয়োজিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা বাতিলের দাবিতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএফইউজে সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহ-সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস খান ও মোরসালিন নোমানী, ক্র্যাবের সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান সাজু, ডিইউজে নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিইউজে’র বাসস ইউনিট প্রধান আবুল কালাম মানিক, নয়াদিগন্তের ইউনিট প্রধান আমীর হামজা, বিএফইউজে সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, নির্বাহী সদস্য এইচ এম আলামিন, নির্বাহী সদস্য ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর, সমাচারের ইউনিট প্রধান আবু হানিফ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে বিএফইউজে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, বগুড়া, কক্সবাজার, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে এ ধরণের কালো ধারা কোনো সভ্য সমাজে কার্যকর হতে পারে না। এ আইন গণমাধ্যম ও সংবিধান বিরোধী। এ আইন পাস হলে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী একমনি সাধারণ মানুষ কেউ রেহাই পাবে না। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার ফ্যাসিবাদি ও স্বৈরচারী শাসন ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই এ আইন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ তা কখনোই বাস্তবায়ন হতে দেবে না। ১৯ সেপ্টেম্বরকে সাংবাদিক সমাজ ‘গণমাধ্যমের ঘৃণা দিবস’ হিসেবে পালন করবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে। জংলী আইন দিয়ে সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। জনগণের বিজয় হবেই। এখন আর নিরবতা পালনের সময় নেই। কেননা এ আইন পাস হলে পক্ষ বিপক্ষ কেউ নিরাপদ থাকতে পারবে না। তাই আসুন আমরা এই কালো আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। যতদিন এ আইন বাতিল না করা হবে ততদিন আমাদের এ আন্দোলন চলছে এবং চলবে। এসময় তিনি এ আইনে স্বাক্ষর না করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান।
আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, যদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ হয় তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। যে উদ্দেশ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সে উদ্দেশ্য সফল হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে এ আইন প্রতিহত করতে হবে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সরকার রাস্তায় চালকবিহীন গাড়ী ছেড়ে দিয়েছে। যাতে দূর্ঘটনা অনিবার্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। অবশেষে এটি অবৈধ সংসদে পাস করা হলো। সংসদে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে মিথ্যাচার করেছেন তা অত্যন্ত জঘন্যতম মিথ্যাচার। এই আইন শুধু সাংবাদিকদের নয়, দেশের সকল মানুষের বাক স্বাধীনতাকে কেড়ে নিবে। সরকারের বিরুদ্ধে কেউ সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ আইন বাতিল না করার পর্যন্ত আমরা সাংবাদিকরা ঘরে ফিরে যাবো না।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা কালাকানুনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ লড়াই করেছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মাধ্যমে ওই কালাকানুন বাতিল হয়েছে। এ সরকারের বিদায়ের মধ্য দিয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা বাতিল হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ এই আইনে স্বাক্ষর না করে ফিরিয়ে দিন এবং প্রধানমন্ত্রীকে এ আইন সংশোধন করতে বলুন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ আইনের মাধ্যমে দেশের ১৬ কোটি মানুষ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সাংবাদিক সমাজ এ আইন ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করছে। সরকার পতন আন্দোলনে নামার আগেই এ দানবীয় আইন বাতিল করুন। অন্যথায় মিডিয়ার দুশমন হিসেবে আপনারা চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, যিনি দরবেশের বেশে দেশে এসেছিলেন তিনি এখন নেকড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। গর্দানের ওপর জল্লাদের ছুরির নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। গণতন্ত্রের শেষ আইল্যান্ডটুকুও ডুবিয়ে দেয়া হলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপর স্বৈরচারি সরকার নামক গজব নেমে এসেছে। দেশ ও দেশের সম্পদগুলোকে কেক বানানো হয়েছে। সরকার প্রধান যাকে খুশি তাকে কেটে কেটে ভাগ করে দিচ্ছেন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদকে চিরস্থায়ী ও সুরক্ষা দিতে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজকে শৃংখলিত করে ঘরে ঢুকিয়ে রাখার আইন। রোডে মানুষ হত্যা করলে ৫ বছরের জেল আর দূর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে যাবৎজীবন জেল দেবেন এ আইন দেশের জনগণ মেনে নেবে না।  তিনি বলেন, এ দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে আছি এবং থাকবো। গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেই আমরা ঘরে ফিরবো। তিনি রাষ্ট্রপতিকে নৈতিক জায়গা থেকে এ কালো আইনে স্বাক্ষর না করার আহবান জানান।
কর্মসূচি: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। তিনি এ আইনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি আন্দোলনের আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ