ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা: রামপালে অনুমোদহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলছে অবৈধভাবে রোগী বানিজ্য। এসব ক্লিনিক এখন হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ছোটখাটো থেকে শুরু করে এ্যাপেনডিকস, সিজার ডেলিভারীসহ নানা ধরনের অপারেশ করছে । কোন কোন ক্ষেত্রে চটকদার বিজ্ঞাপন এবং এজেন্টদের মাধ্যমে রোগী ভর্তি করে তাদের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা হাতাচ্ছে। বেশ কয়েকবার ভুল চিকিৎসার কারণে প্রসূতী মৃত্যু,নবজাতকের মৃত্যু সহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটলেও টাকার বিনিময়ে দফারফা করে পূনরায় বহাল তবিয়তে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রামপালের বেশ কয়েকটি বড় বাজারের তালিকায় ফয়লাহাট, গিলাতলা, রামপাল, ভাগা এলাকায় লোকসমাগম বেশী। এর মধ্যে গিলাতলা বাজারে মা ক্লিনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠান,ভাগা বাজারে সেবা ক্লিনিক, ফয়লাবাজারে সুন্দরবন ডায়াগনিষ্ট সেন্টার, এ্যাপলো ডায়গনিষ্ট সেন্টার সহ আরও বেশ কয়েকটি ডায়গনস্টিক সেন্টার রয়েছে। দেখা গেছে নি¤œমানের যন্ত্রপাতি এবং অদক্ষ লোক দ্বারা পরিচালনা করা হচ্ছে এসব ক্লিনিক এবং ডায়গনস্টিক সেন্টার। এদের অবৈধ কর্মকান্ড বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকার শিরোনামে আসার পর এরা স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পুনরায় তাদের কর্মকান্ড চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের অনুমোদন ছাড়াই চলছে রোগী দেখা থেকে অপারেশন পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় এরা ভ’ল রিপোর্ট দিয়ে রোগীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। রোগী অন্য কোথাও পুনরিপোর্ট করালে সেটি প্রমানিত হলে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় দফারফা করা হয়। বেশ কয়েকবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও এতে স্থায়ী কোন প্রতিকার হচ্ছেনা। সূত্রে প্রকাশ,গত কয়েক বছরে এসব ভুয়া ক্লিনিক ও ডায়গনিষ্টিক সেন্টারে ব্যাবসার মূলওৎপাটন সম্ভব হচ্ছেনা কোনভাবেই। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ফয়লাহাট সুন্দরবন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রসুতির । আর এসব ক্লিনিকে যেসব ডাক্তার রোগী দেখেন তাদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কর্মরত। এতে একদিকে যেমন উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্য সেবার ব্যাঘাত ঘটছে তেমনি ডাক্তাররা বেশী নজর দিচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিকে। যদিও নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করতে গেলে আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর লাইসেন্স নেয়ার কথা থাকলেও এ নিয়মের কোন তোয়াক্কা করছে না এসব ক্লিনিকের পরিচালকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর একটি সূত্র জানায়, প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টার চালু করতে গেলে পরিবেশগত ছাড়পত্র,নারকোটিকস এর লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলেও এসবের তোয়াক্কা না করেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়া না হলে অচিরেই স্বাস্থ্য ঝুকির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপের দাবী স্থানীয়দের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ