ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বৈঠক প্রত্যাখ্যান ভারতের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ-ইমরান খান

২৩ সেপ্টেম্বর, এএফপি : ইসলামাবাদের সঙ্গে বিরল একটি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে হতাশাজনক ও ভারতের ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ থেকে ওই প্রস্তাব করেছিলেন বলে নয়াদিল্লি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর গতকাল এ মন্তব্য করেন ইমরান।

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সম্মেলনের মধ্যে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি বৈঠকের ব্যাপারে একমত হয়েও একদিন পর সরে আসার ঘোষণা দেয় ভারত।

নয়াদিল্লি দোষারোপ করে বলছে, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড গুলোয় ইমরানের ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ ও তার আসল চরিত্র ফুটে উঠেছে। শনিবার টুইটারে ভারতের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, ‘শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাবে ভারতের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও নেতিবাচক জবাবে আমি খুবই হতাশ। তবে আমি সারা জীবনই দেখেছি ক্ষুদ্র মনের মানুষরা বড় বড় পদ দখল করে রেখেছেন, যাদের বড় ছবি দেখার দূরদৃষ্টি নেই।’

নয়াদিল্লি বলছে, ‘পাকিস্তানভিত্তিক কোনো গোষ্ঠীর হাতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সর্বশেষ নির্মম হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি ডাকটিকিটে এক সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার চেষ্টার কারণে’ আসন্ন বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ভারত নির্দিষ্ট করে বলেনি, কোন হত্যাকাণ্ডের কথা তারা বলছে। তবে এ সপ্তাহের শুরুতে বিতর্কিত কাশ্মীর সীমান্তে এক ভারতীয় সীমান্তরক্ষীকে হত্যা করে তার মরদেহ বিকৃত করা হয়েছে।

এছাড়া শুক্রবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অপহূত হওয়ার পর তিন পুলিশ সদস্যকে মৃত পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে ভারতীয় সেনাদের হাতে নিহত কাশ্মীরি যোদ্ধা বুরহান ওয়ানিকে নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ডাকটিকিট ছেড়েছে পাকিস্তান। ওয়ানির মৃত্যুতে অঞ্চলটিতে একের পর এক সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভারত সবসময় অভিযোগ করে আসছে, কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে পাকিস্তান। উভয় দেশই হিমালয়ঘেঁষা এ ভূখণ্ডটির দাবি করে আসছে, যা নিয়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধেও জড়িয়েছে তারা।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে পাকিস্তান বলছে, ওই মৃত্যুগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপূর্ণ ও ঘৃণ্য প্রচারণা চালানোর’ অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। বৈঠক বাতিলে ভারতের পেশকৃত কারণগুলোকে ‘হঠকারী’ এবং ‘সম্পূর্ণ অবিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তান।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ সভার ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশির বৈঠকটি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত হয়েছিল। শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো ইমরান খানের একটি চিঠির পর পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা খুবই বিরল। সুষমা ও কোরেশির বৈঠকটি আয়োজিত হলে এটি হতো তিন বছরের মধ্যে উভয় দেশের শীর্ষপর্যায়ের প্রথম কোনো বৈঠক।

সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ফলে ‘এমনতর পরিবেশে পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো প্রকার সংলাপ অর্থহীন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে নয়াদিল্লির বিবৃতিতে।

জবাবে পাকিস্তান বলছে, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ডাইনামিকস পাল্টানো এবং অঞ্চলটিকে শান্তি ও উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবারো সুযোগের অপচয় করল ভারত।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলকে বলেন, তিনি বিস্মিত ও হতাশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ