ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রংপুরের চাঞ্চল্যকর বাবু সোনা হত্যা মামলা স্ত্রীদীপা ও কামরুলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টি আওয়ামীলীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা (৫৮) হত্যা চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। হত্যাকা-ের ঘটনায় বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমীন মুক্তার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন রংপুর জেলা কোতোয়ালি থানার এসআই আল-আমিন।
সোমবার দুপুরে রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, মূলত পরকীয়া, পারিবারিক অশান্তি ও বিদ্বেষ থেকেই বাবু সোনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্নিগ্ধা সরকার দীপা এবং তার প্রেমিক একই স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলাম। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে  দুইজনেই হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া হত্যাকা-ে দুই কিশোর সবুজ ও রোকনের সম্পৃক্ততা না থাকায় এবং মিলন মোহন্ত মারা যাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বাবু সোনাকে খাওয়ানো ঘুমের ওষুধের দোকান সনাক্ত,  তার মরদেহ বহনের কাজে ব্যবহৃত   ভ্যান ও আলমিরাসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। উল্লেখ, গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাবু সোনাকে খাওয়ান স্ত্রী দীপা। ঘটনার দুই ঘন্টা আগে থেকেই বাবু সোনার শোয়ার ঘরের পাশে অবস্থান নিয়ে ছিলেন কামরুল ইসলাম। ওষুধ খাওয়ানোর পর বাবু সোনা অচেতন হয়ে পড়লে কামরুল ঘরে ঢুকে দীপাসহ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাবু সোনাকে হত্যা করেন।
বাবু সোনা নিখোঁজের পর ৩১ মার্চ (শনিবার) কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও পরের দিন রোববার থানায় মামলা দায়ের করেন তার ছোটভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যের ভিত্তিতে ৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বাবু সোনার স্ত্রী দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এ হক্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানান। 
ওইদিন রাত ২টার দিকে বাবু সোনার নিজ বাড়ি তাজহাট বাবুপাড়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়া থেকে শিক্ষক কামরুল ইসলামের ঢাকায় বসবাসরত বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন  বাড়ির ঘরের মাটি খুঁড়ে বাবু সোনার মরদেহ উদ্ধার করে র‌্যাব। এসময় গর্ত খোঁড়ার কাজে সহায়তা করার কারণে ওই এলাকার দুই কিশোর সবুজ ও রোকনকে আটক করা হয়।  এর আগে পুলিশের হাতে আটক হন শিক্ষক কামরুল ইসলাম ও বাবু সোনার ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্ত। পরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান মিলন মোহন্ত এবং দীপা ও কামরুল কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ