ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিজেপি সভাপতির হুমকি

এনআরসি তথা জাতীয় নাগরিক তালিকা ভারতে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর আগে আমরা মিয়ানমারে লক্ষ্য করেছি নাগরিক তালিকার ছদ্মাবরণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উৎখাতের ঘটনা। ভারতের আসাম রাজ্যে ৪০ লাখ অধিবাসীকে রাষ্ট্রহীন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তৈরি করা চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকায় (এনআরসি) ওদের নাম ওঠেনি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও যাতে তার নাগরিকত্ব নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, গৃহীত ট্রাইব্যুনাল ও আইনী প্রক্রিয়ায় সে নিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু এমন বক্তব্য-বিবৃতি আতঙ্ক কমাতে পারেনি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, আসামের পর ওড়িশা ও ঝাড়খ- থেকেও এনআরসি করার ঘোষণা এসেছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এনআরসি নিয়ে তেমন কিছু বলছে না। কোন উদ্বেগও প্রকাশ করছে না। তবে তারা উদ্বিগ্ন, প্রতিবেশীসহ অন্যদের বোঝাতে চাইছে এনআরসি প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ আদালত ও আসাম রাজ্যের বিষয়। গত ৩০ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদকে বলেন, এ খসড়া তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র কোন ভূমিকা রাখেনি। অথচ এর একদিন পরই বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে সদর্পে বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের সাহস আপনাদের নেই, আমাদের আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশী অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার সাহস আপনাদের নেই।’ উল্লেখ্য যে, ১১ সেপ্টেম্বর জয়পুরে দলের এক সমাবেশে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দাবি করেন, ৪০ লাখ ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিজেপি একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ছাড় না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ বাংলাদেশ এই অনুপ্রবেশ তত্ত্বকে মোটেও স্বীকার করে না। এদিকে বিজেপি প্রধানের সুরে সুর মিলিয়ে এমএলএ রাজা সিং বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসীরা সসম্মানে দেশ না ছাড়লে তাদের গুলী করে নির্মূল করা হবে।’
ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ বিরোধী এমন অবস্থানের তাৎপর্য বোধোগম্য নয়। বাংলাদেশ তো সব সময় ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে এসেছে। মাত্র কিছুদিন আগেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে পণ্য পরিবহনে দিল্লিকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের যথাযথ জবাব কিন্তু বাংলাদেশ পায়নি। বরং এখন ৪০ লাখ মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমন হুমকিকে কি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বলে মেনে নিতে হবে বাংলাদেশকে? এই হুমকিকে সরকার ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে মোকাবিলা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ