ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

একাদশ জাতীয় নির্বাচন করবেন যেসব সাবেক আমলা

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রায় এক ডজন আমলা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর আমলাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতেই এবার গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদে সংশোধন হচ্ছে। এ সম্পর্কিত সংশোধনীর বিষয়ে আগামী ১৪ মে নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে আলোচনা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর পার করার বিধানটি বিলোপ করার প্রস্তাব নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু করেছে নিবাচন কমিশন। নির্বাচনে আমলারা আসন্ন জাতীয় সংসদের ১১তম সাধারণ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন সাবেক আমলা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে বিভিন্ন দলের হয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী আমলাদের সংখ্যাই বেশি। এরপরই রয়েছে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করতে আগ্রহী আমলারা।
 ভোটের আগে দল বদলের পথ খুলে দেয়ার পর এবার আমলাদের ভোটে দাঁড়ানোর পথ সহজ করতেই এ তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন সাবেক আমলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। তার আগে আইন সংস্কারসহ নানা বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কমিশনের বিদ্যমান ‘দ্য রিপ্রেজেনটেশন অব পিপলস অর্ডার’ বা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে কেউ কোনও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন না। কাজেই আরপিও অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে কমপক্ষে তিন বছর আগে অবসর নিয়েছেন, এমন আমলারাই এ বছরের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নির্বাচনে যেসব আমলা অংশ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, আমলা না হলেও জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি একেএ মোমেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, সাবেক সচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নূর মোহাম্মদ, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, সাবেক সচিব ও নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, সাবেক কেবিনেট সচিব আবদুল হালিম, সাবেক সচিব হুমায়ুন কবীর, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার শাহাবুদ্দিন চুপ্পু, সাবেক সচিব সুজা উদ দৌলা এবং সাবেক সচিব এনএম নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই তালিকা আরও লম্বা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আরও যেসব সরকারি আমলা আগামী এককাদশ সংসদে নির্বাচন করার জন্য সরকারি দলে যোগাযোগ করছেন তারা হলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হুমায়ন খালিদ,সাবেক স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব আমির হোসেন, সাবেক কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ, সমাজকল্যাণ সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদসহ আরো বেশ কয়েকজন সশস্ত্রবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। সৎ, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান হিসেবে পরিচিত ড. ফরাস উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও আস্থাভাজন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী চান তিনি তার নির্বাচনি এলাকা হবিগঞ্জের একটি আসন থেকে নির্বাচন করুন।
বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই এএমএ মোমেন। সরাসরি আমলা নন তিনি, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন একসময়। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর আসন (সিলেট-১) থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী তিনি। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তার আসন থেকেই যেন এএমএ মোমেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান, সেজন্য চেষ্টা করবেন তিনি। এজন্য ইতোমধ্যেই এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন মোমেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন একসময় ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। জানা গেছে, তিনি তার জন্মস্থান চাঁদপুরের কচুয়া আসন থেকে নির্বাচনে আগ্রহী। ইতোমধ্যেই তিনি নিজ এলাকায় স্কুল-কলেজসহ নানা ধরনের উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনে আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে গোলাম হোসেন বলেন, আশা করছি আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিলে এলাকার সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবো।’
পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগের টিকিটে নিজ এলাকা কিশোরঞ্জ থেকে প্রার্থী হতে চান। সে লক্ষ্যে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি শোডাউনও করছেন। দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থান করছেন। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর তিনি রাজনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে কতটা যুক্ত হতে পারবেন, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তিনি অনাগ্রহী হলে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান নূর মোহাম্মদ।
সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন নিজ জেলা ফরিদপুরের একটি আসন থেকে নির্বচন করতে আগ্রহী। তিনিও নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে চান। মনজুর হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিলে জয়ী হবো।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লার চান্দিনা আসন থেকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী। ইতোমধ্যেই নিজ এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন তিনি। দীর্ঘ চাকরি জীবনে একজন চিকিৎসক হিসেবে এলাকার বহু মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার শাহাবুদ্দিন চুপ্পু টাঙ্গাইলের একটি আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি কিছু সময়ের জন্য দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
একইভাবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন সিলেটের একটি আসন থেকে, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান রংপুর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ছহুল হোসাইন নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনের আগে সরকারের সচিব ছিলেন।
এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হলেন সাবেক কেবিনেট সচিব আবদুল হালিম। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামালপুরে ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবদুল হালিম বলেন, ‘এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। দলের কর্মকা-ের সঙ্গে নিজেকে জড়িত রেখেছি। বিএনপির মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।’
সাবেক সচিব সুজা উদ দৌলা, হুমায়ুন কবীর, এনএম নিয়াজউদ্দিন মিয়াও আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। তবে তারা কোন দলের হয়ে নির্বাচনে আগ্রহী তা জানা যায়নি। সূত্র জানায়, তারা কেউই এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশিত দল থেকে মনোনয়নের ব্যাপারে নিশ্চয়তা পাননি। কিন্তু নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন কর্মকা-ের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন কৌশলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ