ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানকে ২৫০ রানের টার্গেট দিল টাইগাররা

রফিকুল ইসলাম মিঞা : এশিয়া কাপের সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ২৫০ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না করলে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে করে ২৪৯ রান। দলীয় ৮৭ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারানোর পরও এটা সম্ভব হয়েছে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-ইমরুল কায়েস জুটির ১২৮ রানের উপর নির্ভর করে। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানকে করতে হবে ২৫০ রান। কাজটা কঠিন হতে পারে দলটির জন্য। ম্যাচটি দুটি দলের জন্যই সমান গুরুত্বের। কারণ এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশা টিকিয়ে রাখতে হলে জয় পেতেই হবে এই ম্যাচে। আর হারলেই ফাইনালে আশা প্রায় শেষ হয়ে যাবে পরাজিত দলটির।
গতকাল টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সাবধানেই শুরু করেন লিটন কুমার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। মাত্র ৬ রান করে আফতাব আলমের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন রহমত শাহ’র হাতে। ফলে দলীয় ১৬ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। মাত্র এক রান করে মুজিব উর রহমানের বলে এলবি আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ফলে দলীয় ১৮ রানে প্রথম দুই উইকেট হারিয়ে প্রথমে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে চাপে পড়া দলকে এগিয়ে নিতে লিটনের সাথে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিম তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ৮১ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ৬৩ রান। দলের প্রথম ফিফটি আসে এই জুটির উপর নির্ভর করেই। ওপেনার নিটনের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে লিটন ৪৩ বলে তিন চারে করেন ৪১ রান। আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ লিটন এই ম্যাচে কিছুটা ভালো রান পায়। তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে স্বস্তি এনেছিলেন লিটন কুমার দাশ ও মুশফিককুর রহিম। কিন্তু পরের তিন ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। লিটনের বিদায়ে দলের হাল ধরতে মাঠে নেমেছিলেন অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। কিন্তু সাকিব সবাইকে হতাশ করেছেন। মুশফিকের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয় সাকিবের। ফলে সরাসরি থ্রোতে সাকিবকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেন সাকিব। ফলে দলীয় ৮১ রানে আরো একটি উইকেট হারায় টাইগাররা। এখানেই শেয় নয়। দলীয় ৮৭ রানে বাংলাদেশ হারায় গুরুত্বপূর্ন মুশফিকের উইকেট। এবার ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হন মুশফিকুর রহিম নিজেই। ইমরুল কায়েসের ডাকে উইকেটের প্রায় মাঝপথে চলে যান মুশফিক। কিন্তু ইমরুল তাকে ফিরিয়ে দিলে মুশফিক আর ফিরতে পারেননি নিজের ক্রিজে। ফলে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে মুশফিক করেন ৩৩ রান। ৫২ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল মুশফিকের ইনিংসটি। তবে এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান পূরন করেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচে নামার আগে মুশফিকের প্রােয়াজন ছিল ৭ রান। ইনিংসের একাদশতম ওভারে গুলবাদিন নাইবের ওভারে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন মুশফিক। তার আগে বাংলাদেশের পক্ষে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান নিজেদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। দলীয় শতরানের আগে (৮৭ রানে) বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারালেও ৬ষ্ট উইকেটে ইমরুল কায়েস-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জুটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইমরুল কায়েস ও সবসময়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌছে যায় ২১৫ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ১২৮ রান। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। আফতাব আলম এর বলে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে ৮১ বলে তিন চার আর দুই ছক্কায় রিয়াদ করেন ৭৪ রান। এর আগে রিয়াদ ৫৯ বলে তিন চারে ফিফটি রান পূর্ণ করেন। রিয়াদ আউট হলেও ইমরুল কায়েস শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে মিরাজকে নিয়ে দলকে পৌঁছে দেন ২৪৯ রানে। ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাশরাফি আউট হন ১০ রানে। ইমরুল কায়েস ৭৭ বলে তিন চারে ফিফটি করার পর ৮৯ বলে ছয় চারে ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। আফগানিস্তানের পক্ষে আফতাব আলম ৩টি, রশিদ খান ১টি ও মুজিব উর রহমান ১টি করে উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ