ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারি যানবাহন ব্যবহার করে আ’লীগ সম্পাদকের নির্বাচনী প্রচারণা ‘বেআইনি’

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি যানবাহন ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রমকে ‘বেআইনি’ বলেছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ট্রেন মার্চ ব্যর্থ হয়েছে জনগনেণর ক্ষোভের মুখে।  এখন রোড মার্চ। দেশবাসী দেখেছে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে উনি (ওবায়দুল কাদের) নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।  নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে কী সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে দলীয় প্রচার-প্রচারণায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বক্তব্য রাখতে পারেন? পারেন না, এটা বেআইনি। তিনি বলেন, হবু চন্দ্র রাজার দেশে এই গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা না আইন মানে, না কানুন মানে, না কিছু মানে। ওরা মনে করে এটা তাদের জমিদারি। সরকারি গাড়ি এটা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে। কারণ তাদেরকে তো জবাবদিহি করতে হয় না।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, হারুনুর রশীদ, আবেদ রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষমতাসীন দল জনগণকে তোয়াক্কা করে না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আইন-আদালত তাদের করায়াত্তে, দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের করায়াত্তে। এই কারণে ওবায়দুল কাদের সাহেব নির্বাচনী প্রচারণার গান গাইতে শুরু করেছে। জনগণকে তারা থোড়াই তোয়াক্কা করেন।  আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এরকম পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না, এই অনাচার আর চলতে দেয়া যায় না। এই বেআইনি কর্মকান্ডের অবসানের জন্য এখন এদেশের মানুষ ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো একত্রীভুত হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য সকলেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ড. কামাল হোসেন ও একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির যুক্ত হওয়া সাম্প্রদায়িক ঐক্য বলেছেন ওবায়দুল কাদের, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কান্ডজ্ঞান হারিয়ে গেলে যা হয়। বিবেক হারিয়েছেন, কান্ডজ্ঞান হারিয়েছেন। সেজন্য এক একদিন একেক রকম কথা বলছেন। আপনারা (আওয়ামী লীগ) কাকে সাম্প্রদায়িক বলছেন? এটা সুস্পষ্টভাবে বলা উচিত। আপনারা চুক্তি করেননি হুজুরদের সাথে। তখন সাম্প্রদায়িকতা কোথায় ছিলো? জামায়াতে ইসলামীর সাথে একসাথে আন্দোলন করেননি। এসব ভুলে যান কেনো?
তিনি বলেন, উনি (ওবায়দুল কাদের) বলছেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া ঐক্য । তারা তো আগেই জনগণকে ছেড়েছে, জাতিকে ছেড়েছে। যারা জাতি ও জনগণকে ত্যাজ্য করে তাদের সাথে আর ঐক্যের কী আছে? তাদের সাথে ঐক্যেরই দরকার হয় তাহলে যে কাজগুলো করলে তাদের সাথে ঐক্য করা যায় সেই কাজগুলো উনারা করুন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করুন, সংসদ ভেঙে দিন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন- তাহলে বুঝবো যে, আপনাদের বোধোদয় হয়েছে। তখন না হয় বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।
সারাদেশে ‘ভৌতিক মামলা’ প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, গত ৩/৪ দিনে রাজধানীর ২টি থানায় ৭টি মামলায় দলের আইনজীবীসহ প্রায় ১৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে, বরগুনার পাথরঘাটায় ৪০জনের বিরুদ্ধে নাশকতার বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ১৬ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে গত দুই দিনে মামলা দেয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন লাখ ২৫ হাজার নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দেয়া হয়েছে। গায়েবী মামলার ছড়াছড়িতে সারাদেশে বিরাজ করছে এক আতঙ্কের পরিবেশ। মামলার ব্যাপক বিস্তারে সরকার যেন জনগণের ওপর প্রেতাত্মাসূলভ আচরণ করছে। মূলত এইদেশে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বরকত নেই, আছে শুধু মিথ্যা মামলার বরকত। বিরোধী মত ও শক্তিকে কষ্ট দেয়া, জুলুম করা আওয়ামী লীগের স্বধর্ম।
২১ আগস্ট একটি প্রহেলিকা মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে তারেক রহমানকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ২১শে আগস্ট বোমা হামলার পুরো বিষয়টাই একটি প্রহেলিকা। আওয়ামী রাজনীতির কুটিল পাটিগণিত। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার দেশীয় ও বৈদেশিক চক্রান্তের বিপজ্জনক ব্লুপ্রিন্ট। তিনি বলেন, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় সরকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আইন আদালতকে। কারণ আইন আদালত এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতের মুঠোয়।
রিজভী বলেন, চুক্তিভিত্তিক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দ কর্তৃক তথাকথিত নিখুঁত ও গভীর তদন্ত কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সরকারি অনেক দলিল দস্তাবেজ হয় গায়েব অথবা সৃজন পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন- বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরেও তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘কেন পুলিশকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে সভাস্থল পরিবর্তন করা হলো, সে বিষয়ে কে বা কারা সম্পৃক্ত’ (অর্থাৎ মুক্তাঙ্গন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)-এই মূল্যবান তথ্যটি উদঘাটনের ক্ষেত্রে তিনি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেননি। বরং এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেই তিনি ক্ষেপে যেতেন বলে শোনা যায়। কাহার আকন্দের দাখিলকৃত চার্জশিটের বর্ণনানুযায়ী দেখা যায় যে, হাওয়া ভবনে তথাকথিত ষড়যন্ত্রমূলক সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যতজন (৮/১০ জন) সাক্ষীকে তিনি ভয় দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছেন। তাদের একজনও কত তারিখে সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। কারণ ‘এত বড় বড় পদের মানুষদের সাথে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা’ সেই সভার তারিখ কেউ মনে রাখতে পারবে না-এটা রীতিমতো বিস্ময়কর ঘটনা।
আইন আদালত এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতের মুঠোয় মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য করার পর সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থে এসকে সিনহা সাহেব এর প্রতি সরকারের আচরণের যে ঘটনাগুলো বেরিয়ে আসছে তাতে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই সাবেক প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। আর এটি করতে গিয়ে বিশ্বদরবারে শেখ হাসিনা কলঙ্কিত হয়েছেন। এই ঘটনা বিচার বিভাগের ওপর ব্যক্তি শেখ হাসিনার ভয়ঙ্কর আক্রমণ। বিচার বিভাগের ওপর আধিপত্য বিস্তারই এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য। জোর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বিতাড়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন সম্রাজ্ঞীতে পরিণত হয়েছেন। সর্বশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দিতে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের মুখোশটুকু ছুঁড়ে ফেলে গণতন্ত্রের শেষ চিহ্ন মুছে দিয়েছেন। ফলে সম্রাজ্ঞী’র শাসন এখন পুরোদমে চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ