ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 December 2018, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতের মক্কা মসজিদে হামলাকারীদের মুক্তি দেয়া বিচারক বিজেপিতে!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

২০০৭ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদের ঐতিহাসিক মক্কা মসজিদ বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ‘হিন্দু’ অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়ার পাঁচ মাস পর বিশেষ আদালতের বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিচ্ছেন।

ইতোমধ্যেই স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে তিনি বিজেপির দপ্তরে গিয়ে সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বন্ডারু দত্তাত্রেয়র সঙ্গে তিনি দেখাও করেছেন। এই খবরে হায়দ্রাবাদের রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।



বিজেপির দলীয় সূত্রগুলি জানাচ্ছে, সাবেক বিচারক রবীন্দ্র রেড্ডি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিজেপিতে যোগ দিতে পার্টি দফতরে গিয়েছিলেন। কিন্তু দলের নেতারা তাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রবীন্দ্র রেড্ডি হায়দ্রাবাদ শহরে সন্ত্রাস-তদন্তের জন্য তৈরি জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক ছিলেন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মক্কা মসজিদ বোমা মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে তিনি বেকসুর খালাসের আদেশ দেন। ওই পাঁচ জনই কোনও না কোনও ভাবে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত।

২০০৭ সালের ১৮ মে জুম্মার নামাজ চলার সময় ৪০০ বছরের পুরনো মক্কা মসজিদে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই হামলায় নয় জন মারা যান। আহত হন ৫৮ জন। ঘটনার তদন্তভার নিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো বা সিবিআই। লোকেশ শর্মা আর দেবেন্দ্র গুপ্তাসহ আরএসএস এবং কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিচারক রেড্ডি তাদের সকলকেই নিরপরাধ বলে খালাস করে দিয়েছিলেন এবং রায় ঘোষণার ঠিক পরেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

হায়দ্রাবাদ হাইকোর্ট অবশ্য তার পদত্যাগ পত্র খারিজ করে দেয়।
তারপরে তিনি ফের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি স্বেচ্ছা অবসর নেন। তখন থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল যে মক্কা মসজিদ বোমা মামলার রায় নিরপেক্ষ হয়েছিল কী না।

একদিকে মুসলিম সংগঠনগুলি যেমন কড়া সমালোচনা করেছিল ওই রায়ের, তেমনই বোমা হামলায় নিহতদের পরিবার পরিজনও বলেছিল যে তারা ন্যায় বিচার পায় নি। বিজেপি অবশ্য ওই রায়ের স্বপক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছিল যে হিন্দু সংগঠনগুলির কয়েকজন সদস্যকে ফাঁসানো হয়েছিল।

সিভিল লিবার্টিজ মনিটরিং কমিটি দাবি করেছে, রবীন্দ্র রেড্ডির দেয়া মক্কা মসজিদ মামলার পুনরায় শুনানি করা হোক। সূত্র: বিবিসি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ