ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারকে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হবে -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ন্যূনতম দাবির ভিত্তিতে আগামীতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠতে যাচ্ছে। যে আন্দোলনের মুখে বর্তমান সরকারকে শুধু পদত্যাগ নয়, লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হবে। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে রক্ষা করার জন্য দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা দরকার। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের নেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে গেছেন একটি নির্দলীয় সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের লক্ষ্যে আন্দোলনের জন্য। তিনি বলে গেছেন, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, ইভিএম বাতিল এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এসব দাবিতেই দেশের অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি একই দাবিতে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের দল সেখানে অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমাদের ২০ দল একটা জোট করেছে, বাম দলের একটা জোটের প্রতিনিধিরা সেখানে অংশ নিয়েছেন। সবার এ অংশগ্রহণে প্রমাণিত হয়, আগামী দিনে এসব ন্যূনতম দাবির ভিত্তিতে একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠতে যাচ্ছে। যে আন্দোলনের মুখে এই সরকারকে শুধু পদত্যাগ নয়, পিনাক চক্রবর্তীর ভাষায় লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হবে।
সাবেক এই শ্রমিক নেতা বলেন, বিএনপি কারো শত্রু নয়, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমরা কেউ কারো শত্রু নই। আমরা আওয়ামী লীগকে আমাদের শত্রু মনে করি না। তারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমরা তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য আচরণের বিরোধিতা করি। নির্বাচনের সময় তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করব, তাদের হারানোর চেষ্টা করব। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের আচরণ শত্রুতাপূর্ণ হওয়ার কারণ নাই। কিন্তু আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে, এ আচরণ শত্রুতামূলক, অমানবিক। সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁরা যে শপথ করেছিলেন তার পরিপন্থী। জনগণের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে থাকার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় আজ কারাবরণ করতে হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিচারের রায় হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগ নেতারা বেগম জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন- এমন মন্তব্য করেছেন। এটা কি আইনি অপরাধ না? কিন্তু বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে?
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছে। কারণটা কী? কারণ, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, দল ক্ষমতায় না থাকলে দলের নেতাকর্মীদের হাজার পাওয়ারের বাল্ব দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটাই বাস্তবতা। আগের ইতিহাসও তাই। ১৯৭৫ সালের পরও তাদের খুঁজে পাওয়া যায় নাই। এখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, দুর্নীতি, অনাচার, অপরাধ করে তারা মানসিকভাবে এতই দুর্বল যে সব কিছুতেই ভয় পাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়া যে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন, সেটাতে তিনি জামিন পেয়েছেন। অন্যান্য মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। দুটি মামলা আটকে রাখা হয়েছে। ওই দুই মামলায় সব আসামি জামিনে আছেন; কিন্তু খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া যাবে না। ভয়, যে খালেদা জিয়া বের হয়ে এলে তাঁর প্রতি জনগণের সহানুভূতি, জনপ্রিয়তা যত বেড়েছে, তার সামনে সরকার দাঁড়াতে পারবে না সেই ভয়ে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী আজ গৃহহীন। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যারা মৃত তাদের বিরুদ্ধে পর্যন্ত মামলা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের পরিবারের পিতা-মাতাকে পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
সরকার উৎখাতে আন্দোলন শুরু করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এই অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং এই সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান মনে করিয়ে দেন যে, মন্ত্রী হলে শপথ নিতে হয় যে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে আমি কোনো কিছু করব না। কিন্তু আওয়ামী লীগ হিংসার বশবর্তী হয়ে চিকিৎসা না দিয়ে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মূল মামলায় জামিন হওয়ার পরও মুক্তি দিচ্ছে না।
এমআরআই করা ছাড়া কোনও চিকিৎসকের পক্ষে খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না, এমন দাবি করে তিনি বলেন, পাঁচ জন চিকিৎসক দিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হলো। তার মধ্যে তিন জন প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকারের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড রিপোর্ট দিলো, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খুব বেশি অবনতি হয়নি। তবে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে পিজিতে তার চিকিৎসা করা যেতে পারে। খালেদা জিয়ার এমআরআই করা দরকার, আর সেটার জন্য যে-ই মেশিন দরকার, সেটা অ্যাপোলো এবং ইউনাইটেডে আছে। কিন্তু তারা তাকে সেখানে নিচ্ছে না। এই এমআরআই করা ছাড়া কোনও চিকিৎসকের পক্ষে তাকে (খালেদা জিয়াকে) সুচিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না।
নজরুল ইসলাম বলেন, বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁকে যদি এখন সুচিকিৎসা না দেয়া হয় তাহলে তাঁর প্যারালাইজড সহ চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা বার বার সরকারের কাছে তাঁর চিকিৎসার কথা বলা সত্বেও সরকার এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে নজরুল বলেন, সরকার এই আইন পাস করেছে কারণ সাংবাদিকরা যাতে সত্য কোনো নিউজ প্রকাশ করতে না পারে। সরকারের বিরুদ্ধে যেন না লিখতে পারে। সাংবাদিক নেতারা এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির বরাবর অভিযোগ করেছে যেন এই আইনে রাষ্ট্রপতি সিগনেচার না করে। আমরা সাংবাদিক নেতাদের এই দাবির পূর্ণ সমর্থন জানাই।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহম্মেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ